দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জটের অন্ত নেই। চার বছরে পাঁচটি সেমিস্টার শেষ হয়নি বেশীরভাগ বিভাগের।
বিভিন্ন সময়ে (মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের নিয়োগে দেরী, আন্দোলন এবং করোনা মহামারির কারণে) শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েন।
আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি ) বেলা ১২ টায় স্থগিত থাকা ও চলমান সেমিষ্টার এর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা.মো.ফজলুক হক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ” আমরা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী অতি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বিগত কয়েক বছরে সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষা সময় মত দিতে না পারায় দীর্ঘ সেশন জটের সম্মুখীন হয়ে পরেছি। কেননা আমরা আমাদের শিক্ষাবর্ষ ২০১৭ সালের এপ্রিলে শুরু করেছিলাম।করোনার সময়ে তাল মিলিয়ে আমরাও অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি।তাই বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যখন আমাদের শিক্ষাবর্ষের রুটিন প্রকাশ করেছে সেখানে যে আমরা পিছিয়ে পরছি তা বলার অবকাশ রাখে না।
এমতাবস্থায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের ২০১৭ ব্যাচের চলমান সেমিষ্টার এর ফাইনাল পরিক্ষার রুটিন প্রকাশ করে সেশন জটের হুমকি থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।”
রবিউল আউয়াল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন” ২০১৭ সালে বর্তমান ভিসি স্যারের আগমন ঘটে। আমরা ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনে স্যার আমাদের কথা দিয়েছিলো, আমরা সেশনজটে থাকব না, সেশনজট মুক্ত করার সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে আমরা জানি না। রাজনৈতিক জটিলতায় শিক্ষক আন্দোলনে ৪ মাসের জট যোগ হলো। কথা ছিলো এই জট নিরসনেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। ২০২০ সালে এসে করোনার জন্য প্রায় ১ বছর সেশনজট যুক্ত হলো। অনলাইন ক্লাস চলছে কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে না। আমাদের ৫ম সেমিষ্টারের ল্যাব সহ ফলাফল আটকে আছে। ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের ক্লাস শেষ কিন্তু ৭ম সেমিস্টারের রুটিন দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাকি সেমিষ্টার শুরুনএবং পরীক্ষার নেয়ার জন্য আবেদন ও দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন আকাশ বলেন, আমরা ২০১৭ সালে হাবিপ্রবি তে ভর্তি হই।সে হিসেবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আমাদের অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নানাবিধ কারণে আমরা এখনো ৩য় বর্ষ শেষ করতে পারিনি।আমরা যে অনেক পিছিয়ে আছি, সেটা প্রশাসন সহ সকলেই জানেন। এমন অবস্থায়,আমাদের পরিক্ষার ডেট না দিলে আমরা আরো পিছিয়ে পড়ছি।ক্যাম্পাস খুলার পর আবারো যদি একই সেমিস্টারের ক্লাস নেন, এতে করে আমরা দেড় বছর এর সেশনজট খাওয়ার হুমকির মুখে আছি।”
১৭ ব্যাচের পরীক্ষা গ্রহনের ব্যাপারে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক বলেন,”আমরা আপাতত লেভেল -৪ সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থীরা যেন বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য আমরা তাদের পরীক্ষা নিচ্ছি কিন্তু ১৭ ব্যাচ এখন লেভেল ৩/১ বা ৩/২ তে থাকায় গত একাডেমিক কাউন্সিলে ১৭ ব্যাচের পরীক্ষার বিষয়টি উত্থাপিত হয় নি।
পরীক্ষা নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিয়ম কানুন আছে, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে নেয়া হয়।আমরা পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে এ বিষয়টি উত্থাপিত করবো। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট ডীন মহোদয় যারা আছেন, তারা যদি কোন কোন ডিপার্টমেন্ট পরীক্ষা নেয়ার জন্য উপযোগী তা উপাচার্য মহোদয় কে জানায় তাহলে উনি একাডেমিক কাউন্সিল ডেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


























