১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পাগলারমুখ হতে মালিঝি নদীর বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ৩ বছরেও সংস্কার হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার দু’পাড়ের ১৫ গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ। সম্প্রতি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন বলছে, বাঁধ সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

সোমবার সরেজমিন গেলে পারাপারে লোকজন ও এলাকাবাসীসহ প্রশাসনের সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাগলারমুখ হতে তিনানী সড়কে মালিঝি নদীর বেড়িবাঁধ। ২০১৭ সালে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিধ্বস্ত হয় বাঁধটি। বিচ্ছিন্ন হয় দু’পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দারা বেড়িবাঁধের বিধ্বস্ত অংশে নির্মাণ করে বাঁশের সাঁকো।

এ বাঁধের পাশে ঘাগড়া কামারপাড়ার শামসুল হক, শফিউল্লাহ ও আলামিনসহ অনেকেই জানান, হাতীবান্ধা, ঘাগড়া, কামারপাড়া, মিরপাড়া, চকপাড়া, মোল্লাপাড়া, পাগলারমুখ, পাগলারপাড়, তিনানী, সুরিহারা, বেলতলী ও কাঠালতলীসহ কমপক্ষে ১৫ গ্রামের মানুষ এই বেঁড়ি বাঁধের পথে যাতায়াত করে। প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাঁকো।

হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন  বলেন, বিধ্বস্ত বেড়ি বাঁধটি সংস্কারের অভাবে শতশত মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে বেড়ে যায় দুর্ভোগের মাত্রা। গবাদিপশু পারাপারে চরম বিড়ম্বনার পড়তে হয় কৃষকদের। লক্কর ঝক্কর এ বাঁশের সাঁকো পারাপারে আতংকিত হয়ে পড়ে কোমলমতি শিশু কিশোররা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া বিধ্বস্ত বেড়িবাধেঁর ভাঙা অংশ দিয়ে পানির সাথে প্রবেশ করছে বালু। এতে ফসলি জমি হচ্ছে অনাবাদী।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা বলেন, বাধঁটি সংস্কারে বিভিন্ন সময় উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো কাজে আসেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, বাধঁটি নদীর পাড় ঘেঁষে। এ জন্য এলজিইডি’র কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব।

ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেছ নাইম বলেন, বাঁধটি সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অতি সত্বর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ট্রেনে ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি আজ

বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

প্রকাশিত : ০৪:২৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পাগলারমুখ হতে মালিঝি নদীর বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ৩ বছরেও সংস্কার হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার দু’পাড়ের ১৫ গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ। সম্প্রতি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন বলছে, বাঁধ সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

সোমবার সরেজমিন গেলে পারাপারে লোকজন ও এলাকাবাসীসহ প্রশাসনের সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাগলারমুখ হতে তিনানী সড়কে মালিঝি নদীর বেড়িবাঁধ। ২০১৭ সালে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিধ্বস্ত হয় বাঁধটি। বিচ্ছিন্ন হয় দু’পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দারা বেড়িবাঁধের বিধ্বস্ত অংশে নির্মাণ করে বাঁশের সাঁকো।

এ বাঁধের পাশে ঘাগড়া কামারপাড়ার শামসুল হক, শফিউল্লাহ ও আলামিনসহ অনেকেই জানান, হাতীবান্ধা, ঘাগড়া, কামারপাড়া, মিরপাড়া, চকপাড়া, মোল্লাপাড়া, পাগলারমুখ, পাগলারপাড়, তিনানী, সুরিহারা, বেলতলী ও কাঠালতলীসহ কমপক্ষে ১৫ গ্রামের মানুষ এই বেঁড়ি বাঁধের পথে যাতায়াত করে। প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাঁকো।

হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন  বলেন, বিধ্বস্ত বেড়ি বাঁধটি সংস্কারের অভাবে শতশত মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে বেড়ে যায় দুর্ভোগের মাত্রা। গবাদিপশু পারাপারে চরম বিড়ম্বনার পড়তে হয় কৃষকদের। লক্কর ঝক্কর এ বাঁশের সাঁকো পারাপারে আতংকিত হয়ে পড়ে কোমলমতি শিশু কিশোররা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া বিধ্বস্ত বেড়িবাধেঁর ভাঙা অংশ দিয়ে পানির সাথে প্রবেশ করছে বালু। এতে ফসলি জমি হচ্ছে অনাবাদী।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা বলেন, বাধঁটি সংস্কারে বিভিন্ন সময় উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো কাজে আসেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, বাধঁটি নদীর পাড় ঘেঁষে। এ জন্য এলজিইডি’র কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব।

ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেছ নাইম বলেন, বাঁধটি সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অতি সত্বর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ