০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইনে ক্লাসেও উদাসীন কুবি শিক্ষকেরা

সজীব বণিক,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: করোনায় স্হবির হয়ে যাওয়া শিক্ষাকার্যক্রমকে সচল করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।কিন্তু অনলাইন ক্লাস নিয়েও অসন্তোষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ঢিলেমিতে খোদ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অনলাইন ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে না তাদের।বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক বিভাগে সপ্তাহে একটি ক্লাসও নিচ্ছেন না শিক্ষকেরা।কোনো সেমিস্টারের কয়েকটা কোর্সের ঢিলেঢালাভাবে ক্লাস চললেও বাকী কোর্স শিক্ষকদের ক্লাসের ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়া যায় না বলেও জানা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,করোনার অজুহাতে অনেক শিক্ষক অাছেন যারা ক্লাস ফাঁকিতে ব্যস্ত।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, অনলাইন ক্লাসও নিয়মিত হচ্ছে না।নোটিশ অনুযায়ী এক সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর অন্য সেমিস্টার শুরু করার তারিখ দেওয়া থাকলেও ক্লাসের ব্যাপারে ভাবছেন না বিভাগের শিক্ষকেরা।এছাড়া অাট মাস হয়ে গেলেও সেমিস্টারের রেজাল্ট প্রকাশেও ব্যর্থ তারা।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের ব্যাপারে অনেক শিক্ষক উদাসীন।তবে কয়েকটা কোর্স ভালোভাবে চললেও দেখা যায় একজন কিংবা দুজন শিক্ষকের জন্যে পুরো সেমিস্টারে পিছিয়ে পড়তে হয়।শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অাচরণের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে ক্লাস না নেবার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার কথা বলছেন এই শিক্ষার্থী।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করা শর্তে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্নাতক এক শিক্ষার্থী বলেন,স্বাভাবিক সময়েও বিভাগের সেশনজট ও ক্লাসের ব্যাপারে উদাসীন শিক্ষকেরা।মাসের পর মাস সেশনজট থাকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে।নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের স্নাতক/সেমিস্টার শেষ করার ক্ষেত্রে যত অনীহা তাদের।করোনায় দীর্ঘ কয়েকমাস ক্লাসের বাহিরে থাকার পরও অনলাইন ক্লাস নিয়েও তাদের স্বেচ্ছাচারিতার শেষ নেই।অনলাইন ক্লাস নেওয়া ও পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাসের ব্যাপারে স্যারদের উদাসীনতায় অামরা হতাশ।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের ব্যাপারে স্যারদের সাথে কথা বললে বিরক্ত হন।সেমিস্টার শেষ হলেও পরবর্তী সেমিস্টার নিয়ে নেই কোনো গাইডলাইন। করোনায় অনেকদিন বসে থাকার পরও অ্যাকাডেমিক জায়গা শক্ত করতে শিক্ষকদের বিরক্তি মনোভাবে হতাশ হচ্ছি।কোর্স শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে অাছেন যারা অল্প কয়েকটি ক্লাস কোনোভাবে নিয়ে দায়সারাভাবে কোর্স সমাপ্তিতে ব্যস্ত। নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করা শর্তে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের শিডিউল বলতে কিছু নেই। নিয়মিত ক্লাস না হয়ে অনেক সময় এক সপ্তাহ পরপর ক্লাস হচ্ছে।তারপরও সবগুলো কোর্সের ক্লাস নিয়মিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি.এম মনিরুজ্জামান বলেন,অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকদের ঢিলেমিভাব রাখা ঠিক নয়।দীর্ঘ কয়েকমাস শিক্ষাকার্যক্রমের বাহিরে থাকা শিক্ষার্থীদের মনোবল ও সেশনজট কমাতে অনলাইন ক্লাসও বেশ উপযোগি।করোনার এ সময়ে শিক্ষকদের অনেক প্রতিকূল অবস্হা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অালাদা ভাবনা করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.অাবু তাহের জানান,শিক্ষার্থীরা করোনার ছুটিতে মানসিকভাবে এমনিতে বিপর্যস্ত। তাদের মনোবল ফেরাতে হবে।অনলাইন ক্লাস নিয়ে যে অভিযোগ তা অত্যন্ত দু:খজনক।উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই ডিনদের সাথে অালোচনা করা হবে। অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষকদের ঢিলেমি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

অনলাইনে ক্লাসেও উদাসীন কুবি শিক্ষকেরা

প্রকাশিত : ০১:২০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
সজীব বণিক,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: করোনায় স্হবির হয়ে যাওয়া শিক্ষাকার্যক্রমকে সচল করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।কিন্তু অনলাইন ক্লাস নিয়েও অসন্তোষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ঢিলেমিতে খোদ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অনলাইন ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে না তাদের।বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক বিভাগে সপ্তাহে একটি ক্লাসও নিচ্ছেন না শিক্ষকেরা।কোনো সেমিস্টারের কয়েকটা কোর্সের ঢিলেঢালাভাবে ক্লাস চললেও বাকী কোর্স শিক্ষকদের ক্লাসের ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়া যায় না বলেও জানা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,করোনার অজুহাতে অনেক শিক্ষক অাছেন যারা ক্লাস ফাঁকিতে ব্যস্ত।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, অনলাইন ক্লাসও নিয়মিত হচ্ছে না।নোটিশ অনুযায়ী এক সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর অন্য সেমিস্টার শুরু করার তারিখ দেওয়া থাকলেও ক্লাসের ব্যাপারে ভাবছেন না বিভাগের শিক্ষকেরা।এছাড়া অাট মাস হয়ে গেলেও সেমিস্টারের রেজাল্ট প্রকাশেও ব্যর্থ তারা।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের ব্যাপারে অনেক শিক্ষক উদাসীন।তবে কয়েকটা কোর্স ভালোভাবে চললেও দেখা যায় একজন কিংবা দুজন শিক্ষকের জন্যে পুরো সেমিস্টারে পিছিয়ে পড়তে হয়।শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অাচরণের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে ক্লাস না নেবার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার কথা বলছেন এই শিক্ষার্থী।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করা শর্তে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্নাতক এক শিক্ষার্থী বলেন,স্বাভাবিক সময়েও বিভাগের সেশনজট ও ক্লাসের ব্যাপারে উদাসীন শিক্ষকেরা।মাসের পর মাস সেশনজট থাকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে।নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের স্নাতক/সেমিস্টার শেষ করার ক্ষেত্রে যত অনীহা তাদের।করোনায় দীর্ঘ কয়েকমাস ক্লাসের বাহিরে থাকার পরও অনলাইন ক্লাস নিয়েও তাদের স্বেচ্ছাচারিতার শেষ নেই।অনলাইন ক্লাস নেওয়া ও পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাসের ব্যাপারে স্যারদের উদাসীনতায় অামরা হতাশ।
নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করার শর্তে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের ব্যাপারে স্যারদের সাথে কথা বললে বিরক্ত হন।সেমিস্টার শেষ হলেও পরবর্তী সেমিস্টার নিয়ে নেই কোনো গাইডলাইন। করোনায় অনেকদিন বসে থাকার পরও অ্যাকাডেমিক জায়গা শক্ত করতে শিক্ষকদের বিরক্তি মনোভাবে হতাশ হচ্ছি।কোর্স শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে অাছেন যারা অল্প কয়েকটি ক্লাস কোনোভাবে নিয়ে দায়সারাভাবে কোর্স সমাপ্তিতে ব্যস্ত। নাম ও ব্যাচ প্রকাশ না করা শর্তে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান,ক্লাসের শিডিউল বলতে কিছু নেই। নিয়মিত ক্লাস না হয়ে অনেক সময় এক সপ্তাহ পরপর ক্লাস হচ্ছে।তারপরও সবগুলো কোর্সের ক্লাস নিয়মিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি.এম মনিরুজ্জামান বলেন,অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকদের ঢিলেমিভাব রাখা ঠিক নয়।দীর্ঘ কয়েকমাস শিক্ষাকার্যক্রমের বাহিরে থাকা শিক্ষার্থীদের মনোবল ও সেশনজট কমাতে অনলাইন ক্লাসও বেশ উপযোগি।করোনার এ সময়ে শিক্ষকদের অনেক প্রতিকূল অবস্হা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অালাদা ভাবনা করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.অাবু তাহের জানান,শিক্ষার্থীরা করোনার ছুটিতে মানসিকভাবে এমনিতে বিপর্যস্ত। তাদের মনোবল ফেরাতে হবে।অনলাইন ক্লাস নিয়ে যে অভিযোগ তা অত্যন্ত দু:খজনক।উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই ডিনদের সাথে অালোচনা করা হবে। অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষকদের ঢিলেমি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ