করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের হাজার খানেক অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের খাবার খাওয়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা তানভীর হাসান সৈকত।
তাঁর এ মহৎ কর্মযজ্ঞে পাশে এসে দাড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। টানা ৫৫ দিন ধরে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অসহায় এই মানুষদের খাবার খাওয়াচ্ছেন।
যত দিন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন তাদের খাবার খাইয়িয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন সৈকত। প্রথমে দুবেলায় হাজার খানেক মানুষদের খাবার দিতেন।
রমজান মাস চলায় এখন দিচ্ছেন সেহেরি ও ইফতার।তবে এখনও কয়েকজন অমুসলিম অসহায় মানুষদের দুপুরে খাবার দিচ্ছেন। ক্যাম্পাস বন্ধ হয় ১৮ মার্চ। অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে ক্যাম্পাসেই রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্ট্যাডিস বিভাগের ছাত্র সৈকত।
রাজধানী সহ সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি।দোকান পাট সব বন্ধ। তাই তানভীর হাসান সৈকত ও তার বন্ধুরা নিজেরা বাজার ও রান্না করে ২৩ মার্চ থেকে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের খাবার খাওয়াচ্ছেন।
‘শুরুটা করেছিলাম নিজের জমানো ১৩ হাজার টাকা দিয়ে।এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী,ব্যাংকার,সাংবাদিক, পুলিশের কর্মকর্তাসহ আরও অনেকেই সহযোগিতা করছেন’,বলছিলেন সৈকত।
বর্তমান করোনাকালে ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টা তারা কিভাবে নিশ্চিত করছেন।জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে প্রথমে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কয়েক দিন অনেক কষ্টও করতে হয়েছে।
নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর একটা করে গোল দাগ দেওয়া আছে। ওই গোল দাগেই সবাই বসে। ‘আরেকটা বিষয় হলো আমাদের এখানে একটা নিয়ম আছে,সকলে খাবার না পাওয়া পর্যন্ত কেউ লাইন ভাঙ্গবে না।এই নিয়ম এখন সকলে পালন করে।এমনকি একজন পাগল পর্যন্ত’,যোগ করেন সৈকত।


























