০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

নবীগঞ্জে নেই ময়লা পরিশোধনের কোনো ডাম্পিং স্টেশন, অতিষ্ট পৌরবাসী

নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দুই যুগেও (২৪ বছরে) নেই ময়লা পরিশোধনের ডাম্পিং স্টেশন। ফলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পৌরশহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শাখা বরাক নদীসহ একাধিক স্পট। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা শাখাবরাক নদীর বেশিরভাগ স্থান ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হলেও অনেকে সেই পানি গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করছেন

অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হতে যাচ্ছে।

১৯৯৭ সালে স্থাপিত নবীগঞ্জ পৌরসভা ২০০৫ সালে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে ও ২০১৩ সালে ‘খ’ থেকে ‘ক’ (প্রথম) শ্রেণিতে উন্নীত হয়। প্রায় ৯ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার বিশ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। নাগরিক সুবিধার জন্য রয়েছে ২টি হাটবাজার, ১টি কসাইখানা, ৪২ কিলোমিটার পাকারাস্তা, ৮ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা, ৬ কিলোমিটার পাকা ড্রেন, দেড় কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন ও ৫৫০টি সড়কবাতি।

পৌর শহরের মধ্য বাজারের ব্যবসায়ী সাহান চৌধুরী, ও মিনহাজুল হক রাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন খালে বর্জ্য ফেলা হয়। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রগ্রাম সড়কের শিবপাশা ও নোয়াপাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমন দাশ ও এরশাদ মিয়া জানান, নোয়াপাড়া এলাকার সড়কের প্রবেশ মুখে ব্রিজ ও রাস্তার এক পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আমরা ওই ময়লার দুর্গন্ধে এখন অতিষ্ট। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নাকে কাপড় পেঁচিয়ে কোনো রকমে ওই এলাকা পার হয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, বর্জ্য-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারে মানুষের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থেকেও একই রকম ঝুঁকি থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম জানান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশবান্ধব পৌরসভার জন্য ডাম্পিং জোন প্রয়োজন। এ ছাড়াও পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ববি মজুমদার জানান, পৌর শহরের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাম্পিং স্টেশন একান্ত প্রয়োজন। ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া দানবীর ব্যক্তির কাছ থেকেও জমি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। জমি পেলে এই সমস্যা আর থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র- ১, এটিএম সালাম জানান, আমরা পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করতে চাই। কিন্তু জমি না পাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে না। শহরের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও আবর্জনা ডাম্পিং করতে না পারায় পৌরবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমি ডাম্পিং জোনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি চেয়ে আসছি। কিন্তু নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত তা পাইনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করি জায়গাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কিছু দিনের মধ্যে ডাম্পিং জোন নির্মাণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

নবীগঞ্জে নেই ময়লা পরিশোধনের কোনো ডাম্পিং স্টেশন, অতিষ্ট পৌরবাসী

প্রকাশিত : ০৩:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০

নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দুই যুগেও (২৪ বছরে) নেই ময়লা পরিশোধনের ডাম্পিং স্টেশন। ফলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পৌরশহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শাখা বরাক নদীসহ একাধিক স্পট। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা শাখাবরাক নদীর বেশিরভাগ স্থান ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হলেও অনেকে সেই পানি গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করছেন

অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হতে যাচ্ছে।

১৯৯৭ সালে স্থাপিত নবীগঞ্জ পৌরসভা ২০০৫ সালে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে ও ২০১৩ সালে ‘খ’ থেকে ‘ক’ (প্রথম) শ্রেণিতে উন্নীত হয়। প্রায় ৯ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার বিশ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। নাগরিক সুবিধার জন্য রয়েছে ২টি হাটবাজার, ১টি কসাইখানা, ৪২ কিলোমিটার পাকারাস্তা, ৮ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা, ৬ কিলোমিটার পাকা ড্রেন, দেড় কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন ও ৫৫০টি সড়কবাতি।

পৌর শহরের মধ্য বাজারের ব্যবসায়ী সাহান চৌধুরী, ও মিনহাজুল হক রাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন খালে বর্জ্য ফেলা হয়। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রগ্রাম সড়কের শিবপাশা ও নোয়াপাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমন দাশ ও এরশাদ মিয়া জানান, নোয়াপাড়া এলাকার সড়কের প্রবেশ মুখে ব্রিজ ও রাস্তার এক পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আমরা ওই ময়লার দুর্গন্ধে এখন অতিষ্ট। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নাকে কাপড় পেঁচিয়ে কোনো রকমে ওই এলাকা পার হয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, বর্জ্য-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারে মানুষের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থেকেও একই রকম ঝুঁকি থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম জানান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশবান্ধব পৌরসভার জন্য ডাম্পিং জোন প্রয়োজন। এ ছাড়াও পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ববি মজুমদার জানান, পৌর শহরের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাম্পিং স্টেশন একান্ত প্রয়োজন। ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া দানবীর ব্যক্তির কাছ থেকেও জমি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। জমি পেলে এই সমস্যা আর থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র- ১, এটিএম সালাম জানান, আমরা পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করতে চাই। কিন্তু জমি না পাওয়ায় এটি সম্ভব হচ্ছে না। শহরের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও আবর্জনা ডাম্পিং করতে না পারায় পৌরবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমি ডাম্পিং জোনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি চেয়ে আসছি। কিন্তু নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত তা পাইনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করি জায়গাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কিছু দিনের মধ্যে ডাম্পিং জোন নির্মাণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর