ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা দশম ট্রেজারার হিসেবে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশেষ সাক্ষাৎকারে গত চার বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও চ্যান্সেলরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি নিবেদিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। অর্পিত দায়িত্ব আমি অনুরাগ বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ তিনজন মিলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক যে ধারা যেমন প্রশাসনিক, একাডেমিক, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গতি ও আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।
যেটি সকলেই দেখছে ও দেখবে। আর্থিক ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই চার বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক যে অবস্থা ও ব্যবস্থা ছিলো সেটিকে আরও সুচারু ও সুশৃঙ্খল ও আর্থিক ভিতকে মজবুত করতে সক্ষম হয়েছি। একারণেই আমি বলছি যে এবছরের শেষে ও গত চার বছরে চেষ্টায় এবছরে আমাদের বাজেটে কোন ঘাটতি হয়নি। আমরা এমনভাবে আমাদের আয়ের ব্যয়ের একটা সমন্বয় রেখেছি এবং প্রত্যেকটা বিষয় খরচের ক্ষেত্রে পুঙখানুপুঙখ বিশ্লেষণ করে আমরা খরচ করেছি।
বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ট্রেজারার হিসেবে যখন দায়িত্বে আসি তখন ইউজিসি ও সরকার থেকে ১৯ ও ২৩ টি অনেক বড় বড় অডিট আপত্তি ছিলো আমরা ইউজিসি ও অডিটের সাথে বসে সেটা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান প্রশাসনের আমলে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মাত্র ৬টি অডিট আপত্তি হয়েছে। বাকি দুুুইটি অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত অডিট আপত্তি নেই। এ পদে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করতে পেরে তিনি খুশি প্রকাশ করে বলেন, আমার বর্তমান রানিংমেটদের সাথে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি।
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য সব সময় আমাকে সহযোগিতা করে আসছেন। ওনারা নির্ভীকভাবে, নিবেদিতভাবে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য স্বপ্ন দেখেছেন, পরিপূর্ণ সময় দিয়েছেন। আমাদের তিনজনের সমন্বয় হয়েছে বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিকতা থাকলে আগামীতে ইবি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আসীন হবে এবং এই অর্থনৈতিক ভিতটা সুচারুভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মপরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কোন সমস্যা হবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই যেন পরবর্তীতে আইনের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করতে পারি।
বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ


























