গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন মোগরখাল এলাকায় বগুড়া থেকে বেড়াতে যাওয়া কিশোর মো. রানা হত্যার অভিযোগে ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সাহার আলী প্রকাশ ওরফে সোহান (২৮), বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার গোয়ালবাতান গ্রামের মো. জলিল মন্ডলের ছেলে। সোহান পুলিশের কাছে শ্যালক হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মহানগরীর মোগরখাল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত রানা (১৭) বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল কাসেম প্রামাণিকের ছেলে। সোমবার সকালে মোগড়খাল এলাকার একটি বাউন্ডারী ওয়ালের পিছনের জমি থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) জাকির হাসান জানান, রানা বগুড়া থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গাজীপুর মোগরখাল এলাকায় (জনৈক সাইফুলের বাড়ি) তার বোনের বাসায় বেড়াতে যান। গাজীপুরে বেড়াতে গিয়ে রানা তার ভগ্নিপতির বাসায় রাতের খাবার খেলেও অন্য সময় তিনি মোগরখাল এলাকার বাসিন্দা রানার বড় ভাই জনির সঙ্গেই থাকতেন। রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রানা ভগ্নিপতির বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জনির দোকান থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে সোমবার সকালে তার মৃতদেহ মোগরখালের সীমান্ত যোগীতলা এলাকার নির্জন স্থানে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ রানার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাসন থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক জানান, সোমবার সকালে নগরীর ১৭নং ওয়ার্ড যোগীতলা এলাকায় পতিত জমিতে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে বাসন থানা পুলিশ। পরে তার পকেটে থাকা চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে মৃতের পরিচয় পাওয়া যায়। নিহতের বোনসহ অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভগ্নিপতি সোহানের সঙ্গে মৃতের পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিলো। নিহতের বোন সোহানের স্ত্রী স্থানীয় এক পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। স্ত্রী তার বেতনের টাকা মাঝে মধ্যেই বাবাকে পাঠাতেন, এটা স্বামী পছন্দ করতেন না। এছাড়া প্রায় এক বছর আগে শশুরের কাছে পাওনা টাকা নিয়ে জনি ও রানা মিলে সোহানকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। এসব নিয়ে শ্যালক জনি ও রানার সঙ্গে দুলাভাই সোহানের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ওই শত্রুতার কারণেই সোহান কৌশলে রোববার দিবাগত রাতে রানাকে চাকুরি দেয়া কথা বলে যোগীতলা অধ্যাপক আব্দুল বারী মার্কেটের পেছনে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সোহানের দেয়া তথ্যমতে মৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















