০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃষকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আবদুল কাদির (৪১) নামে এক কৃষক তার ফসলের মাঠে রঙিন লালশাক আর সরিষা রোপণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও স্মৃতিসৌধ এঁকেছেন। বঙ্গবন্ধুর ছবির চারপাশে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা আর নৌকার ছবি বাড়িয়ে দিয়েছে সৌন্দর্য। ফলে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে এই অপরুপ দৃশ্য দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন।

উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়া খালবলা গ্রামের কৃষক মো. তারা মিয়ার মেঝ ছেলে আবদুল কাদির। স্ত্রীর নাম মকসুদা আক্তার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষক আবদুল কাদির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজেদের জমিতে কাজ শুরু করেন। পরে আর পড়ালেখা হয়নি। মাঠেই দিন-রাত পরিশ্রম করে সোনার ফসল ফলান তিনি। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে তিনি ফসলের মাঠে তার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দেখিয়েছেন। এছাড়া গত বছরও নিজের স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ‘ভালোবাসার জমিন’ বানিয়েছিলেন কৃষক আবদুল কাদির। ফসলের মাঠে “নকশি কাঁথা” এঁকে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। এবার তার ভালোবাসার জমিনে লালশাক আর সরিষা দিয়ে আঁকলেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১ ডিসেম্বর নিজের ৩৩ শতক জমিতে পাড়া খালবলা বন্ধু মহল ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে এঁকেছেন অনন্য শিল্পকর্ম। চারদিকে যখন ভাস্কর্য নিয়ে তোলপাড় চলছে সে সময় সরিষা ও লালশাক দিয়ে নিজের জমিতে পরম মায়ায় রূপ দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। সঙ্গে এঁকেছেন মুজিব শতবর্ষ, স্মৃতিসৌধ, শাপলা ও নৌকা। কাদিরের শৈল্পিক কৃষিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখতে ও ছবি তুলতে জমির পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশ দিয়ে একটি টাওয়ার।

পাড়া খালবলা বন্ধু মহল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম সোহেল বলেন, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর চেতনা প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এটি করা হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য দেখতে ভির জমাচ্ছে।

কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, বছরের অন্য সময় জমি চাষ করে আর্থিক লাভবান হই। এ সময়টায় জাতির পিতার চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ভিন্ন কিছু করেছি। আমার কর্মক্ষেত্র আর ভালোবাসার স্থান ফসলের ক্ষেতেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছি। এটি করে ফসল দিয়ে তার আর্থিক লাভ না হলেও মানসিক তৃপ্তি
পাচ্ছি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, কৃষক কাদির মানসিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ফসলের মাঠে। আর্থিক লাভবান না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন শৈল্পিক কাজ দেখতে আসার মধ্যেই তৃপ্তি কৃষকের।

কৃষক আব্দুল কাদিরের এই কাজে কৃষি বিভাগ গর্বিত। আর্থিক লাভবান না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন শৈল্পিক কাজ দেখতে আসার মধ্যেই তৃপ্তি এই কৃষকের। তাকে রাজস্ব বাজেটের সরিষার প্রদর্শনী মাঠ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকের জন্য তার নাম প্রস্তাব করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, মুজিব বর্ষ ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে ফসলের মাঠে কৃষকের এই শিল্পকর্ম। অনবদ্য শৈল্পিক ছোঁয়ায় কৃষক আবদুল কাদির এঁকেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় ফুল শাপলা, নৌকা ও মুজিব শতবর্ষ। সরিষা ও লাল শাকের বীজ দিয়ে হৃদয় খচিত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি। মৌলবাদীদের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ কৃষক আব্দুল কাদিরের ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতি। এতে আমরা গর্বিত। তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃষকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা!

প্রকাশিত : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আবদুল কাদির (৪১) নামে এক কৃষক তার ফসলের মাঠে রঙিন লালশাক আর সরিষা রোপণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও স্মৃতিসৌধ এঁকেছেন। বঙ্গবন্ধুর ছবির চারপাশে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা আর নৌকার ছবি বাড়িয়ে দিয়েছে সৌন্দর্য। ফলে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে এই অপরুপ দৃশ্য দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন।

উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়া খালবলা গ্রামের কৃষক মো. তারা মিয়ার মেঝ ছেলে আবদুল কাদির। স্ত্রীর নাম মকসুদা আক্তার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষক আবদুল কাদির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজেদের জমিতে কাজ শুরু করেন। পরে আর পড়ালেখা হয়নি। মাঠেই দিন-রাত পরিশ্রম করে সোনার ফসল ফলান তিনি। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে তিনি ফসলের মাঠে তার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দেখিয়েছেন। এছাড়া গত বছরও নিজের স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ‘ভালোবাসার জমিন’ বানিয়েছিলেন কৃষক আবদুল কাদির। ফসলের মাঠে “নকশি কাঁথা” এঁকে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। এবার তার ভালোবাসার জমিনে লালশাক আর সরিষা দিয়ে আঁকলেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১ ডিসেম্বর নিজের ৩৩ শতক জমিতে পাড়া খালবলা বন্ধু মহল ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে এঁকেছেন অনন্য শিল্পকর্ম। চারদিকে যখন ভাস্কর্য নিয়ে তোলপাড় চলছে সে সময় সরিষা ও লালশাক দিয়ে নিজের জমিতে পরম মায়ায় রূপ দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। সঙ্গে এঁকেছেন মুজিব শতবর্ষ, স্মৃতিসৌধ, শাপলা ও নৌকা। কাদিরের শৈল্পিক কৃষিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখতে ও ছবি তুলতে জমির পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশ দিয়ে একটি টাওয়ার।

পাড়া খালবলা বন্ধু মহল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম সোহেল বলেন, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর চেতনা প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এটি করা হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য দেখতে ভির জমাচ্ছে।

কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, বছরের অন্য সময় জমি চাষ করে আর্থিক লাভবান হই। এ সময়টায় জাতির পিতার চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ভিন্ন কিছু করেছি। আমার কর্মক্ষেত্র আর ভালোবাসার স্থান ফসলের ক্ষেতেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছি। এটি করে ফসল দিয়ে তার আর্থিক লাভ না হলেও মানসিক তৃপ্তি
পাচ্ছি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, কৃষক কাদির মানসিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ফসলের মাঠে। আর্থিক লাভবান না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন শৈল্পিক কাজ দেখতে আসার মধ্যেই তৃপ্তি কৃষকের।

কৃষক আব্দুল কাদিরের এই কাজে কৃষি বিভাগ গর্বিত। আর্থিক লাভবান না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন শৈল্পিক কাজ দেখতে আসার মধ্যেই তৃপ্তি এই কৃষকের। তাকে রাজস্ব বাজেটের সরিষার প্রদর্শনী মাঠ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকের জন্য তার নাম প্রস্তাব করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, মুজিব বর্ষ ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে ফসলের মাঠে কৃষকের এই শিল্পকর্ম। অনবদ্য শৈল্পিক ছোঁয়ায় কৃষক আবদুল কাদির এঁকেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় ফুল শাপলা, নৌকা ও মুজিব শতবর্ষ। সরিষা ও লাল শাকের বীজ দিয়ে হৃদয় খচিত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি। মৌলবাদীদের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ কৃষক আব্দুল কাদিরের ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতি। এতে আমরা গর্বিত। তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ