০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি রাজস্বকরণের দাবি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিএইচসিপি এসোসিয়েশন

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি রাজস্বকরণের দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সংগঠন বাংলাদেশ সিএইচসিপি এসোসিয়েশন। রোববার, ১ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে লিখিত মূল বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মো. মাকসুদুর রহমান জিলাদার।

মাকসুদুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারা ২০১১ সাল থেকে কর্মরত আছেন। সেই থেকে এই প্রতিষ্ঠান হয়ে সকল কাজ করে যাচ্ছেন। সিএইচসিপিদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। নবজাতকের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জন্মনিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ আর পরামর্শ নিয়ে ৮০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) জরিপে উঠে এসেছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা নিয়ে ৯৮ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী (সিএইচসিপি) হিসেবে শুরুতে ১৩ হাজার ৫০০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এখানে কর্মরত আছেন।

যার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন। যুগ্ম মহাসচিব জানান, ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি আমরা অত্যন্ত সততা, একাগ্রতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত আমাদের চাকরি রাজস্ব করা হয়নি। এমনকি ৯ বছর চাকরি করলেও কোনো ইনক্রিমেন্ট পাইনি ।

আমাদের কোন ভবিষ্যৎ তহবিল নেই। আমাদের কোন সিএইচসিপি অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ বাবদ কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিনা। চাকরির জনিত দুশ্চিন্তা ও দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত আমাদের ৫৬ জন সহকর্মী মারা গেছেন। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। ৫ শতাধিক সহকর্মী করোনা দায়িত্ব পালনকালে কোভিড-১৯ পজিটিভ হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ কিংবা কোন প্রণোদনা পাইনি।

সিএইসসিপি স্বাস্থ্যকর্মীদের কোন অর্জিত ছুটি নেই। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত মাসিক বেতনও হচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কমিউনিটি ক্লিনিক তার জৌলুস হারাবে। সঙ্গে হারাবে এক ঝাঁক দক্ষ জনবল। ২০১১ সালে সিএইচসিপি মাসিক বেতন সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার ৩৫০টাকা নির্ধারণ করা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, এই স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন ৮৫০ টাকা কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রধান কার্যালয় থেকে বলা হয়- সর্বসাকুল্যে নয়, বেতন ১৪ তম গ্রেডের বেতন স্কেলে (৫২০০ টাকা) নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আমরা হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলাম কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য। রায়ও আমাদের পক্ষে পেয়েছি। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। ২ বছর পর ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আপীল আবেদন দায়ের করেন বিবাদী পক্ষ (কর্তৃপক্ষ)। যা সিএইচসিপিদের প্রাণের দাবি রাজস্বকরণের জন্য প্রতিবন্ধক ও কষ্টদায়ক। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান প্রদর্শন করি। কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবলকে রাজস্ব খাতে রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকের আনুষাঙ্গিক বিষয়াবলীকে সরকারের গঠন করার ট্রাস্টে ন্যন্ত করার অনুরোধ জানান তারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, বারবার তাদেরকে আশ্বস্ত করার নামে আইওয়াশ করা হয়েছে। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন মো. ফখরুল ইসলাম, মো. সুমন মাদবর, শেখ মহিবুল হাসান, মো. কাইয়ুম হোসেন প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুমিল্লায় শতাধিক মাল্টিমিডিয়া সংবাদকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি রাজস্বকরণের দাবি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের

প্রকাশিত : ০৭:১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০

বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি রাজস্বকরণের দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সংগঠন বাংলাদেশ সিএইচসিপি এসোসিয়েশন। রোববার, ১ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে লিখিত মূল বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মো. মাকসুদুর রহমান জিলাদার।

মাকসুদুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারা ২০১১ সাল থেকে কর্মরত আছেন। সেই থেকে এই প্রতিষ্ঠান হয়ে সকল কাজ করে যাচ্ছেন। সিএইচসিপিদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। নবজাতকের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জন্মনিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ আর পরামর্শ নিয়ে ৮০ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) জরিপে উঠে এসেছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা নিয়ে ৯৮ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী (সিএইচসিপি) হিসেবে শুরুতে ১৩ হাজার ৫০০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এখানে কর্মরত আছেন।

যার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন। যুগ্ম মহাসচিব জানান, ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি আমরা অত্যন্ত সততা, একাগ্রতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত আমাদের চাকরি রাজস্ব করা হয়নি। এমনকি ৯ বছর চাকরি করলেও কোনো ইনক্রিমেন্ট পাইনি ।

আমাদের কোন ভবিষ্যৎ তহবিল নেই। আমাদের কোন সিএইচসিপি অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ বাবদ কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিনা। চাকরির জনিত দুশ্চিন্তা ও দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত আমাদের ৫৬ জন সহকর্মী মারা গেছেন। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। ৫ শতাধিক সহকর্মী করোনা দায়িত্ব পালনকালে কোভিড-১৯ পজিটিভ হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ কিংবা কোন প্রণোদনা পাইনি।

সিএইসসিপি স্বাস্থ্যকর্মীদের কোন অর্জিত ছুটি নেই। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত মাসিক বেতনও হচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কমিউনিটি ক্লিনিক তার জৌলুস হারাবে। সঙ্গে হারাবে এক ঝাঁক দক্ষ জনবল। ২০১১ সালে সিএইচসিপি মাসিক বেতন সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার ৩৫০টাকা নির্ধারণ করা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, এই স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন ৮৫০ টাকা কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রধান কার্যালয় থেকে বলা হয়- সর্বসাকুল্যে নয়, বেতন ১৪ তম গ্রেডের বেতন স্কেলে (৫২০০ টাকা) নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আমরা হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলাম কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য। রায়ও আমাদের পক্ষে পেয়েছি। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। ২ বছর পর ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আপীল আবেদন দায়ের করেন বিবাদী পক্ষ (কর্তৃপক্ষ)। যা সিএইচসিপিদের প্রাণের দাবি রাজস্বকরণের জন্য প্রতিবন্ধক ও কষ্টদায়ক। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান প্রদর্শন করি। কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবলকে রাজস্ব খাতে রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকের আনুষাঙ্গিক বিষয়াবলীকে সরকারের গঠন করার ট্রাস্টে ন্যন্ত করার অনুরোধ জানান তারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, বারবার তাদেরকে আশ্বস্ত করার নামে আইওয়াশ করা হয়েছে। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন মো. ফখরুল ইসলাম, মো. সুমন মাদবর, শেখ মহিবুল হাসান, মো. কাইয়ুম হোসেন প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ