আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সব খরচ বহন করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. সাইদুর রহমান।
বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ অক্টোবর। কিন্তু এর আগেই পাঁচ দফা বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাত সাড়ে দশ্টায় সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেন তারা। পরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও কথা বলেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ১০ দফা দাবি রয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে ১৪ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
এর আগে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সব কাজ বন্ধ থাকবে। তবে প্রশাসনিক কাজ চলবে।
এর আগে আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
রোববার রাতে শেরে বাংলা হলের নিজের ১০১১ নাম্বার কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নাম্বার কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।
তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছেন। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মোহাজিদুর রহমানকে, শামসুল আরেফিন, মনিরুজ্জামান ও আকাশ হোসেন, মিজানুর রহমান (আবরারের রুমমেট), ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং হোসেন মোহাম্মদ তোহা।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

























