০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রপ্তানির অর্ধেক আয় পাঁচ পোশাকে

ছেলে ও মেয়েদের শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও সোয়েটার থেকে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানির ৬১ শতাংশ অর্থ আসে। আবার পোশাকশিল্পের রপ্তানির ৭৩ শতাংশই এই পাঁচ পণ্যের দখলে। সব মিলিয়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটাই পাঁচটি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল।

সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক খাতের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলার।

এই রপ্তানির ৭২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার এসেছে শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি–শার্ট ও সোয়েটার রপ্তানি থেকে।

দেশে সস্তা পণ্যের পাশাপাশি বেশি দামের বা ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য যেমন স্যুট, ব্লেজার, অন্তর্বাস, সাঁতারের পোশাক উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে সেটি এখনো বড় আকার ধারণ করেনি।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানির ৭৮ শতাংশ শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি–শার্ট ও সোয়েটার থেকে এসেছিল। গত পাঁচ বছর পর সেটি কিছুটা কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে।

পোশাকশিল্পের কয়েকজন উদ্যোক্তা বলছেন, বিদেশিরা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই বাংলাদেশে পোশাকশিল্প বেড়ে উঠেছে।  তার মানে, সস্তা পোশাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন দেশের উদ্যোক্তারা। তবে গত কয়েক বছরে শ্রমের মজুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাতে সস্তা পোশাক উৎপাদনকারীরা চাপে পড়েছেন।

তাঁদের মুনাফাও কমেছে। ভবিষ্যতে পোশাক রপ্তানিকে টেকসই করতে হলে প্রধান পাঁচ পণ্যের পাশাপাশি বেশি দামের পোশাক তৈরির দিকেও যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে চীনাদের আকৃষ্ট করতে হবে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, পাঁচ পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় টি-শার্ট। গত অর্থবছরে ৭০১ কোটি ডলারের বা ৫৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে। সেই হিসাবে টি-শার্টে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৬১ শতাংশই শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও সোয়েটারের দখলে শুধু পোশাক রপ্তানির মধ্যে সেটি ৭৩ শতাংশ

টি-শার্টের পরই বেশি রপ্তানি হয় ট্রাউজার। গত পাঁচ বছরে ট্রাউজারের রপ্তানি বেড়েছে ১২৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ৬৯৪ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি হয়েছে। এই আয় তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি পণ্য জ্যাকেট। তিন বছর ধরে জ্যাকেটের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত অর্থবছর ৪৩৮ কোটি ডলারের জ্যাকেট রপ্তানি হয়েছে। তার আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৭ কোটি ডলার।

সেই হিসাবে গত অর্থবছরে পণ্যটির রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশের মতো। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে সোয়েটার রপ্তানি ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে ২৮২ কোটি ডলারের সোয়েটার রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৪২৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

তুষারঝড়-তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৩০ জনের মৃত্যু

রপ্তানির অর্ধেক আয় পাঁচ পোশাকে

প্রকাশিত : ০৮:১৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছেলে ও মেয়েদের শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও সোয়েটার থেকে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানির ৬১ শতাংশ অর্থ আসে। আবার পোশাকশিল্পের রপ্তানির ৭৩ শতাংশই এই পাঁচ পণ্যের দখলে। সব মিলিয়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটাই পাঁচটি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল।

সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক খাতের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলার।

এই রপ্তানির ৭২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার এসেছে শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি–শার্ট ও সোয়েটার রপ্তানি থেকে।

দেশে সস্তা পণ্যের পাশাপাশি বেশি দামের বা ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য যেমন স্যুট, ব্লেজার, অন্তর্বাস, সাঁতারের পোশাক উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে সেটি এখনো বড় আকার ধারণ করেনি।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানির ৭৮ শতাংশ শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি–শার্ট ও সোয়েটার থেকে এসেছিল। গত পাঁচ বছর পর সেটি কিছুটা কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে।

পোশাকশিল্পের কয়েকজন উদ্যোক্তা বলছেন, বিদেশিরা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই বাংলাদেশে পোশাকশিল্প বেড়ে উঠেছে।  তার মানে, সস্তা পোশাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন দেশের উদ্যোক্তারা। তবে গত কয়েক বছরে শ্রমের মজুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাতে সস্তা পোশাক উৎপাদনকারীরা চাপে পড়েছেন।

তাঁদের মুনাফাও কমেছে। ভবিষ্যতে পোশাক রপ্তানিকে টেকসই করতে হলে প্রধান পাঁচ পণ্যের পাশাপাশি বেশি দামের পোশাক তৈরির দিকেও যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে চীনাদের আকৃষ্ট করতে হবে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, পাঁচ পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় টি-শার্ট। গত অর্থবছরে ৭০১ কোটি ডলারের বা ৫৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে। সেই হিসাবে টি-শার্টে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৬১ শতাংশই শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও সোয়েটারের দখলে শুধু পোশাক রপ্তানির মধ্যে সেটি ৭৩ শতাংশ

টি-শার্টের পরই বেশি রপ্তানি হয় ট্রাউজার। গত পাঁচ বছরে ট্রাউজারের রপ্তানি বেড়েছে ১২৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ৬৯৪ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি হয়েছে। এই আয় তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি পণ্য জ্যাকেট। তিন বছর ধরে জ্যাকেটের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত অর্থবছর ৪৩৮ কোটি ডলারের জ্যাকেট রপ্তানি হয়েছে। তার আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৭ কোটি ডলার।

সেই হিসাবে গত অর্থবছরে পণ্যটির রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশের মতো। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে সোয়েটার রপ্তানি ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে ২৮২ কোটি ডলারের সোয়েটার রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৪২৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান