অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে । সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ কাজটি সম্পন্ন করা হবে। তবে এই সড়কটি ৬ লেনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই সড়কটির কাজ শেষ হলে এলাকাবাসীর জন্য স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে ।এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে চালু হওয়া নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক দিয়ে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সকল প্রকার যানবহন চলাচল করে থাকে । এই সড়কে এত চাপ সৃষ্টি হয় যে, মাত্র ১০ মিনিটে জ্যাম সৃষ্টি হলে হাজারো গাড়ি ও মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অথচ যে পরিমাণ যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে, সে অনুযায়ী সড়কটি যথেষ্ট চওড়া নয়। এজন্য প্রায় প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিবছর অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। এজন্য যানবাহন মালিক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ সহ সংশ্লিষ্ট সবাই সড়কটি সংস্কারসহ প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন থেকে। তবে ভোটের আগে রাজনৈতিক নেতারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন। কিন্তু কোন কার্যকর হয়নি। এবার কাজ শুরু হওয়ায় তারা খুব খুশি এবং আশাবাদী। এ নিয়ে নানাভাবে আশার কথা ব্যক্ত করেছেন তারা। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় শস্য ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদ হাসান জানান, বিভিন্ন এলাকা হতে শস্য কিনে ট্রাকে করে মালামাল গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু দিনের বেলায় এই মহাসড়ক দিয়ে মালবাহী এবং ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তাই তাদের মালামাল যথাস্থানে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। এতে ব্যবসায়িকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কাজেই এই সড়কটি প্রশস্তকরণ করা হলে তাদের মালবাহী যানবাহন চলাচলে আর বাধা থাকবে না । খুব সহজেই এবং যথাসময়ে তাদের মালামাল গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে।স্থানীয় অটোরিকশা চালক মোঃ ইদ্রিস আলী, আবেদ আলী, আক্কাস আলী সহ আরো অনেকে জানান, নাটোর শহর থেকে যাত্রী নিয়ে দিঘাপতিয়া যেতে খুব ঝুঁকির নিয়ে অটোরিক্সা চালাতে হয়। এই মহাসড়কে অধিক পরিমাণ যানবাহন দ্রুত চলাচলের কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। সড়কটি চারলেনে রূপান্তরিত হলে তাদের সেই সমস্যা আর থাকবে না।দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের শিক্ষার্থী মহিমা মনি ও মনোয়ার হোসেন বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করার কারণে অনেক ঝুঁকি নিয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বলা চলে শঙ্কা নিয়ে তাদের চলতে হয়। তাই এই মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ করা খুব দরকার। সম্প্রতি এই মহাসড়ক চার লেনে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছে জেনে তারা খুব খুশি। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের প্রভাষক মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, এই মহাসড়ক দিয়ে শুধু উত্তরাঞ্চলে যোগাযোগ নয়। আন্তঃ উপজেলা আন্ত ইউনিয়ন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। এই মহাসড়কটি জেলা শহরে প্রবেশের একমাত্র পথ। এছাড়া উত্তরা গণভবন ও দিঘাপতিয়া এম কে কলেজ যাতায়াত করতে এই মহাসড়কটি বাবার করতে হয়। কিন্তু এই মহাসড়কেও অতি ভয়ঙ্কর । অনেকটা শঙ্কা নিয়ে এই পথ দিয়ে চলতে হয় তাদের। এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে তাদের আনন্দের আর সীমা থাকবে না। অনেকটা শঙ্কামুক্ত ভাবেই চলাচল করতে পারবেন তারা।দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওমর শরীফ চৌহান বলেন, উত্তরাঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যান চলাচলের জন্য এটাই একমাত্র মহাসড়ক। যে সড়ক দিয়ে অতিমাত্রায় যানবাহন চলাচল করে। এতে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এছাড়া দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দিঘাপতিয়া উত্তরা গণভবন পরিদর্শন করতে আসা দর্শনার্থীরাও নানা বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হয় এইসব মহাসড়ক দিয়ে। তাই এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে সকল সমস্যার সমাধান হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে লাঘব হবে।হাইওয়ে পুলিশের ঝলমলিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সড়ক ও দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক প্রশ্বস্ত হওয়া জরুরী। এক্ষেত্রে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের মাদ্রাসা মোড় হতে দিঘাপতিয়া পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মিত হলে অবশ্যই দুর্ঘটনা রোধ হবে। কারণ ইতোপূর্বে এই সড়কটি শরু হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারনে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটতো। এতে প্রাণহানিও ঘটেছে অনেক। চার লেনের এই সড়কটির কাজ সমাপ্ত হলে এসব শঙ্কা কেটে যাবে।নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহিম জানান, সম্প্রতি একনেকের বৈঠকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭০৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষের ৫০ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিনি বলেন, বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ থেকে নাটোর শহর পর্যন্ত সাতটি প্যাকেজে এই সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হবে। এরমধ্যে নাটোর অংশে ৪টি প্যাকেজে ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। ইতোমধ্যে নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড় হতে ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার ৪ লেনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮১ কোটি টাকা। অপরদিকে ৬৩ কোটি ৬৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সিংড়ার খেজুরতলা থেকে শেরকোল পর্যন্ত ৩৫ ফুট করে সড়ক চওড়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ





















