০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নানা সংকটে জর্জরিত হাবিপ্রবি

ক্লাসরুম, ল্যাব, আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন সংকট সহ নানা সংকটে জর্জরিত দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বারো হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরেও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সিএসই ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ল্যাবে তেমন উন্নতি হয়নি। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিই সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়াও সময়মত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার স্বদিচ্ছাই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সময়মত বাজেট না দেওয়া।

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির গ্রুপে সৃষ্ট পোলে ৮৯.১% শিক্ষার্থী আসন সংখা কমানোর পক্ষে, ৮.৫৭% শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত থাকার পক্ষে এবং ২.২৫% শিক্ষার্থী আসন বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

মেহেদী ফয়সাল রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন” হাবিপ্রবিতে বর্তমানে প্রায় প্রতিটা ফ্যাকাল্টিতেই শিক্ষক ও ল্যাবরুমের সংকট রয়েছে।দশতলা বিল্ডিং হলে হয়তো কিছুটা ক্লাস রুমের সমাধান মিল্লেও শিক্ষক, ল্যাব ইন্সট্রুমেন্ট ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।সাথে আমাদের আবাসন সমস্যা আছেই।করোনাকালীন দুর্যোগে সেশন জট সমস্যাও প্রকট। ফলে শিক্ষার্থী না বাড়ায় এবং বর্তমানের আসনসংখ্যাও কমায় ক্লাসের মান বৃদ্ধির দিকে নজর দিলে হাবিপ্রবি আরো সমৃদ্ধ লাভ করবে। এছাড়াও আমাদের চিকিৎসা নিতে শহরের মেডিকেলে দারস্থ হতে হয়। প্রশাসন চাইলে এসকল সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে।”

জুলকিফল ইসলাম নামের অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন,”বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে অবশ্যই আসনসংখ্যা কমানো উচিৎ বলে আমি মনে করি। ল্যাব সঙ্কট, ক্লাসরুম সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান আসার আগ পর্যন্ত আসন সংখ্যা কমিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধার আওতায় আনা উচিৎ, যার ফলে শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন হবে বলে আমার বিশ্বাস । এছাড়াও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন, একবাসে কয়েকশ শিক্ষার্থী চলাফেরা করে।”

রবিউল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন” অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের চেয়ে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরও শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে না। যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা তারা পাচ্ছে কিন্তু আমাদের কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিতে পারছে না। প্রথমেই যে সমস্যা প্রায় সবাইকে মুখোমুখি হতে হয় তা হলো শিক্ষক সংকট। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ল্যাব সংকট। তৃতীয়ত আবাসিক সমস্যা। হল অপর্যাপ্ত,হল গুলোতে রিডিং রুম নাই, শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ মেসেই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে। চতুর্থত,লাইব্রেরীর ধারণক্ষমতা কম ও
ইন্জিনিয়ারিং বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয় সব বই পাওয়া যায় নাহ। এসব সমস্যার সাপেক্ষে বলতে গেলে, সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসকল সমস্যার সমাধান করতে পারে।”

আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন” হাবিপ্রবির বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি অনেক বড় ভোগান্তির কারণ ক্যাম্পাসের আয়তন বড় নয়, শিক্ষক কম, ক্লাস রুম সংকট, আবাসন সুবিধা একবারেই কম। বিগত কয়েক বছরে নিয়মিত হারে নতুন ব্যাচ ভর্তি হলেও বের হয়নি নিয়মিত হারে কোন ব্যাচ। প্রতিটা বিভাগে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যাচ ও শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিবহন খাত বর্তমানের ছাত্র-ছাত্রীদের ই ঠিকমত বহন করতে পারে না সেখানে আবার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কখনোই সমীচীন হবে না বলে আমি মন করি।”

আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্টার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,”আসন সংখ্যা কিছুটা কমানো হোক এটা আমিও চাই। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যাপাসিটির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আসন সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো উচিৎ।”

তবে কিছুটা বিপরীত মতামত দিয়েছেন ডিভিএম অনুষদের প্যাথলজি এ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হারুন-উর-রশিদ, তিনি বলেন “আমি আসন সংখ্য কমানোর পক্ষপাতী না। কেননা এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আসলে আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারটি আমার একক কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। বিষয়টি ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক অ্যাডকমের মিটিংয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।”

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশন থেকে গুলিসহ একটি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯

নানা সংকটে জর্জরিত হাবিপ্রবি

প্রকাশিত : ০৯:১৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

ক্লাসরুম, ল্যাব, আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন সংকট সহ নানা সংকটে জর্জরিত দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বারো হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরেও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সিএসই ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ল্যাবে তেমন উন্নতি হয়নি। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিই সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়াও সময়মত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার স্বদিচ্ছাই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সময়মত বাজেট না দেওয়া।

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির গ্রুপে সৃষ্ট পোলে ৮৯.১% শিক্ষার্থী আসন সংখা কমানোর পক্ষে, ৮.৫৭% শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত থাকার পক্ষে এবং ২.২৫% শিক্ষার্থী আসন বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

মেহেদী ফয়সাল রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন” হাবিপ্রবিতে বর্তমানে প্রায় প্রতিটা ফ্যাকাল্টিতেই শিক্ষক ও ল্যাবরুমের সংকট রয়েছে।দশতলা বিল্ডিং হলে হয়তো কিছুটা ক্লাস রুমের সমাধান মিল্লেও শিক্ষক, ল্যাব ইন্সট্রুমেন্ট ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।সাথে আমাদের আবাসন সমস্যা আছেই।করোনাকালীন দুর্যোগে সেশন জট সমস্যাও প্রকট। ফলে শিক্ষার্থী না বাড়ায় এবং বর্তমানের আসনসংখ্যাও কমায় ক্লাসের মান বৃদ্ধির দিকে নজর দিলে হাবিপ্রবি আরো সমৃদ্ধ লাভ করবে। এছাড়াও আমাদের চিকিৎসা নিতে শহরের মেডিকেলে দারস্থ হতে হয়। প্রশাসন চাইলে এসকল সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে।”

জুলকিফল ইসলাম নামের অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন,”বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে অবশ্যই আসনসংখ্যা কমানো উচিৎ বলে আমি মনে করি। ল্যাব সঙ্কট, ক্লাসরুম সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান আসার আগ পর্যন্ত আসন সংখ্যা কমিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধার আওতায় আনা উচিৎ, যার ফলে শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন হবে বলে আমার বিশ্বাস । এছাড়াও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন, একবাসে কয়েকশ শিক্ষার্থী চলাফেরা করে।”

রবিউল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন” অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের চেয়ে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরও শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে না। যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা তারা পাচ্ছে কিন্তু আমাদের কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিতে পারছে না। প্রথমেই যে সমস্যা প্রায় সবাইকে মুখোমুখি হতে হয় তা হলো শিক্ষক সংকট। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ল্যাব সংকট। তৃতীয়ত আবাসিক সমস্যা। হল অপর্যাপ্ত,হল গুলোতে রিডিং রুম নাই, শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ মেসেই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে। চতুর্থত,লাইব্রেরীর ধারণক্ষমতা কম ও
ইন্জিনিয়ারিং বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয় সব বই পাওয়া যায় নাহ। এসব সমস্যার সাপেক্ষে বলতে গেলে, সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসকল সমস্যার সমাধান করতে পারে।”

আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন” হাবিপ্রবির বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি অনেক বড় ভোগান্তির কারণ ক্যাম্পাসের আয়তন বড় নয়, শিক্ষক কম, ক্লাস রুম সংকট, আবাসন সুবিধা একবারেই কম। বিগত কয়েক বছরে নিয়মিত হারে নতুন ব্যাচ ভর্তি হলেও বের হয়নি নিয়মিত হারে কোন ব্যাচ। প্রতিটা বিভাগে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যাচ ও শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিবহন খাত বর্তমানের ছাত্র-ছাত্রীদের ই ঠিকমত বহন করতে পারে না সেখানে আবার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কখনোই সমীচীন হবে না বলে আমি মন করি।”

আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্টার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,”আসন সংখ্যা কিছুটা কমানো হোক এটা আমিও চাই। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যাপাসিটির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আসন সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো উচিৎ।”

তবে কিছুটা বিপরীত মতামত দিয়েছেন ডিভিএম অনুষদের প্যাথলজি এ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হারুন-উর-রশিদ, তিনি বলেন “আমি আসন সংখ্য কমানোর পক্ষপাতী না। কেননা এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আসলে আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারটি আমার একক কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। বিষয়টি ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক অ্যাডকমের মিটিংয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।”

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর