শিক্ষা জীবনে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত করার বাতিঘর বলা হয়ে থাকে “সংগঠনকে”। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর যেখানে যুক্ত হয়ে নিজেকে সৃষ্টি করা যায় নতুন ভাবে। কাজ করা যায় মানুষের সেবায়। নেতৃত্বকে আরো বিকশিত করার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা যায় নতুন রূপে। তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে যারা দেশের সেবায় নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা তান্ডব। এই সংকটময় মুহূর্ত্বে মানুষের সেবায় কিভাবে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন সেইসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরছেন
– মো.উমর ফারুক

গোলাম কিবরিয়া
সভাপতিরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন।
দেশের ক্রান্তিলগ্নে সবসময় এই সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তেমনি দেশে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মানুষের মাঝে হ্যান্ড- স্যানিটাইজার, সাবান, মাক্স বিতরণ করা হয়েছে।ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আশেপাশে এলাকাগুলোতে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। রমজান মাসে গরীব অসহায়দের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু দরিদ্রদের জন্য ফ্রিতে সবজি বাজার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন শিক্ষার্থীর আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিঃসংকোচে জানাতে বলেছি এবং সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সব মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এই দূর্যোগময় পরিস্থিতিতেও মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কে.এ.সাকিব
সভাপতিস্টুডেন্ট রাইটস এসোসিয়েশন
বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা আতঙ্ক। করোনা প্রাদূর্ভাবের কারণে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এ মুহূত্বে আমাদের নিজের বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে।
এই দূর্যোগময় মুহূত্বে নিজ জেলা চট্টগ্রামের বাশঁখালির সাধারণ মানুষের পাশে সাধ্যমত দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। বিশেষভাবে নিজ এলাকায় অভুক্ত-হতদরিদ্র, দুস্থ মানুষদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি করোনা সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব এসব মানুষদের সতর্ক ও সচেতনতার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বাসায় অবস্থান করছি। সময়টুকু নিজের পরিবারের সাথেই কাটছে।
মো. খালিদ হাসান
সভাপতিনবজাগরণ ফাউন্ডেশন
করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে নিজেকে ভাল রাখতে ও বাকিদের নিরাপদে রাখতে বাসায় থাকা হয় সারাদিন।
এর বাইরে যে কাজটা সবথেকে বেশি করি তাহলো বই পড়া আর সংগঠন এর কাজ করা। ইতিমধ্যে করোনাকালে নবজাগরণ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করেছি। এর পাশাপাশি বর্তমানে “রাবিয়ানদের পাশে রাবিয়ান” নামে একটা প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পরিচালনার মাধ্যমে ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে আর্থিক ভাবে সমস্যার আছে এমন স্টুডেন্টদের কিছু আর্থিক সাহায্য করতেছি। তাছাড়া বর্তমানে অবসর পেয়ে ভাল কিছু বই পড় হচ্ছে।

অমর কুমার রায়
সাধারণ সম্পাদকমুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, রাবি
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস তান্ডবে একজন ঘরবন্দী হিসেবে প্রতিটা সকাল করোনা মুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি।করোনার ভাইরাস সংক্রামণের শুরুর দিকে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি।
নিজের পরিবার আর আশেপাশের মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করে চলেছি। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিতদের খোঁজ-খবর আর যতটুকু সম্ভব সচেতন করে যাচ্ছি। মাঝে-মাঝে প্রিয় মানুষগুলো, বন্ধু, সংগঠন, সহপাঠীদের খোঁজ নিচ্ছি। অবসর সময়গুলো কাটছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর সম্পকিত কিছু গ্রন্থ পড়ে। বইগুলো এই করোনা- যুদ্ধে টিকে থাকার জীবনীশক্তি বাড়িয়েছে। সুস্থ পৃথিবীর কোন একদিন মুক্ত বাতাসের খোঁজে প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিত হবার প্রতীক্ষায় রইলাম।
খাইরুল ইসলাম দুখু
সভাপতিস্বপ্ন-ফেরী
করোনা মহামারী শুরু হওয়া পরে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় কয়েক হাজার মানুষের মাঝে সচেতনতা লিফলেট, মাস্ক, হ্যান্ড-স্যানিটাইজার, সাবান বিতরণ করেছি।
পাশাপাশি এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেমন মসজিদ মাদ্রাসায় পরিষ্কার অভিযান এবং সেই সাথে হাত ধুয়ার জন্য সাবান ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকাতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ হতে প্রতিসপ্তাহে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। আমি আহ্বায়ক হয়ে অনেক চাঁদা উঠিয়ে রাজশাহী বাংলাদেশে লকডাউনে বন্দি শিক্ষার্থী তথা স্বপ্ন-ফেরিসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি।
সর্বশেষ যে ইভেন্ট হাতে নেওয়া হয়েছে সেটা আগামীতে পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন কাপড়সহ খাবার বিতরণ করব ইনশাআল্লাহ।
আরেফিন মেহেদী হাসান
সভাপতিওয়েসিস ফাউন্ডেশন
করোনা নামক মহামারীর কারণে মানুষের যান্ত্রিক জীবন যেমন তার আপন গতি হারিয়েছে তেমনি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক দুর্ভোগ। জনজীবন আজ স্থাবির হয়ে পড়েছে। এই লকডাউনে প্রতিটি দিন ই যেনো এক একটা দীর্ঘ যুগ।চার দেওয়ালের মাঝে আবদ্ধ থেকে মানব জ্ঞানের পরিসীমার ব্যাপ্তি ঘটানো দূরুহ হয়ে পড়েছে।
“শিক্ষায়,সেবায়, মানবতায় সমাজ গড়বো দৃঢ়তায় ” এই স্লোগান কে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েসিস ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো।করোনার ক্রান্তিকালীন পূর্বাভাস আঁচ করতে পেরেই শিক্ষার্থীদের এই মহামারী সম্পর্কে অবগত করানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশিকামূলক লিফলেট বিতরণ করেছিলাম। করোনার সময়ে ক্যাম্পাসে যেমন সবাইকে সচেতন করেছি তদ্রুপ নিজ টেরিটোরিতেও করোনা বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে কিভাবে এই প্যান্ডামিক বা মহামারিকে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

দেশের ক্রান্তিলগ্নে সবসময় এই সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তেমনি দেশে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মানুষের মাঝে হ্যান্ড- স্যানিটাইজার, সাবান, মাক্স বিতরণ করা হয়েছে।ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আশেপাশে এলাকাগুলোতে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। রমজান মাসে গরীব অসহায়দের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু দরিদ্রদের জন্য ফ্রিতে সবজি বাজার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন শিক্ষার্থীর আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিঃসংকোচে জানাতে বলেছি এবং সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সব মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এই দূর্যোগময় পরিস্থিতিতেও মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই দূর্যোগময় মুহূত্বে নিজ জেলা চট্টগ্রামের বাশঁখালির সাধারণ মানুষের পাশে সাধ্যমত দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। বিশেষভাবে নিজ এলাকায় অভুক্ত-হতদরিদ্র, দুস্থ মানুষদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি করোনা সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব এসব মানুষদের সতর্ক ও সচেতনতার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বাসায় অবস্থান করছি। সময়টুকু নিজের পরিবারের সাথেই কাটছে।
এর বাইরে যে কাজটা সবথেকে বেশি করি তাহলো বই পড়া আর সংগঠন এর কাজ করা। ইতিমধ্যে করোনাকালে নবজাগরণ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করেছি। এর পাশাপাশি বর্তমানে “রাবিয়ানদের পাশে রাবিয়ান” নামে একটা প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পরিচালনার মাধ্যমে ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে আর্থিক ভাবে সমস্যার আছে এমন স্টুডেন্টদের কিছু আর্থিক সাহায্য করতেছি। তাছাড়া বর্তমানে অবসর পেয়ে ভাল কিছু বই পড় হচ্ছে।
নিজের পরিবার আর আশেপাশের মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করে চলেছি। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিতদের খোঁজ-খবর আর যতটুকু সম্ভব সচেতন করে যাচ্ছি। মাঝে-মাঝে প্রিয় মানুষগুলো, বন্ধু, সংগঠন, সহপাঠীদের খোঁজ নিচ্ছি। অবসর সময়গুলো কাটছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর সম্পকিত কিছু গ্রন্থ পড়ে। বইগুলো এই করোনা- যুদ্ধে টিকে থাকার জীবনীশক্তি বাড়িয়েছে। সুস্থ পৃথিবীর কোন একদিন মুক্ত বাতাসের খোঁজে প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিত হবার প্রতীক্ষায় রইলাম।
পাশাপাশি এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেমন মসজিদ মাদ্রাসায় পরিষ্কার অভিযান এবং সেই সাথে হাত ধুয়ার জন্য সাবান ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকাতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ হতে প্রতিসপ্তাহে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। আমি আহ্বায়ক হয়ে অনেক চাঁদা উঠিয়ে রাজশাহী বাংলাদেশে লকডাউনে বন্দি শিক্ষার্থী তথা স্বপ্ন-ফেরিসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি।



















