ঢাকা দুপুর ১২:৪৩, মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিব

পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিবকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আজ সোমবার দলের মনোনয়ন বোর্ডের ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রার্থীদের সাক্ষাতের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্ত জানান।

তিনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিবকে মনোনয়ন দেয়। হাবিব পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। একাদশ নির্বাচনেও তিনি দলের প্রার্থী ছিলেন।’

পাবনা-৪ আসনে মনোনয়নের জন্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্থানীয় শ্রমিক দলের নেতা আহসান হাবিব ফরম জমা দেন। বিকেলে দলের মনোনয়ন বোর্ড ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই প্রার্থীই গুলশান কার্যালয় থেকে সাক্ষাৎকারে যুক্ত হন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। গত ২ এপ্রিল সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে এই আসনটি শূণ্য হয়।

মনোনয়নের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের জনগণ মুক্তিযুদ্ধেও ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার আমাদের কান্ডারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ সরকারকে এই নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি-কারসাঁজি না করার আহ্বান জানান তিনি।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মনোনয়ন বোর্ড সভায় বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হাবিবুর রহমান হাবিব মনোনয়ন ফরম জমা দেন। সেখানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এরমধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের স্পেসকে বাড়ানোর চেষ্টা করছে তার দল। তাই উপনির্বাচনে যারাই মনোনয়ন পাবেন তারাই শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন, লড়াই করবেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার দেশের চিরাচরিত ভোট, নির্বাচন, গণতন্ত্র এটা পাল্টে দিয়েছেন। এখন তো দিনের ভোট রাতে হয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের পরিবর্তে বিচরণ করে চতুষ্পদী প্রাণী। এগুলোর ঐতিহ্য তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ। পাবনায় কতটুকু সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট হবে সেটা বলা মুশকিল।’

‘রাষ্ট্রশক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্র পুরোটাই ব্যবহার করা হয় ভোটের বিরুদ্ধে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে সরকার যেটা চায় সেটা পরিপূর্ণ করার জন্য’ বলেন তিনি।

‘বিএনপি নির্বাচনে হারার আগেই হেরে যায়’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘যদি হারার আগেই হেরে যাই, তাহলে তারা কেন রাষ্ট্রক্ষমতাকে কব্জা করেন? তারা পরাজিত হওয়ার আগেই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেন কেন? জনগণ কী রায় দেবেন সেটার অপেক্ষা না করে নিজেদের আগেই বিজয়ী ঘোষণা করেন। ওই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে অর্থাৎ দিনের ভোট রাতে করে অথবা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসতে দিয়ে তারা আগেই যেটা সেট করে রাখেন, যাদের বিজয়ী করবে তাদের দলের লোককে সেটা করে রাখেন। ২০০৯ সালের পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও একই কাজ করে আসছে। ওনারা যাদের নমিনেশন দেবেন সেই তো এমপি। ওনাদের তো ভোটের দরকার নেই।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন-পাবনা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহীম প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ