চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানে ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে বিশেষ কায়দায় লুকানো চারটি স্বর্ণের দণ্ড এবং ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়ি। আটক যাত্রীর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকায়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আবুধাবি থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের BS-350 ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক বিষয়টি নজরে আসে। বিমানবন্দর কাস্টমস হলে স্ক্যানিংয়ের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ওই যাত্রীকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে বিমানবন্দর ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাঁর ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে যাত্রীর ব্যাগেজে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডিংয়ের যন্ত্র এবং স্টেইনলেস স্টিলের বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি স্বর্ণের দণ্ড উদ্ধার করা হয়। এসব দণ্ডের মোট ওজন ৪৬৬ গ্রাম। এ ছাড়া যাত্রীর কাছে থাকা ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়িও উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৫৬৬ গ্রাম।
আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর A13248461। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকার বাসিন্দা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার করা ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণের বিপরীতে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের চালানের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিরূপণের পর তা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাঁকে পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বর্ণ চোরাচালান ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, কাস্টমস এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যানিং, গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত তল্লাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে।
ডিএস./



















