০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিষাক্ত ধোঁয়া রোধে জলকামান!

A view of an anti-smog gun trial in New Delhi on December 20, 2017. India on December 20 unveiled a new weapon against air pollution -- an "anti-smog gun" which authorities hope will clear the skies above New Delhi but which environmentalists say amounts to a band-aid solution. / AFP PHOTO / SAJJAD HUSSAIN (Photo credit should read SAJJAD HUSSAIN/AFP/Getty Images)

বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অস্বাভাবিক এক সমাধান বেছে নিয়েছে দিল্লি রাজ্য সরকার। পানি ছিটিয়ে দেয় বা বিষাক্ত ধোঁয়া বিরোধী জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে পরীক্ষামুলকভাবে। দিল্লির উত্তরাঞ্চলে আনন্দবিহারে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই আনন্দবিহার এলাকাটি ভারতের রাজধানীর সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকার মধ্যে অন্যতম।

এ পদ্ধতিতে একটি ওয়াটার ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি মেশিন। তারপর এগুলো যুক্ত করা হয় একটি ট্রাকের সঙ্গে। ওই ট্রাক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি স্প্রে করে ছড়িয়ে দেয়া হয় আকাশে। পানি ছড়িয়ে দেয়ার পর তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাষ্পের কনায় ভেঙে যায়। উঠে যায় ২৩০ ফুট পর্যন্ত আকাশসীমায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ প্রক্রিয়ায় বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা ধুলোবালির কলাগুলোর সঙ্গে মিশে যাবে। এরপর তা বৃষ্টির মতো কাজ করবে। অর্থাৎ ওইসব পানির কণা বৃষ্টির মতো করে আকাশকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে দেবে। ধুলোবালির কণাকে নামিয়ে আনবে মাটিতে।

এ ধরনের মেশিন ২০১৫ সালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল চীনে। এরপর তা দিল্লির রাস্তায় পরিচিত হয়ে ওঠে। এ জন্য বুধবার দিল্লির পরিবেশ বিভাগ ও দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কমিটি পরীক্ষামুলকভাবে এ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে। পুরোদিন এ পরীক্ষা করা হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান হোসেন। তিনি নিউজ ১৮’কে বলেছেন, বেশ কয়েক দফা মিটিংয়ের পর এই আইডিয়াটি তাদের মাথায় এসেছে। এ সব বৈঠকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানি ছিটিয়ে দেয়ার কথাও উত্থাপিত হয়েছিল। তবে মাটি থেকে পানি ছিটিয়ে দেয়ার এই পদ্ধতিই গৃহীত হয়েছে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয় তাহলে এই পদ্ধতি পুরো শহরে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, যখন শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি হবে তখন প্রয়োগ করা হবে এই মেশিন পদ্ধতি। তবে সমস্যা সমাধানের এ পদ্ধতির সফলতা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

দিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অনুমিতা রয় চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতিতো একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য কাজ করবে। যদি আপনি আকাশ থেকে ধুলোবালি নামিয়ে আনতে চান তাহলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে এ পদ্ধতি কাজ করবে। সঙ্গে সঙ্গে ফল পাবেন। কিন্তু তাতে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো কাজেই আসবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনাকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যা হবে টেকসই। সরকারের উচিত পদ্ধতিগত পরিবর্তন, অবকাঠামোগত পরিবর্তন- যাতে আপনি বিভিন্ন শহরে কার্যকরভাবে দূষণ রোধ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ওই জলকামানটি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে ‘ফগ ক্যানন’ হিসেবে। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান কাউড টেক তৈরি করেছে এই মেশিন। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই ফগ ক্যানন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, বাতাসে ধুলোবালির সমস্যা সমাধানে এটি ব্যবহার করা যায়। উন্মুক্ত অবস্থায় খনিতে আহরণ, বিভিন্ন ভবন বা অবকাঠামো ধ্বংস করার সময় এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে ধুলাবালি বাতাসের সঙ্গে মিশে আকাশে উঠে যায় তা আবার মাটিতে নামিয়ে আনতে বেশ কার্যকর এই ফগ ক্যানন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে যতগুলো শহরের মধ্যে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হলো দিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক এজেন্সি নির্ধারিত যে মাত্রাকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অস্থাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে দিল্লিতে বায়ু দূষণ তার চেয়ে পাঁচগুন বেশি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

বিষাক্ত ধোঁয়া রোধে জলকামান!

প্রকাশিত : ০৭:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭

বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অস্বাভাবিক এক সমাধান বেছে নিয়েছে দিল্লি রাজ্য সরকার। পানি ছিটিয়ে দেয় বা বিষাক্ত ধোঁয়া বিরোধী জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে পরীক্ষামুলকভাবে। দিল্লির উত্তরাঞ্চলে আনন্দবিহারে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই আনন্দবিহার এলাকাটি ভারতের রাজধানীর সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকার মধ্যে অন্যতম।

এ পদ্ধতিতে একটি ওয়াটার ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা হয় একটি মেশিন। তারপর এগুলো যুক্ত করা হয় একটি ট্রাকের সঙ্গে। ওই ট্রাক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি স্প্রে করে ছড়িয়ে দেয়া হয় আকাশে। পানি ছড়িয়ে দেয়ার পর তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাষ্পের কনায় ভেঙে যায়। উঠে যায় ২৩০ ফুট পর্যন্ত আকাশসীমায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ প্রক্রিয়ায় বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা ধুলোবালির কলাগুলোর সঙ্গে মিশে যাবে। এরপর তা বৃষ্টির মতো কাজ করবে। অর্থাৎ ওইসব পানির কণা বৃষ্টির মতো করে আকাশকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে দেবে। ধুলোবালির কণাকে নামিয়ে আনবে মাটিতে।

এ ধরনের মেশিন ২০১৫ সালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল চীনে। এরপর তা দিল্লির রাস্তায় পরিচিত হয়ে ওঠে। এ জন্য বুধবার দিল্লির পরিবেশ বিভাগ ও দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কমিটি পরীক্ষামুলকভাবে এ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে। পুরোদিন এ পরীক্ষা করা হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান হোসেন। তিনি নিউজ ১৮’কে বলেছেন, বেশ কয়েক দফা মিটিংয়ের পর এই আইডিয়াটি তাদের মাথায় এসেছে। এ সব বৈঠকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানি ছিটিয়ে দেয়ার কথাও উত্থাপিত হয়েছিল। তবে মাটি থেকে পানি ছিটিয়ে দেয়ার এই পদ্ধতিই গৃহীত হয়েছে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয় তাহলে এই পদ্ধতি পুরো শহরে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, যখন শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি হবে তখন প্রয়োগ করা হবে এই মেশিন পদ্ধতি। তবে সমস্যা সমাধানের এ পদ্ধতির সফলতা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

দিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অনুমিতা রয় চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতিতো একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য কাজ করবে। যদি আপনি আকাশ থেকে ধুলোবালি নামিয়ে আনতে চান তাহলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে এ পদ্ধতি কাজ করবে। সঙ্গে সঙ্গে ফল পাবেন। কিন্তু তাতে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো কাজেই আসবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনাকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যা হবে টেকসই। সরকারের উচিত পদ্ধতিগত পরিবর্তন, অবকাঠামোগত পরিবর্তন- যাতে আপনি বিভিন্ন শহরে কার্যকরভাবে দূষণ রোধ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ওই জলকামানটি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে ‘ফগ ক্যানন’ হিসেবে। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান কাউড টেক তৈরি করেছে এই মেশিন। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই ফগ ক্যানন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, বাতাসে ধুলোবালির সমস্যা সমাধানে এটি ব্যবহার করা যায়। উন্মুক্ত অবস্থায় খনিতে আহরণ, বিভিন্ন ভবন বা অবকাঠামো ধ্বংস করার সময় এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে ধুলাবালি বাতাসের সঙ্গে মিশে আকাশে উঠে যায় তা আবার মাটিতে নামিয়ে আনতে বেশ কার্যকর এই ফগ ক্যানন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে যতগুলো শহরের মধ্যে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হলো দিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক এজেন্সি নির্ধারিত যে মাত্রাকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অস্থাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে দিল্লিতে বায়ু দূষণ তার চেয়ে পাঁচগুন বেশি।