গোটা বিশ্ব যখন অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে পরাস্থ। বড় বড় দেশগুলোতে যখন থমকে গেছে সব কিছু। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্ব। বিশাল জনবহুল দেশ বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়।
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রথম ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন বন্ধ ঘোষণা হলেও ধাপে- ধাপে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ঘরের হওয়ায় মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে পড়ছে বিপাকে।
দীর্ঘ ছুটিতে কয়েকমাসের মেস বাড়া দিতে হিমসিম খেতে হবে এমন দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা । মেস ভাড়া বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের অভিমত।
কৃষক পরিবারের সন্তান ও রাবি’র লোক প্রশাসন বিভাগের আসাদুজ্জামান জানান , করোনা মহামারীর সময়ে আমাদের সংসার ই চলে নাহ, কয়েকমাসের মেস ভাড়া কিভাবে দিবো? এই মহামারীর সময়ে আমার মেস ভাড়া দেওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নাহ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেনও এ বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মেস ভাড়া নিয়ে থাকা আরেক নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ও উর্দু বিভাগের মীর আল- আমিন জানান, দেশের এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো তাদের জীবন ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছে,.এ সংকটময় মুহূর্তে কিভাবে এতটাকা পরিশোধ করবো।
তাই আমি একজন নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে মেস ভাড়া মওকুফ এর জন্য আবেদন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। করোনা পরিস্থিতি।স্বাভাবিক না হলে যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে, প্রায় ছয় মাস মেসে না থেকে ভাড়া দেওয়াটা আমাদের জন্য জুলুম হয়ে যাবে এমনটাই জানালেন মার্কেটিং বিভাগের আল- মাজিদ।
কয়েক মাসের মেস ভাড়া নিয়ে ফলিত গণিত বিভাগের সাহিদুলের দাবি ,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই গ্রামের মধ্যবিত্ত ও কৃষক পরিবারের সন্তান। মানুষের জীবন এখন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, কেউই যখন বাসা থেকে বের হতে পারছে না। হাট-বাজার বন্ধ থাকায় জমির উৎপাদিত ফসল নায্য মূল্য বিক্রয় করা যাচ্ছে না, এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
শিল্প-কারখানা, বাজার ঘাট সব বন্ধ প্রায়। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অনেক পরিবারের সন্তান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করছে। তাই মেস ভাড়া মওকুফ প্রদানের জন্য সরকার, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মহোদয় ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মেস ও বাসা ভাড়া প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান জানান, করোনা ভাইরাসে কারণে পুরো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সকল শিক্ষার্থীর মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। আর অধিকাংশই বাহিরে থাকায় এ মুহূত্বে মেস ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছে।
ইতিপূর্বে মেস মালিকদের সাথে ভাড়া মওকুফের বিষয়ে কথা বলেছি কিন্তু তাদের তেমন সাড়া পাইনি। তারা বলছে মেস ও বাসা ভাড়া দিয়েই তাদের সংসার চলে। প্রক্টর আরো বলেন, মেস ভাড়া নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সিদ্ধান্তে আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুপারিশ করা ছাড়া হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। এমুহূর্ত্বে মেস মালিকগণ মানবিক হলেই এটা সম্ভব।
তবুও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া যাতে মওকুফ করা হয় সে বিষয়ে শীগ্রই আবারো মেস মালিক সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলবো। যাতে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে মেস ভাড়া মওকুফ ব্যবস্থা করে।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক





















