০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

থামানো যাচ্ছে না পেঁয়াজের দাম, এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড

ভোগ্যপণ্যের সবচে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে পেঁয়াজের দর নতুন রেকর্ড ছুঁলো। আজ বৃহস্পতিবার বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। একইসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও; গতকাল সেটি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০ টাকায়। যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমাদনি হচ্ছে বিপুল পেঁয়াজ, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোট আমদানিকারকরা ধারাবাহিকভাবে আনছেন পেঁয়াজ; বড় শিল্পগ্রুপগুলোর আমদানি চালান আসার পথে রয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই পেঁয়াজের দাম নতুন রেকর্ড গড়লো।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় বাজারে সেই পেঁয়াজ সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কিন্তু মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ স্থলবন্দর দুই দিক দিয়েই আসছে পেঁয়াজ। এরপরও কেন কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি তা হচ্ছে তার সঠিক কোনো জবাব নেই।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, এরক দাম হবে কখনো চিন্তাই করিনি। ভারতের পেঁয়াজ গত কদিনে আসা একেবারেই কমে গেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসা তো বন্ধ হয়নি। তাহলে এতদাম কেন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে দেশের অধিকাংশ আড়তদার এখন টেকনাফে গিয়ে বসে আছেন। যে পরিমাণ চাহিদা সে অনুযায়ী তো পেঁয়াজ আসছে না, তাই কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে দাম বেড়েছে।

এদিকে বড় শিল্পগ্রুপগুলোর পাশাপাশি ছোট আমদানিকারকদের অনেকেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করছেন আগে থেকেই। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ওই আমদানিকারকদের অন্তত ১ হাজার টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছবে।

জানতে চাইলে পেঁয়াজ আমদানির সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মার্কো ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আকরামুল হক ভুঁইয়া বলেন, বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজেই পেঁয়াজের কন্টেইনার আছে। তিন জাহাজে ৩৬টি কন্টেইনার আছে; যাতে পেঁয়াজ আছে ১ হাজার টনের বেশি। সবগুলো পেঁয়াজ আসছে চীন, মিশর ও মিয়ানমার থেকে। এসব আমদানিকারকের আরও চালান আসার পথে রয়েছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বড় শিল্প গ্রুপ এবং বড় আমদানিকারকদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির আহবান জানায়। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে এস আলম গ্রুপ, বিএসএম গ্রুপের পাশাপাশি সিটি গ্রুপও আনছে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ। তুরস্ক থেকে তাদের পেঁয়াজ আমদানির চালান জাহাজিকরণ হয়েছে; পৌঁছবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

এর বাইরে বাকি শিল্পগ্রুপগুলো অনেকেই এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন; আবার পেঁয়াজের বুকিং দর দেখে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল বলেন, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আমি নিজেও পেঁয়াজ আমদানির দর নিয়েছি; ঋণপত্র খুলবো শিগগিরই। আর যারা আমদানিতে সাড়া দিয়ে আমদানি করছেন তারা অবশ্যই প্রশংসিত হবেন। এসব বড় শিল্পগ্রুপগুলো পেঁয়াজ আসলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে নিঃসন্দেহে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মিশরের পেঁয়াজ আসলে বাজারে কেজি ৮০ টাকা নামবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

থামানো যাচ্ছে না পেঁয়াজের দাম, এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড

প্রকাশিত : ০৭:১৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৯

ভোগ্যপণ্যের সবচে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে পেঁয়াজের দর নতুন রেকর্ড ছুঁলো। আজ বৃহস্পতিবার বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। একইসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও; গতকাল সেটি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০ টাকায়। যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমাদনি হচ্ছে বিপুল পেঁয়াজ, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোট আমদানিকারকরা ধারাবাহিকভাবে আনছেন পেঁয়াজ; বড় শিল্পগ্রুপগুলোর আমদানি চালান আসার পথে রয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই পেঁয়াজের দাম নতুন রেকর্ড গড়লো।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় বাজারে সেই পেঁয়াজ সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কিন্তু মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ স্থলবন্দর দুই দিক দিয়েই আসছে পেঁয়াজ। এরপরও কেন কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি তা হচ্ছে তার সঠিক কোনো জবাব নেই।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, এরক দাম হবে কখনো চিন্তাই করিনি। ভারতের পেঁয়াজ গত কদিনে আসা একেবারেই কমে গেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসা তো বন্ধ হয়নি। তাহলে এতদাম কেন খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে দেশের অধিকাংশ আড়তদার এখন টেকনাফে গিয়ে বসে আছেন। যে পরিমাণ চাহিদা সে অনুযায়ী তো পেঁয়াজ আসছে না, তাই কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে দাম বেড়েছে।

এদিকে বড় শিল্পগ্রুপগুলোর পাশাপাশি ছোট আমদানিকারকদের অনেকেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করছেন আগে থেকেই। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ওই আমদানিকারকদের অন্তত ১ হাজার টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছবে।

জানতে চাইলে পেঁয়াজ আমদানির সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মার্কো ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আকরামুল হক ভুঁইয়া বলেন, বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজেই পেঁয়াজের কন্টেইনার আছে। তিন জাহাজে ৩৬টি কন্টেইনার আছে; যাতে পেঁয়াজ আছে ১ হাজার টনের বেশি। সবগুলো পেঁয়াজ আসছে চীন, মিশর ও মিয়ানমার থেকে। এসব আমদানিকারকের আরও চালান আসার পথে রয়েছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বড় শিল্প গ্রুপ এবং বড় আমদানিকারকদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির আহবান জানায়। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে এস আলম গ্রুপ, বিএসএম গ্রুপের পাশাপাশি সিটি গ্রুপও আনছে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ। তুরস্ক থেকে তাদের পেঁয়াজ আমদানির চালান জাহাজিকরণ হয়েছে; পৌঁছবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

এর বাইরে বাকি শিল্পগ্রুপগুলো অনেকেই এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন; আবার পেঁয়াজের বুকিং দর দেখে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল বলেন, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আমি নিজেও পেঁয়াজ আমদানির দর নিয়েছি; ঋণপত্র খুলবো শিগগিরই। আর যারা আমদানিতে সাড়া দিয়ে আমদানি করছেন তারা অবশ্যই প্রশংসিত হবেন। এসব বড় শিল্পগ্রুপগুলো পেঁয়াজ আসলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে নিঃসন্দেহে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মিশরের পেঁয়াজ আসলে বাজারে কেজি ৮০ টাকা নামবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ