প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন সারাদেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রাইভেট স্কুলের ৬ লক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী। যদিও ২০১৬ সালের হিসাব মতে দেশে প্রায় ৭৫ হাজারের মতো প্রাইভেট স্কুল আছে এবং সেখানে প্রায় ১০ লক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত।এই স্কুলগুলোতে প্রায় ১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন।
অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সেশন ফি ও মাসিক বেতনই হচ্ছে স্কুলগুলোর একমাত্র আয়ের উৎস।উক্ত আয়ের উপর ভিত্তি করে শিক্ষকগন তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন।কিন্তু করোনার প্রভাবে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য স্কুলগুলো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধের কবলে পরলে শিক্ষকদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়।ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে পরেছে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন গাজীপুর জেলার বাসন থানার সহ-সভাপতি ও মোহাম্মাদ আলী মেমোরিয়াল একাডেমির পরিচালক মো.আমির হোসাইন বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বেতন ও সেশন উপর ভিত্তি করেই আমরা স্কুল চালাই ও শিক্ষকদের বেতন দেই।করোনার প্রভাবে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন /সেশন ফি না পাওয়ার কারণে শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছি না।ফলে শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করতেছে।শিক্ষকদের কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করছি।”
ঠাকুরগাও জেলার হরিপুর উপজেলার রাইজিং স্টার মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নবীন পরিচালক মো.শাহাজালাল বলেন,”বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষে এ বছর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।শুরুটা ভালোই ছিল।কিন্তু করোনার প্রভাবে তা এখন ধ্বংসের মুখে।এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেলে আমরা কঠিন সমস্যার মধ্যে পরব।”
সরকার করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন সেক্টরের জন্যে প্রনোদনা ঘোষনা করলেও প্রাইভেট স্কুল ও স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট করে বলা নাই।কিন্তু সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জনে প্রাইভেট স্কুলগুলো ঠিকই কাজ করে যাচ্ছে।পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও এ সেক্টরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেখানে সরকারকে শুধু সাড়ে ৬৩ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাবদ প্রতিমাসে রাজস্বখাত থেকে প্রায় হাজার কোটি ব্যয় করতে হয়। সেখানে প্রাইভেট স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে সরকারকে কোন টাকা ব্যয় করতে হয় না।স্কুলগুলো নিজস্ব আয়ের উপর নির্ভরশীল।
এই প্রাইভেট স্কুলগুলো না থাকলে সরকারকে আরও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হতো।এই স্কুলগুলোতেও কয়েক লক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন হতো।এই শিক্ষকদের জন্যে বেতনবাবদ প্রতিমাসে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা লাগত।
কিন্তু প্রাইভেট স্কুলগুলো ব্যক্তি মালিকানা হওয়ায় সরকারকে কোন রাজস্বখাত থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে না।আবার লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।দেশের লক্ষমাত্রা অর্জনে প্রাইভেট স্কুলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও করোনা মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাচ্ছে না।
করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় শিক্ষকদের সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকাটাই বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার বাইরে রেখে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কতটা সম্ভব তা ভাববার বিষয় রয়েছে।


























