জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা চুরির মামলা ও বিনা অপরাধে কারাভোগ করানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ। মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনা মহামারীতে যখন বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব আক্রান্ত তখন এই পরিস্থিতিতেও আমাদের রাস্তায় দাড়াতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বারবার দেখছি বিভিন্ন জবিয়ানদের পরিবার আশেপাশের প্রতিবেশীদের দ্বারা হামলা, মিথ্যা মামলা এবং পরবর্তীতে পুলিশের হয়রানি শিকার হচ্ছেন অনেকে। এমই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন। বোনের শ্বশুড় বাড়ি থেকে চাওয়া যৌতুকের প্রতিবাদ করায় সে এখন মিথ্যাচুরির মামলার আসামী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা অনতিবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় বোন সীমা আক্তারের সাথে দোহার উপজেলার শৃ-কৃষ্ণপুরের জসিম আহমেদের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের এক পর্যায়ে স্বামী জসিম যৌতুকের জন্য সীমাকে নিয়মিত নির্যাতন করলে সেখান থেকে বাবার বাড়ি চলে আসে এবং সীমা বাদি হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালত আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দুটি মামলা দেয়। এর এক পর্যায়ে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে দুইপক্ষের মধ্যে বিচ্ছেদের সীদ্ধান্ত হয় এবং খোরাকি ও দেন মোহর বাবদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা স্ত্রীকে দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। তখন জসিম শালিসের সময় রায় মেনে নিলেও পরে সে রায় না মেনে তার স্ত্রী সীমা আক্তারকে ১ নং আসামী, তার বাবা সিরাজুল ইসলামকে ২ নং আসামী ও তার ছোট ভাই জবি শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেনকে ৩ নং আসামী করে ঢাকা দোহার থানায় উল্টো চুরি মামলা করে। মামলা তদন্তের ভার দেওয়া হয় এস আই রাজ্জাক (সিআইডি), মালিবাগ ব্রাঞ্চ।
এ মামলায় গত ২৫ আগষ্ট জবি শিক্ষার্থী নাজমুল ও তার বাবা সিরাজুল ইসলামকে বিনা নোটিশেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ১২ দিন কারাভোগ করে। পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর হাজিরা দেওয়ার শর্তে জামিন নেয় তারা। জেল থেকে বেড়িয়ে আসলে মোবাইল ফোনে, মেসেজে এবং সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় নাজমুলের বোনকে বেশ্যা, দেহব্যবসায়ী ইত্যাদি বলে প্রচার চালাচ্ছে এবং নাজমুলকে বলেছে ভবিষ্যৎ তোমার বোনের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
সীমা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমাকে অনবরত নির্যাতন করতো। আমি আমার পিতার বাড়ি চলে আসার আগে আমাকে একটানা ৭ দিন না খেতে দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাইছে। আমার ফোনটিও নিয়ে গিয়ে আমাদেও পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন কওে রাখে। এমত অবস্থায় আমার চাচা গেলে আমাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায় এবং আমার পিতার বাড়িতে নিয়ে আসে। এখন আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বলতেছে আমি নাকি ২৫ ভরি স্বর্ণ ও টাকা পয়সা নিয়ে নাকি একাই চলে এসেছি। এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার ন্যায্য অধিকার দেনমোহর ও আমার ছোট বাচ্চার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত কওে উল্টো আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা দিয়ে হেনস্থা করতেছে। আমি এই মিথ্যা মামলার ন্যায় বিচার চাই। আমাদের এই অস্বচ্ছল পরিবারকে হয়রানি এবং আমার ভাইকে জড়ানোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও কুরুচিকর মন্তব্য করতেছে এবং ব্যাক্তিগত ছবি প্রকাশ করারও হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে জবি শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। এ ঘটনার সাথে আমি বা আমার পরিবারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের অস্বচ্ছল পরিবার ও আমার ভবিষ্যৎ চাকরি জীবনে সমস্যা করতেই এ মামলা দেওয়া হয়। আমরা এ মামলা থেকে দ্রুত অব্যহতি চাই।
সিআইডি এর সাব ইন্সপেক্টর এস আই রাজ্জাক বলেন, চুরি ও ছিনতাই এর অভিযোগ সহ নাজমুল এর দুলাভাই চারটি ধারায় মামলা করেছে। দোহার থানা থেকে মামলা সিআইডিতে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এখনও কোন তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। বিনা নোটিশে গ্রেপ্তার করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা দিলে চাইলেই সাথে সাথে গ্রেপ্তার করার যায়, নোটিশ দরকার হয়না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালের কাছে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শুনেছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে কোন শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য ঢাকা জেলা এডিশনাল এসপিকে বিষয়টা দেখতে বলেছি। আমাদের শিক্ষার্থী যাতে ন্যায় বিচার পায় তার জন্য যা করা দরকার আমরা চেষ্ঠা করবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


























