১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

তথ্য প্রযুক্তিতে রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

আইসিটি মন্ত্রণালয় তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এখন প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সাথে সম্প্রতি এ কথাগুলো বলছিলেন আব্দুল মোনেম লিমিটেড-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এবং সার্ভিসইঞ্জিন বিপিওর চেয়ারম্যান এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম। কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে বিশেষ অবদান রাখায় চলতি বছর সিআইপি সম্মাননা পেয়েছেন সফল ও আত্মবিশ্বাসী তারুণ্য উদ্যোক্তা এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম। এ নিয়ে বাণিজ্য রপ্তানিতে টানা পাঁচবার সিআইপি’র স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও টানা চতুর্থবারের মতো দেশের অন্যতম কর অঞ্চল কুমিল্লার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সিআইপি (রপ্তানি) মনোনীত করে। এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম শুধু সিআইপি’ই নন, তিনি একাধারে জাতীয় রপ্তানিতে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত, বাংলাদেশ-চেক রিপাবলিক-এর সম্মানসূচক দূত এবং আব্দুল মোনেম লিমিটেড এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দেশে-বিদেশে ব্যবসা-বানিজ্য প্রসার এবং ভোক্তার চাহিদা মেটাতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। মহিউদ্দিন মোনেম পরিচালনাধীন ঢাকা ভিত্তিক বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও টানা তৃতীয়বারের মত ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ আউটসোর্সিং প্রফেসনালস বা আইএওপি-এর বিশ্বের সেরা ১শ’ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক গ্রুপ আবদুল মোনেম লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও ‘দি গ্লোবাল আউটসোর্সিং ১০০’ তালিকায় ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে স্থান করে নেয়া একমাত্র বাংলাদেশী কোম্পানি যেটি ২০১৪ সাল থেকে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।

image004

মহিউদ্দিন মোনেম আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এটি শুধুমাত্র দেশের অর্জন নয়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সকল পেশাজীবী ও বাংলাদেশীদের জন্যও একটি বড় স্বীকৃতি। আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে দেশের জন্য এ অর্জন এক বিরল সুনাম। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও বিশ্বের সেরা ১শ’ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশকে অন্যতম একটি সেরা আউটসোর্সিং সেবা প্রদানকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইটি আউটসোর্সিং অনুঘটক হিসেবে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে এবং এ খাতকে আরো প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার জন্য যে পূর্বশর্ত প্রয়োজন তা হল যথাযথ মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিকল্প বিপিও হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নগদ রপ্তানি সহায়তা প্রদান করা।

তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতের এ অভিজাত তালিকায় উঠে আসার ক্ষেত্রে সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র যে বিষয়গুলো কাজ করেছে তা হল এর দ্রুত প্রবৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চমৎকার গ্রাহক সুপারিশ। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র ভবিষ্যত পরিকল্পনা হল বাংলাদেশের ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে আরো অফিস স্থাপন করা। দেশের আইটি খাতের প্রতিভাবানদের যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরো সম”দ্ধ করা।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণ ও ‘ভিশন-২০২১; ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্জনে তথ্য-প্রযুক্তি সহায়ক সেবার বিকাশের ফলেই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে-ব্যাক অফিস প্রসেসিং, ডিজিটাল এডভার্টাইজিং অপারেশন, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এগ্রেগেসন এন্ড এনালাইসিস, কোয়ালিটি এস্যুরেন্স এবং টেস্টিং ও কল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স যা তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির জন্য করা হয়।

সফল এ ব্যবসায়ী বলেন, তার উদ্যোগের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাওয়া স্বীকৃতি কাজের প্রতি তার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি তথ্য-প্রযুক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক তথা শিল্প কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা (বাংলাদেশ) সফল হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও আমরা নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবো।”

তিনি বলেন, সে লক্ষ্য আর্জনে পরবর্তী প্রজন্মকে সেভাবেই প্রস্থত হতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রকে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রনোদনাসহ নানা বানিজ্য সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, ২০০৬ সালে মাত্র ৬ জন নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া সার্ভিসইঞ্জিনবিপিওতে বর্তমানে ৫০০’রও অধিক প্রতিভাবান তরুণ কর্মরত আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে “সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও”কে অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং-এ ভারতসহ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত আউটসোর্সিং ব্যবসার পাশাপাশি স্থান করে নিতে পারবে প্রথমাবস্থায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আস্থা স্থাপন করতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমি আমার মনোবলে অটুট ছিলাম। সে মনোবল এবং প্রথমাবস্থায় সীমিত জনবল ও লজিষ্টিক সাপোর্টেই আমরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেই এবং তাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হই। পরবর্তীতে আমরা আরো সক্ষমতা অর্জন করি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাজে সাফল্য অর্জন করতে থাকি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিভাবান তরুণদের মূল সেবা মন্ত্র হচ্ছে ‘উত্তম জনবল, উত্তম সেবা ও উত্তম ফলাফল’। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর জনবলের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ ও শিক্ষিত নারী। মূল ব্যবসার পাশাপাশি সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও এর প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা, পুষ্টি, পরিবেশ ও কল্যাণমূলক খাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির খাতসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি মহিউদ্দিন মোনেম ইতোমধ্যে ‘প্রেসিডেন্ট পুরস্কার’, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘জাতীয় রপ্তানি স্বর্ণ ট্রফি’ এবং ‘সর্বোচ্চ করদাতা পুরস্কার’ লাভ করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

তথ্য প্রযুক্তিতে রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

প্রকাশিত : ০৯:০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

আইসিটি মন্ত্রণালয় তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এখন প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সাথে সম্প্রতি এ কথাগুলো বলছিলেন আব্দুল মোনেম লিমিটেড-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এবং সার্ভিসইঞ্জিন বিপিওর চেয়ারম্যান এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম। কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে বিশেষ অবদান রাখায় চলতি বছর সিআইপি সম্মাননা পেয়েছেন সফল ও আত্মবিশ্বাসী তারুণ্য উদ্যোক্তা এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম। এ নিয়ে বাণিজ্য রপ্তানিতে টানা পাঁচবার সিআইপি’র স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও টানা চতুর্থবারের মতো দেশের অন্যতম কর অঞ্চল কুমিল্লার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সিআইপি (রপ্তানি) মনোনীত করে। এ.এস.এম মহিউদ্দিন মোনেম শুধু সিআইপি’ই নন, তিনি একাধারে জাতীয় রপ্তানিতে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত, বাংলাদেশ-চেক রিপাবলিক-এর সম্মানসূচক দূত এবং আব্দুল মোনেম লিমিটেড এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দেশে-বিদেশে ব্যবসা-বানিজ্য প্রসার এবং ভোক্তার চাহিদা মেটাতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। মহিউদ্দিন মোনেম পরিচালনাধীন ঢাকা ভিত্তিক বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও টানা তৃতীয়বারের মত ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ আউটসোর্সিং প্রফেসনালস বা আইএওপি-এর বিশ্বের সেরা ১শ’ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক গ্রুপ আবদুল মোনেম লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও ‘দি গ্লোবাল আউটসোর্সিং ১০০’ তালিকায় ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে স্থান করে নেয়া একমাত্র বাংলাদেশী কোম্পানি যেটি ২০১৪ সাল থেকে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।

image004

মহিউদ্দিন মোনেম আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এটি শুধুমাত্র দেশের অর্জন নয়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সকল পেশাজীবী ও বাংলাদেশীদের জন্যও একটি বড় স্বীকৃতি। আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে দেশের জন্য এ অর্জন এক বিরল সুনাম। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও বিশ্বের সেরা ১শ’ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশকে অন্যতম একটি সেরা আউটসোর্সিং সেবা প্রদানকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইটি আউটসোর্সিং অনুঘটক হিসেবে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে এবং এ খাতকে আরো প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার জন্য যে পূর্বশর্ত প্রয়োজন তা হল যথাযথ মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিকল্প বিপিও হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নগদ রপ্তানি সহায়তা প্রদান করা।

তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতের এ অভিজাত তালিকায় উঠে আসার ক্ষেত্রে সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র যে বিষয়গুলো কাজ করেছে তা হল এর দ্রুত প্রবৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চমৎকার গ্রাহক সুপারিশ। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র ভবিষ্যত পরিকল্পনা হল বাংলাদেশের ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে আরো অফিস স্থাপন করা। দেশের আইটি খাতের প্রতিভাবানদের যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরো সম”দ্ধ করা।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণ ও ‘ভিশন-২০২১; ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্জনে তথ্য-প্রযুক্তি সহায়ক সেবার বিকাশের ফলেই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে-ব্যাক অফিস প্রসেসিং, ডিজিটাল এডভার্টাইজিং অপারেশন, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এগ্রেগেসন এন্ড এনালাইসিস, কোয়ালিটি এস্যুরেন্স এবং টেস্টিং ও কল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স যা তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির জন্য করা হয়।

সফল এ ব্যবসায়ী বলেন, তার উদ্যোগের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাওয়া স্বীকৃতি কাজের প্রতি তার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি তথ্য-প্রযুক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক তথা শিল্প কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা (বাংলাদেশ) সফল হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও আমরা নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবো।”

তিনি বলেন, সে লক্ষ্য আর্জনে পরবর্তী প্রজন্মকে সেভাবেই প্রস্থত হতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রকে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রনোদনাসহ নানা বানিজ্য সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, ২০০৬ সালে মাত্র ৬ জন নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া সার্ভিসইঞ্জিনবিপিওতে বর্তমানে ৫০০’রও অধিক প্রতিভাবান তরুণ কর্মরত আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে “সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও”কে অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং-এ ভারতসহ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত আউটসোর্সিং ব্যবসার পাশাপাশি স্থান করে নিতে পারবে প্রথমাবস্থায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আস্থা স্থাপন করতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমি আমার মনোবলে অটুট ছিলাম। সে মনোবল এবং প্রথমাবস্থায় সীমিত জনবল ও লজিষ্টিক সাপোর্টেই আমরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেই এবং তাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হই। পরবর্তীতে আমরা আরো সক্ষমতা অর্জন করি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাজে সাফল্য অর্জন করতে থাকি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিভাবান তরুণদের মূল সেবা মন্ত্র হচ্ছে ‘উত্তম জনবল, উত্তম সেবা ও উত্তম ফলাফল’। সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর জনবলের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ ও শিক্ষিত নারী। মূল ব্যবসার পাশাপাশি সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও এর প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা, পুষ্টি, পরিবেশ ও কল্যাণমূলক খাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও’র মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির খাতসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি মহিউদ্দিন মোনেম ইতোমধ্যে ‘প্রেসিডেন্ট পুরস্কার’, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘জাতীয় রপ্তানি স্বর্ণ ট্রফি’ এবং ‘সর্বোচ্চ করদাতা পুরস্কার’ লাভ করেছেন।