রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ব্যতীত পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে “পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট” নামে কোন বিভাগ নেই। বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে “পপুলেশন সায়েন্স” নামে বিষয়টি পড়ানো হয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে এবং “হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট” বিষয়টি পড়ানো হয় ব্যবসায় অনুষদে। আর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি স্বতন্ত্র বিষয় এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্য আরেকটি স্বতন্ত্র বিষয় নিয়ে অর্থাৎ দুটি ভিন্ন অনুষদের ভিন্ন দুটি স্বতন্ত্র বিষয়কে এক করে শুধুমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে “পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট” নামে বি.এস.সি সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে।
সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত এবং সেই সাথে জগাখিচুড়ি পাকানো বিষয়ের নামের কারণে দীর্ঘ ২৪ বছরেও পিএসসি বিষয়টির স্বতন্ত্র কোড পাইনি এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কেউ আমাদের বিজ্ঞান অনুষদের বলে মেনে নেয় না। আমরা না পাই কোন গবেষনার সুযোগ, না পাই কোন বিজ্ঞান অনুষদের সুযোগ-সুবিধা এমনটাই জানাচ্ছিলেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের বিভাগের নাম পরিবর্তনে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা আরো জানান, বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উপযুক্ত নম্বর পেয়েই অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা ভর্তি হয়েছিলাম। অথচ বিজ্ঞান অনুষদ বলে আজ পরিচয় দিতে পারিনা এবং বিজ্ঞান অনুষদের অন্যরা যা সুযোগ-সুবিধা পায় তার ছিটে ফোঁটাও আমরা পাইনা। এসময় তারা আরো বলেন, বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পরিসংখ্যান বিভাগেরই ৬ জন সম্মানিত শিক্ষকের হাত ধরে। এই বিভাগটির মূলই হল পরিসংখ্যান বিভাগ।
বিভাগের নাম “পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট “। যার সর্বমোট ক্রেডিট -১৬০। কিন্তু “পপুলেশন সায়েন্স” সম্পর্কিত ক্রেডিট পড়ানো হয় মাত্র-৩৪। এবং “ হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট” সম্পর্কিত ক্রেডিট পড়ানো হয় মাত্র-১৬। আমাদের পড়ানো হয় ফলিত পরিসংখ্যান সিলেবাসের ১০১ ক্রেডিট। যা আমাদের সিলেবাসের সাথে ৭২.১৪% মিলে যায় এবং পি.এস.সি’র পরিসংখ্যান/ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সিলেবাসের সাথে ৯৫% এর অধিক মিলে যায়। নাম “পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট” কিন্তু পড়ানো হয় ফলিত পরিসংখ্যান। যা পরিসংখ্যান বিভাগের বাস্তবিক প্রয়োগ। তাই বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।
গত বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকার রাত উপেক্ষা করে দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে তাদের এই আমরণ অনশনে ইতোমধ্য ৩৫জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যে কেউ শুয়ে কেউ বসে আবার কেউবা মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছেন। কারো হাতে সুঁচ লাগাবো চলছে সেলাইন। বুধবার থেকে চলমান ৩ দিনের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে ৫১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এর মধ্য তিন জনের অবস্থা আশংকাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ২মার্চ আলোচনা বসবেন তারা। তবে লিখিত আশ্বাস চেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেছেন তারা। তবুও ইকটু লিখিত আশ্রাসেরে আশায় হালকা শীত আর মশার যন্ত্রণা নিয়ে খোলা আকাশের নীচে তাবু ও কাগজ বিছিয়ে বুক ভরা আশা নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন তারা। এদিকে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়া।
এসময় অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অথরিটি হলেন উপাচার্য। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তোমাদের উচিত তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিরে যাওয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি লিখিত কোনো আশ^াস না দেয় পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন তারা। প্রসঙ্গত, পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশনে বসছেন তারা।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















