টাঙ্গাইলের বাসাইলে বেইলিব্রিজ ভেঙ্গে জেলা শহর টাঙ্গাইলের সাথে বাসাইল, সখিপুর উপজেলাসহ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে এসব এলাকার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তির স্বিকার হচ্ছে। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশীল ইউনিয়নের নাকাছিম এলাকায় লাঙ্গুলিয়া নদীর উপর নির্মিত বেইলিব্রিজে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক পার হবার সময় ট্রাকসহ ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীতে পড়ে। এতে করে টাঙ্গাইলের সাথে বাসাইল ও সখিপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে গত বছর লাঙ্গুলীয়া নদীর উপর নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। জন সাধারনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওই সময় পুরাতন বেইলি ব্রিজটি পুনরায় মেরাতম করা হয়। সম্প্রতিক বন্যায় পানির স্রোতে ব্রীজটি বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ওই ব্রিজ দিয়ে ভারিযান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও প্রায়ই রাতের আধাঁরে বালুবাহি ছোট বড় ট্রাকসহ ভারিযান যাতায়াত অব্যাহত ছিলো। রবিবার রাতে বালুভর্তি একটি ড্রামট্রাক ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছালে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এসময় ট্রাকের চালক নিরাপদে গাড়ি থেকে নামতে পারলেও হেলপার ট্রাকের ভেতর আটকা পওে যায়। টাঙ্গাইল এবং বাসাইল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দীর্ঘ তিন ঘন্টা চেষ্টা করার পর রাত দু’টোর সময় হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাসাইল, সখিপুর, ভালুকাসহ কালিহাতি উপজেলার দক্ষিনাংশ, মির্জাপুর উপজেলার উত্তরাংশের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত সংকট সৃষ্টি হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজের দুইপাড়ে প্রায় অর্ধসহ¯্রাধীক সিএনজি, ব্যাটারী চালিত অটো, অটো রিক্সা, পিকআপ, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর গাড়ি, মোটর সাইকেল আটকা পড়ে আছে। এতে করে এসব এলাকার সরকারি, বেসরকারি, এনজিও প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবিরা টাঙ্গাইল থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন তারাও ব্যাপক দূর্ভোগে পড়েছেন। এ আগে গত ১ অক্টোবর এসব এলাকার বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিচিত বাসাইল-নাটিয়াপাড়া রোডের একটি কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে ওই সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শামসুল আলম নামের ব্যক্তি বলেন, আমি টাঙ্গাইলে চাকুরী করি। প্রতিদিন এ সড়কে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ব্রীজ ভেঙ্গে পড়া নৌকা যোগে নদী পার হয়েছি।’
আবু বক্কর সিদ্দিক নামে অপর জন বলেন, ‘ব্রিজ ভেঙ্গে পড়া নৌকা দিয়ে পাড়াপাড় হতে হচ্ছে। এতে করে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটি বেড়ে গেছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাক উঠানোর কাজ চলছে। ট্রাক উঠিয়েই ব্রীজ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। আশাকরছি পরবর্তী দুইদিনের মধ্যেই চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।’
বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ‘দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যেই চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ছিলো। বালুবাহী অভারলোডেট ট্রাকের কারনে বেইলীব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। নির্মানাধীন ব্রিজের ঠিকাদারকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে ব্রীজ মেরামতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বালুভর্তি অভারলোড ট্রাক যাওয়ায় ব্রীজের এক অংশ ভেঙ্গে গেছে। আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছে। দ্রæত সময়ে মধ্যে বাসাইলের সাথে টাঙ্গাইলের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর






















