০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

এবার আমরণ অনশনের ঘোষণা শিক্ষক-কর্মচারীদের

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী রোববার সকাল নয়টা থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। দেশের সরকার স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে তাঁরা অনশন করবেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা বৈঠক করে এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, কোনো রকম আশ্বাস নয়, এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন থেকে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না। দাবি আদায়ের জন্য এ পর্যন্ত ২০ বার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়, প্রতিবারই সরকার শুধু আশ্বাসই দিয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ছাড়াও কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে ও রাস্তায় শুরু হয়। আজ শুক্রবার ছিল কর্মসূচির চতুর্থ দিন। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর সমাগম হয়। এ ছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অবস্থান নিয়েছিলেন। আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন। তাঁরা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি শুরু না হলেও আন্দোলনকারী অনেকেই প্রায় না খেয়ে আছেন।

অবস্থানরত শিক্ষক নেতারা বলেন, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ৯৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনানির্ভর। বিভিন্ন স্তরে সাত হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে; যা এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার ভাগের এক ভাগ। ১৫ থেকে ২০ বছর বিনা বেতনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বক্তারা তাঁদের এহেন মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। গত মঙ্গলবার ফেডারেশনের দাবি-সংবলিত একটি আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় সারা দেশের নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি ও তাঁর শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হবে, সেটা ঠিক করতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা যে নীতিমালা করে দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

এবার আমরণ অনশনের ঘোষণা শিক্ষক-কর্মচারীদের

প্রকাশিত : ০৭:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী রোববার সকাল নয়টা থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। দেশের সরকার স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে তাঁরা অনশন করবেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা বৈঠক করে এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, কোনো রকম আশ্বাস নয়, এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন থেকে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না। দাবি আদায়ের জন্য এ পর্যন্ত ২০ বার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়, প্রতিবারই সরকার শুধু আশ্বাসই দিয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ছাড়াও কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে ও রাস্তায় শুরু হয়। আজ শুক্রবার ছিল কর্মসূচির চতুর্থ দিন। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর সমাগম হয়। এ ছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অবস্থান নিয়েছিলেন। আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন। তাঁরা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি শুরু না হলেও আন্দোলনকারী অনেকেই প্রায় না খেয়ে আছেন।

অবস্থানরত শিক্ষক নেতারা বলেন, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ৯৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনানির্ভর। বিভিন্ন স্তরে সাত হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে; যা এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার ভাগের এক ভাগ। ১৫ থেকে ২০ বছর বিনা বেতনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বক্তারা তাঁদের এহেন মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। গত মঙ্গলবার ফেডারেশনের দাবি-সংবলিত একটি আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় সারা দেশের নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি ও তাঁর শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হবে, সেটা ঠিক করতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা যে নীতিমালা করে দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।