০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গবন্ধু আত্মস্বীকৃত খুনি ডালিমের খেতাব এখনও বহাল!

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মোসলেহ উদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও খেতাবসহ আরও ৫১ জনের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখনও বহাল রয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের শীর্ষ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী মেজর (অব.) শরীফুল হকের (ডালিম) মুক্তিযুদ্ধের সনদ ও বীরউত্তম খেতাব।

৫২ জনের তালিকায় জঘন্যতম এ খুনির নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ১৯ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সভায় মোসলেহ উদ্দিনসহ ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
তবে বাতিল হওয়া এই তালিকায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের জঘন্যতম ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী মেজর (অব.) শরীফুল হকের (ডালিম) নাম নেই। বরং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) প্রকাশিত বীরউত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ১৯ নম্বরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মেজর ডালিমের নাম।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য বীরত্বের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ খেতাব) এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম হিসেবে ৬৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বের। সেনা, নৌ, বিমান এবং মুক্তিযুদ্ধে গঠিত গণবাহিনী থেকে ৬৮ জনকে দেওয়া হয় অনন্য এ বীরউত্তম খেতাব। যেখানে সেনাবাহিনী থেকে ৪৯ জন, নৌবাহিনী থেকে ৮ জন, বিমান বাহিনী থেকে ৬ জন এবং গণবাহিনী থেকে ৫ জনকে মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই খেতাব দেওয়া হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে মেজর (অব.) শরীফুল হক ডালিমের নাম অনেক আগেই বাতিল করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ.বি তাজুল ইসলাম।

রোববার (১০ জানুয়ারি) মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করে প্রকাশিত গেজেটে ৫২ জনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি ডালিমের নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

এ.বি তাজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ৫২ জনের তালিকায় তো ডালিমের নাম থাকার কথা। কেন নেই বুঝছি না। আমার জানামতে জামুকার যে কমিটি ছিল সেখানে ডালিমের নামও সুপারিশ করা হয়েছে। তার নাম বাতিল না হলে দ্রুত যেন বাতিল করা হয় সে ব্যাপারে আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আগামী বৈঠকে কমিটিকে (স্থায়ী কমিটি) বিষয়টা জানাব।

বাতিলের তালিকায় ডালিমের নাম থাকা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানও।

তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ৫২ জনের তালিকায় ডালিমের নাম নেই এটা আমি জানি না। আমি দ্রুতই মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইব। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কার কি ভূমিকা ছিল সেটা আর প্রধান থাকে না, যখন স্বাধীনতার স্থপতির হত্যাকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকে।

তবে এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় সংবাদকে জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের খেতাব ও সনদ আগেই বাতিল হয়েছে। বাতিল করা হলেও মন্ত্রণালয়ের বীরউত্তমের তালিকায় এখনও ডালিমের নাম কীভাবে রয়েছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে লাইনটি কেটে দেন।

রোববার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত বীরউত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ১৯ নম্বরে শরীফুল হক ডালিমের নাম পাওয়া যায়। ওয়েবসাইট সর্বশেষ চলতি বছর ৬ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটে হালনাগাদ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

বঙ্গবন্ধু আত্মস্বীকৃত খুনি ডালিমের খেতাব এখনও বহাল!

প্রকাশিত : ০৯:১৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মোসলেহ উদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও খেতাবসহ আরও ৫১ জনের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু এখনও বহাল রয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের শীর্ষ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী মেজর (অব.) শরীফুল হকের (ডালিম) মুক্তিযুদ্ধের সনদ ও বীরউত্তম খেতাব।

৫২ জনের তালিকায় জঘন্যতম এ খুনির নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ১৯ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সভায় মোসলেহ উদ্দিনসহ ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
তবে বাতিল হওয়া এই তালিকায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের জঘন্যতম ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী মেজর (অব.) শরীফুল হকের (ডালিম) নাম নেই। বরং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) প্রকাশিত বীরউত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ১৯ নম্বরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মেজর ডালিমের নাম।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য বীরত্বের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ খেতাব) এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম হিসেবে ৬৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বের। সেনা, নৌ, বিমান এবং মুক্তিযুদ্ধে গঠিত গণবাহিনী থেকে ৬৮ জনকে দেওয়া হয় অনন্য এ বীরউত্তম খেতাব। যেখানে সেনাবাহিনী থেকে ৪৯ জন, নৌবাহিনী থেকে ৮ জন, বিমান বাহিনী থেকে ৬ জন এবং গণবাহিনী থেকে ৫ জনকে মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই খেতাব দেওয়া হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে মেজর (অব.) শরীফুল হক ডালিমের নাম অনেক আগেই বাতিল করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ.বি তাজুল ইসলাম।

রোববার (১০ জানুয়ারি) মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করে প্রকাশিত গেজেটে ৫২ জনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি ডালিমের নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

এ.বি তাজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ৫২ জনের তালিকায় তো ডালিমের নাম থাকার কথা। কেন নেই বুঝছি না। আমার জানামতে জামুকার যে কমিটি ছিল সেখানে ডালিমের নামও সুপারিশ করা হয়েছে। তার নাম বাতিল না হলে দ্রুত যেন বাতিল করা হয় সে ব্যাপারে আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আগামী বৈঠকে কমিটিকে (স্থায়ী কমিটি) বিষয়টা জানাব।

বাতিলের তালিকায় ডালিমের নাম থাকা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানও।

তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ৫২ জনের তালিকায় ডালিমের নাম নেই এটা আমি জানি না। আমি দ্রুতই মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইব। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কার কি ভূমিকা ছিল সেটা আর প্রধান থাকে না, যখন স্বাধীনতার স্থপতির হত্যাকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকে।

তবে এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় সংবাদকে জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের খেতাব ও সনদ আগেই বাতিল হয়েছে। বাতিল করা হলেও মন্ত্রণালয়ের বীরউত্তমের তালিকায় এখনও ডালিমের নাম কীভাবে রয়েছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে লাইনটি কেটে দেন।

রোববার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত বীরউত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ১৯ নম্বরে শরীফুল হক ডালিমের নাম পাওয়া যায়। ওয়েবসাইট সর্বশেষ চলতি বছর ৬ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটে হালনাগাদ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।