১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিজিপ্রেসের লোকজনই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে: শিক্ষামন্ত্রী

সারাদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষায় যত জায়গায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে রবিবার দুদক কর্মকর্তাদের বৈঠকে তিনি একথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে, তাদের তদন্তে আমরা জানতে পারি, যে প্রশ্নফাঁস হয় মূলত বিজিপ্রেস থেকে। বিজিপ্রেসের লোকজনই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ঢাকার শহরে ৪-৫টা বাড়ির মালিক হয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিজিপ্রেসের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষাখাতে দুর্নীতি রোধে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আমাদের হাতে অনেক সাজেশন এসেছে। এর এক পর্যায়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষকরা। পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসি।

মন্ত্রী বলেন, আমি যখন আমার শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দেব, তখন তো নিরাপদ হয়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু কিছু শিক্ষক সে সময় প্রশ্ন ফাঁস করে দেন। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আধঘণ্টা আগেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ঢোকার পর প্রশ্নপত্রের খাম খোলা হবে।

নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির কার্যক্রমসহ প্রতিটি সাধারণ কাজ অনলাইনভিত্তিক করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস কীভাবে ঠেকানো যায় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত।

দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্তরে স্তরে দুর্নীতি। এসব দুর্নীতি নির্মূলে দুদকের পক্ষ থেকে বৈঠকে ৩৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

বিজিপ্রেসের লোকজনই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৩:১৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

সারাদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষায় যত জায়গায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে রবিবার দুদক কর্মকর্তাদের বৈঠকে তিনি একথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে, তাদের তদন্তে আমরা জানতে পারি, যে প্রশ্নফাঁস হয় মূলত বিজিপ্রেস থেকে। বিজিপ্রেসের লোকজনই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ঢাকার শহরে ৪-৫টা বাড়ির মালিক হয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিজিপ্রেসের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষাখাতে দুর্নীতি রোধে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আমাদের হাতে অনেক সাজেশন এসেছে। এর এক পর্যায়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষকরা। পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসি।

মন্ত্রী বলেন, আমি যখন আমার শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দেব, তখন তো নিরাপদ হয়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু কিছু শিক্ষক সে সময় প্রশ্ন ফাঁস করে দেন। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আধঘণ্টা আগেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ঢোকার পর প্রশ্নপত্রের খাম খোলা হবে।

নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির কার্যক্রমসহ প্রতিটি সাধারণ কাজ অনলাইনভিত্তিক করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস কীভাবে ঠেকানো যায় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত।

দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্তরে স্তরে দুর্নীতি। এসব দুর্নীতি নির্মূলে দুদকের পক্ষ থেকে বৈঠকে ৩৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করেন তিনি।