০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চোখ উৎপাটনের শিকার সেই শাহ জালালেরই দুই বছর কারাদণ্ড

খুলনায় চোখ উৎপাটনের শিকার সেই শাহ জালালকে ছিনতাই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলাম সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি শাহ জালালের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহ জালালের পক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চোখ উৎপাটনের ফলে শাহ জালাল অন্ধ হয়েছেন। এ অবস্থায় শাহ জালালকে দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শাহ জালালের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার ছেলের চোখ নিলো, ছেলেকে অন্ধ বানালো এবার তাকে জেলেও ঢোকালো। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার, আল্লাহ সহ্য করবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেড় লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশ তার ছেলের চোখ তুলে ফেলেছে।

তবে পুলিশের দাবি, ছিনতাইকালে জনতার পিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহ জালাল।

২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ছিনতাই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ শাহ জালালকে গ্রেফতার করে। ওই রাতে শাহ জালালকে চোখ উৎপাটন করা অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে রাতে শাহ জালালসহ দুই জনের নামে ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলার বাদী সুমা আক্তার দাবি করেন, পুলিশের হাতে নয়, বরং ছিনতাইয়ের পর জনতার মারধরেই শাহ জালালের চোখ নষ্ট হয়।

শাহ জালাল দাবি করেন, দেড় লাখ টাকা না পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশ তার চোখ তুলে ফেলে। তবে পুলিশের দাবি, ছিনতাইকালে জনতার পিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহ জালাল। প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে ২০১৮ সালে আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে পিবিআই বলে, শাহ জালালের চোখ কে উপড়েছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনায় দায়ের মামলায় ওসিসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদেরও নির্দোষ দাবি করা হয়।

এ মামলায় শাহজালাল জামিনে ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর শাহজালালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শাহ জালালের মা রেনু বেগম বলেন, ‘শাহ জালালের চোখ উৎপাদনের ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে ১১ জন পুলিশসহ ১৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় উচ্চ আদালত আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য চার সপ্তাহের রুল জারি করেছিলেন। কিন্তু রুলের সে সময় পার হয়ে গেলেও আসামিরা হাইকোর্টে হাজির হননি। উপরন্তু তারা অন্যায়ভাবে শাহ জালালকে চাপে ফেলানোর জন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ছিনতাই মামলায় পরিকল্পিতভাবে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ মামলার বিষয়েও উচ্চ আদালতে যাব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফকির বাজার স্কুল এন্ড কলেজের সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

চোখ উৎপাটনের শিকার সেই শাহ জালালেরই দুই বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিত : ০৮:০৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০১৯

খুলনায় চোখ উৎপাটনের শিকার সেই শাহ জালালকে ছিনতাই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলাম সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি শাহ জালালের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহ জালালের পক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চোখ উৎপাটনের ফলে শাহ জালাল অন্ধ হয়েছেন। এ অবস্থায় শাহ জালালকে দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শাহ জালালের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার ছেলের চোখ নিলো, ছেলেকে অন্ধ বানালো এবার তাকে জেলেও ঢোকালো। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার, আল্লাহ সহ্য করবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেড় লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশ তার ছেলের চোখ তুলে ফেলেছে।

তবে পুলিশের দাবি, ছিনতাইকালে জনতার পিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহ জালাল।

২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ছিনতাই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ শাহ জালালকে গ্রেফতার করে। ওই রাতে শাহ জালালকে চোখ উৎপাটন করা অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে রাতে শাহ জালালসহ দুই জনের নামে ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলার বাদী সুমা আক্তার দাবি করেন, পুলিশের হাতে নয়, বরং ছিনতাইয়ের পর জনতার মারধরেই শাহ জালালের চোখ নষ্ট হয়।

শাহ জালাল দাবি করেন, দেড় লাখ টাকা না পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশ তার চোখ তুলে ফেলে। তবে পুলিশের দাবি, ছিনতাইকালে জনতার পিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহ জালাল। প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে ২০১৮ সালে আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে পিবিআই বলে, শাহ জালালের চোখ কে উপড়েছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনায় দায়ের মামলায় ওসিসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদেরও নির্দোষ দাবি করা হয়।

এ মামলায় শাহজালাল জামিনে ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর শাহজালালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শাহ জালালের মা রেনু বেগম বলেন, ‘শাহ জালালের চোখ উৎপাদনের ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে ১১ জন পুলিশসহ ১৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় উচ্চ আদালত আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য চার সপ্তাহের রুল জারি করেছিলেন। কিন্তু রুলের সে সময় পার হয়ে গেলেও আসামিরা হাইকোর্টে হাজির হননি। উপরন্তু তারা অন্যায়ভাবে শাহ জালালকে চাপে ফেলানোর জন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ছিনতাই মামলায় পরিকল্পিতভাবে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ মামলার বিষয়েও উচ্চ আদালতে যাব।