১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

করোনায় বশেমুরবিপ্রবিতে নানামুখী উদ্যোগ ও শিক্ষার্থীদের দাবি

* প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান
* শিক্ষকদের হটলাইন সেবা চালু ও দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা বৃত্তির ঘোষণা
* দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ
* বাড়ি ভাড়ি নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি সংগঠন।

এরই অংশ হিসেবে গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমন্বয়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক জমা দেয়া হয়।

চেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার হাতে তুলে দেন।

এদিকে সংকটকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এবং সাধারণ শিক্ষকদের একাংশের সমন্বয়ে দুটি তহবিল ও হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। প্রথম তহবিল থেকে জেলার ১০৫ টি দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা বাবদ ৪১ হাজার ৭৩০ টাকা দেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় তহবিল থেকে ২০০ শিক্ষার্থীকে সহায়তার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুর্যোগ পরবর্তী বিশেষ সহায়তা বৃত্তি’র ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি।

সংকটের সময়ে এগিয়ে এসেছে বশেমুরবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ। স্থানীয় মানুষের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরীব কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগ। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আশেপাশের দরিদ্র দোকানদারদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল চালু করেছেন কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

নিজেদের এবং বিত্তবানদের অর্থায়নে গঠিত ওই তহবিল থেকে ইতিমধ্যে কয়েকজন দরিদ্র দোকানদারকে সহায়তা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ১৭৬ জন কর্মচারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেস কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসমস্ত শিক্ষার্থীরা জানান, টিউশন বন্ধ থাকায় এবং অধিকাংশ পরিবারের উপার্জন বন্ধ হওয়াতে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এসময় তারা ভাড়া মওকুফের দাবি তোলেন।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, এই সংকটকালে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাসা ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে মালিকদের প্রতি মানবিক আবেদন করা হয়েছে এবং আলোচনা চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

করোনায় বশেমুরবিপ্রবিতে নানামুখী উদ্যোগ ও শিক্ষার্থীদের দাবি

প্রকাশিত : ০৪:২৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

* প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান
* শিক্ষকদের হটলাইন সেবা চালু ও দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা বৃত্তির ঘোষণা
* দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ
* বাড়ি ভাড়ি নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি সংগঠন।

এরই অংশ হিসেবে গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমন্বয়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক জমা দেয়া হয়।

চেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার হাতে তুলে দেন।

এদিকে সংকটকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এবং সাধারণ শিক্ষকদের একাংশের সমন্বয়ে দুটি তহবিল ও হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। প্রথম তহবিল থেকে জেলার ১০৫ টি দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা বাবদ ৪১ হাজার ৭৩০ টাকা দেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় তহবিল থেকে ২০০ শিক্ষার্থীকে সহায়তার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুর্যোগ পরবর্তী বিশেষ সহায়তা বৃত্তি’র ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি।

সংকটের সময়ে এগিয়ে এসেছে বশেমুরবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ। স্থানীয় মানুষের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরীব কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগ। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আশেপাশের দরিদ্র দোকানদারদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল চালু করেছেন কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

নিজেদের এবং বিত্তবানদের অর্থায়নে গঠিত ওই তহবিল থেকে ইতিমধ্যে কয়েকজন দরিদ্র দোকানদারকে সহায়তা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ১৭৬ জন কর্মচারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেস কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসমস্ত শিক্ষার্থীরা জানান, টিউশন বন্ধ থাকায় এবং অধিকাংশ পরিবারের উপার্জন বন্ধ হওয়াতে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এসময় তারা ভাড়া মওকুফের দাবি তোলেন।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, এই সংকটকালে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাসা ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে মালিকদের প্রতি মানবিক আবেদন করা হয়েছে এবং আলোচনা চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক