০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানিতে বাড়িঘরে হাটু থেকে কোমর পানি ওঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন চরাঞ্চলের মানুষগুলো। এসব চরের মানুষ গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেখানে শুকনা খাবার সরবরাহ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রবিবার সরেজমিন উপজেলার উড়িয়া ও ফজলুপুর ইউনিয়নের চরগুলো ঘুরে এসব চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুইটি জামে মসজিদ, জিগাবাড়ী বাজার নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জিগাবাড়ী ঈদগাঁ মাঠ, একটি বিএস কোয়ার্টার, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও এরেন্ডাবাড়ী বাজার। নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরেই এসব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে। তাছাড়া জিগাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ২৫০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। ইতিমধ্যে বাজার এলাকার জামে মসজিদটি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন জানান, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় চর কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝানঝাইড় কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কালাসোনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বন্যার পানি উঠেছে ৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তার মধ্যে ৮৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বন্যায় এ পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৬ টি পরিবার বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ১১০ মেট্টিকটন চাল, নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ৯৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং গো-খাদ্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে
৫০ মেট্টিকটন চাল, ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ও ১০৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
গত ৯ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪ সেঃমিঃ বৃদ্ধি পেয়ে রোববার বিকেল ৩টায় ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়।
বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানিতে বাড়িঘরে হাটু থেকে কোমর পানি ওঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন চরাঞ্চলের মানুষগুলো। এসব চরের মানুষ গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেখানে শুকনা খাবার সরবরাহ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রবিবার সরেজমিন উপজেলার উড়িয়া ও ফজলুপুর ইউনিয়নের চরগুলো ঘুরে এসব চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুইটি জামে মসজিদ, জিগাবাড়ী বাজার নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জিগাবাড়ী ঈদগাঁ মাঠ, একটি বিএস কোয়ার্টার, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও এরেন্ডাবাড়ী বাজার। নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরেই এসব প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে। তাছাড়া জিগাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ২৫০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। ইতিমধ্যে বাজার এলাকার জামে মসজিদটি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন জানান, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় চর কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝানঝাইড় কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কালাসোনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বন্যার পানি উঠেছে ৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তার মধ্যে ৮৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বন্যায় এ পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৬ টি পরিবার বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ১১০ মেট্টিকটন চাল, নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ৯৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা এবং গো-খাদ্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে
৫০ মেট্টিকটন চাল, ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ও ১০৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
গত ৯ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪ সেঃমিঃ বৃদ্ধি পেয়ে রোববার বিকেল ৩টায় ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়।
বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ