১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

তনু হত্যা: ২ সন্দেহভাজন ছেড়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৮:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৯
  • 358

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়৷ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টের সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ এরইমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন৷

তনুকে হত্যার পর তিন বছরে কেউ গ্রেফতার না হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশা করছেন যেকোনো সময় কিছু একটা পেয়ে যাবেন৷ বুধবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় জার্মানি ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়৷ রাত ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়৷ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের অফিস সহায়ক৷ তিনি সপরিবারে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসায়ই থাকেন৷

মামলার এজহারে তখন কাউকে আসামি করা না হলেও তনুর বাবা ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা দু’জনকে সন্দেহ করি বলে সিআইডিকে বারবার জানিয়েছি৷ আমি মনে করি তারা এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানেন৷ তারা হলেন সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায়ই সর্বশেষ আমার মেয়ে ছিলো৷ তার ছেলেকে পড়াতে গিয়েছিল৷ এরপর থেকে আমার মেয়ে নিখোঁজ এবং রাতে লাশ পাওয়া যায়৷ তাহলে আমরা আর কার কথা বলব! সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়াতে যায়৷’

তিনি সন্দেহের আরো কারণ হিসেবে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দু’জন কোনো খোঁজ নেয়নি৷ এমনকি লাশ পাওয়ার পরও তারা আসেনি৷ তারা আমাদের সাথে আর দেখাও করেনি৷’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘গত একবছর ধরে সিআইডি মামলার ব্যাপারে আমাদের সাথে কোনো কথা বলেনি৷ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি৷ আর ওই দু’জন সন্দেহভাজন এখন আর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নেই তারা ঢাকায় বদলি হয়ে গেছেন৷ তাদের জিজ্ঞাসাবদ করা হয়েছে কিনা আমি জানিনা৷ তবে আমাদের পরিবারের আত্মীয়- স্বজনসহ ১০-১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷’’

সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা: যে কোনো সময় একটা কিছু পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ

মামলার তদন্ত সংস্থা কুমিল্লা সিআইডি বলছে, তারা এপর্যন্ত সামরিক বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় দুইশ’ লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ আর সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে ৷

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এডিশনাল এসপি জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের মধ্যে প্রায় একশ’ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছে ৷ তবে কোনো ক্লু পেয়েছি কিনা তা এখনো বলা যাবে না৷ আমরা ডিএনএ রিপের্টের জন্য অপেক্ষা করছি৷ আমার যেসব আলামত জব্দ করেছি তার কিছু ফরেনসিক রিপোর্টও আমরা এখনো পাইনি৷ তার(তনু) মোবাইল ফোন থেকে আমরা প্রায় সাড়ে চার হাজার কললিস্টের তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছি৷ এগুলো করতে সময় লাগে৷ আমরা যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের আবার শর্টলিস্ট করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷’’

সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘নিহত হওয়ার আগে এই দুইজনের বাসায়ই তনু সর্বশেষ গিয়েছেন৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা বা সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছিলো৷ এখান থেকেই সে নিখোঁজ হয়৷ আর সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে সিপাহি জাহিদের বাসায় যায়৷ দু’টি বাসা মুখোমুখি৷ সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়িয়ে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যায়৷ সেখান থেকে সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর তনুর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ এরপর রাত ১১টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়৷’’

সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ ঢাকায় বদলি হয়ে হয়ে গেছেন বলে জানান তিনি৷

ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সন্দেহ করার মত কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা তারা জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সেটা এভাবে টেলিফোনে বলা যাবে না৷ আমরা আশা ছেড়ে দেইনি৷ যে কোনো সময় একটা কিছু পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ৷’’

এদিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলো কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চ৷ এর আহ্বায়ক খায়রুল আনাম রায়হান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সিআইডির কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে গেলে তারা আমাদের সাথে দেখা করেন না৷ আর তারা যাদের ডিএনএ টেস্টের কথা বলছেন তাদের মধ্যে কুমিল্লার কয়েকজন থিয়েটারকর্মীও আছেন যারা তনুর সাথে কাজ করত৷ এদিক সংস্থাটি তনুর পরিবারের সদস্যদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে৷’’

এদিকে কাদের ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে সে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সিআইডি৷

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

তনু হত্যা: ২ সন্দেহভাজন ছেড়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট

প্রকাশিত : ০৮:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৯

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়৷ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টের সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ এরইমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন৷

তনুকে হত্যার পর তিন বছরে কেউ গ্রেফতার না হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশা করছেন যেকোনো সময় কিছু একটা পেয়ে যাবেন৷ বুধবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় জার্মানি ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়৷ রাত ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়৷ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের অফিস সহায়ক৷ তিনি সপরিবারে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসায়ই থাকেন৷

মামলার এজহারে তখন কাউকে আসামি করা না হলেও তনুর বাবা ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা দু’জনকে সন্দেহ করি বলে সিআইডিকে বারবার জানিয়েছি৷ আমি মনে করি তারা এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানেন৷ তারা হলেন সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায়ই সর্বশেষ আমার মেয়ে ছিলো৷ তার ছেলেকে পড়াতে গিয়েছিল৷ এরপর থেকে আমার মেয়ে নিখোঁজ এবং রাতে লাশ পাওয়া যায়৷ তাহলে আমরা আর কার কথা বলব! সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়াতে যায়৷’

তিনি সন্দেহের আরো কারণ হিসেবে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দু’জন কোনো খোঁজ নেয়নি৷ এমনকি লাশ পাওয়ার পরও তারা আসেনি৷ তারা আমাদের সাথে আর দেখাও করেনি৷’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘গত একবছর ধরে সিআইডি মামলার ব্যাপারে আমাদের সাথে কোনো কথা বলেনি৷ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি৷ আর ওই দু’জন সন্দেহভাজন এখন আর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নেই তারা ঢাকায় বদলি হয়ে গেছেন৷ তাদের জিজ্ঞাসাবদ করা হয়েছে কিনা আমি জানিনা৷ তবে আমাদের পরিবারের আত্মীয়- স্বজনসহ ১০-১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷’’

সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা: যে কোনো সময় একটা কিছু পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ

মামলার তদন্ত সংস্থা কুমিল্লা সিআইডি বলছে, তারা এপর্যন্ত সামরিক বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় দুইশ’ লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ আর সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে ৷

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এডিশনাল এসপি জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের মধ্যে প্রায় একশ’ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছে ৷ তবে কোনো ক্লু পেয়েছি কিনা তা এখনো বলা যাবে না৷ আমরা ডিএনএ রিপের্টের জন্য অপেক্ষা করছি৷ আমার যেসব আলামত জব্দ করেছি তার কিছু ফরেনসিক রিপোর্টও আমরা এখনো পাইনি৷ তার(তনু) মোবাইল ফোন থেকে আমরা প্রায় সাড়ে চার হাজার কললিস্টের তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছি৷ এগুলো করতে সময় লাগে৷ আমরা যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তাদের আবার শর্টলিস্ট করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷’’

সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘নিহত হওয়ার আগে এই দুইজনের বাসায়ই তনু সর্বশেষ গিয়েছেন৷ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা বা সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছিলো৷ এখান থেকেই সে নিখোঁজ হয়৷ আর সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যাওয়ার আগে সে সিপাহি জাহিদের বাসায় যায়৷ দু’টি বাসা মুখোমুখি৷ সিপাহি জাহিদের বাসায় পড়িয়ে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় যায়৷ সেখান থেকে সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর তনুর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ এরপর রাত ১১টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়৷’’

সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ ঢাকায় বদলি হয়ে হয়ে গেছেন বলে জানান তিনি৷

ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সন্দেহ করার মত কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা তারা জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সেটা এভাবে টেলিফোনে বলা যাবে না৷ আমরা আশা ছেড়ে দেইনি৷ যে কোনো সময় একটা কিছু পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ৷’’

এদিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলো কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চ৷ এর আহ্বায়ক খায়রুল আনাম রায়হান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সিআইডির কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে গেলে তারা আমাদের সাথে দেখা করেন না৷ আর তারা যাদের ডিএনএ টেস্টের কথা বলছেন তাদের মধ্যে কুমিল্লার কয়েকজন থিয়েটারকর্মীও আছেন যারা তনুর সাথে কাজ করত৷ এদিক সংস্থাটি তনুর পরিবারের সদস্যদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে৷’’

এদিকে কাদের ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে সে তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সিআইডি৷

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ