বর্তমানে ভারতের ১৯টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। এটা যে একটি বড় গর্বের বিষয়, তা স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ গুজরাট ও হিমাচলে দলের জয়ের পর বিজয়ী বিজেপির বিধায়কেরা প্রথমবারের মতো যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে এলেন, মোদি তখন ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের অভিনন্দিত করে মোদি বলেন, ‘এই বিজয় অনেক বড় অর্জন। আমরা এখন ১৯টি রাজ্যের শাসনে, যেখানে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে কংগ্রেস ১৮টি শাসন করতে পেরেছিল।’
১৯৮৪ সালে ভারতের লোকসভায় বিজেপির আসন ছিল মাত্র দুটি। আর এখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই বিজেপিই কেন্দ্রে ক্ষমতায়। আজকের সভায় বিজেপির সাফল্যযাত্রার স্মৃতিও রোমন্থন করেন মোদি।
মোদি এ সময় সামনে থাকা টানা কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৯-এর জাতীয় নির্বাচন মাথায় রেখে দলের নেতাদের এখনই আত্মতুষ্টিতে না ভুগতে সতর্ক করে দেন।
টানা ছয়বার গুজরাটের ক্ষমতায় আসা ও কংগ্রেসের কাছ থেকে হিমাচলের শাসনভারও কেড়ে নেওয়ার ফলে বিজেপি শাসিত রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়াল এখন ১৯। এর মধ্যে এককভাবে ক্ষমতার বাইরে পাঁচটি রাজ্য বিজেপি জোট গঠন করে শাসনে করছে।
গুজরাটে বিজেপি ১৮২টি আসনের মধ্যে ৯৯টিতে বিজয় লাভ করেছে। মোদি ও অমিত শাহর নিজের রাজ্য হওয়ার পরও ‘ম্যাজিক’ ১০০ পেরোতে না পারা অনেকের মধ্যে একটা খুঁতখুঁতে অনুভূতি তৈরি করছে। অন্যদিকে ১৯৮৫ সালের পর কংগ্রেস এবারের নির্বাচনেই সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে বিজয়ী হওয়ার ঘটনাকে দলটি ‘নৈতিক বিজয়’ বলে দাবি করছে।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ‘নৈতিক বিজয়’-এর এই দাবিটি তুললে বিজেপি নেতাদের অনেকেই কটাক্ষ করে নানা মন্তব্য করছেন।
দুই রাজ্যের বিজয়ী বিধায়কদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের এমন সান্ত্বনা-প্রচেষ্টাকে হাস্যকর বলেছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়ে। তিনি সভার বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান।
গুজরাটের ভোটের রায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিতে জনগণের আস্থা কমেছে—রাহুল গান্ধী এমন দাবি তোলায় অনন্ত কুমার বলেন, বিরোধী দল যত সব অপ্রয়োজনীয় আর অসার বক্তব্য দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা এখানে অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৯-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলকে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী করার ডাক দেন বলে অনন্ত কুমার জানান।


























