কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ অসাধারণ অর্জনে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাজুড়ে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও সদস্য সচিব ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়ায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাহমুদা জাহান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন। নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্বকে অনন্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি আজ বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা হালিমা পারভীন বলেন, ইউএনও মহোদয়ের গতিশীল নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
এদিকে মাহমুদা জাহানের এই গৌরবময় অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। উপজেলার শিক্ষক সমাজ, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ এ অর্জনকে পুরো ব্রাহ্মণপাড়াবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, মাহমুদা জাহান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; তিনি শিক্ষার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে নিবেদিতপ্রাণ একজন মানবিক ও দূরদর্শী প্রশাসক।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মাহমুদা জাহান বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়; এটি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি শুধু মাহমুদা জাহানের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরও একটি বড় স্বীকৃতি। তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে উপজেলার শিক্ষা খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন ও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
ডিএস./



















