ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের পানিতে এবারো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বারবার চেষ্টা করেও এ ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না ভারত সীমান্ত ঘেষা এ অঞ্চলের কৃষকরা। জুলাই মাসে সৃষ্ট বন্যায় পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক কৃষক তাদের জেগে ওঠা জমিতে ধান, শীতকালীন শাকসবজি আবাদ করেছেন। গত ক’দিন আগে মুহুরী ও কহুয়া নদীর দুটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ফের ডুবেছে কৃষকের ফসল। একের পর এক বন্যায় ফসল হারিয়ে কৃষক এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত ৩০ আক্টোবর মুহুরী ও কহুয়া নদীর দৌলতপুর অংশে দুটি বাঁধ ভেঙ্গে উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিন দৌলতপুরে কৃষকের পাকা ও আধাপাকা আমন ধান, খিরাক্ষেত, টমেটো, মরিচ, বেগুন, কপি, লাউ, বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজি ও পুকুরের মাছ তলিয়ে গেছে।
দক্ষিন দৌলতপুর গ্রামের জহির আহম্মদ জানান, প্রতিবছর ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নদীর বাধ ভেঙ্গে আমরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছি। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতির কারনে ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশে বাঁধ নির্মাণ ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় বাঁধের নিচ থেকে বালি-মাটি দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়। গর্তের ফলে আর বালির বাঁধের কারণে ইদুর গর্ত করে। গর্ত দিয়ে পানি ঢুকে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।
উত্তর দৌলতপুর এলাকার কৃষক আবদুল ওহাব জানান, গত বন্যায় তার একর ধান ক্ষতি হয়েছে। এবারের পানিতে ৬ একর রোপা আমন ক্ষতির শিকার হন।
দক্ষিণ দৌলতপুর এলাকার নবী জানান, এখন পর্যন্ত কৃষি অফিস কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বা কোন জনপ্রতিনিধি আমাদের সাথে কোন কথা বলে নাই। আমরা কৃষকরা কোন সহযোগিতা পাইনা।
একই এলাকার আমির হোসেন জানান, নদী শাসন না থাকায় নদীর ভিতরে বড় বড় গাছ পালা, বাঁশ ঝাড় ও সরু হয়ে যাওয়ায় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেল কৃষি কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, ফুলগাজীতে রোপা আমন ৮৫ হেক্টর ও সবজি ৫ হেক্টর, আমন ধানের আর্থিক ক্ষতির পরিমান এক কোটি ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও সবজি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ক্ষতি হয়েছে। সরকার থেকে ২৫০ জনের প্রণোধনা পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ৫শ ৫৮ জন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর





















