ঢাকা ভোর ৫:২৩, বুধবার, ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চলচ্চিত্র দেশ-সীমার বাইরে মানুষের জীবনকে বুঝতে সহায়তা করে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ ভুলে সকল সভ্যতার মানুষকে একত্রিত করতে পারে চলচ্চিত্র, তাই চলচ্চিত্র উৎসব সমাজের উতিবাচক ভুমিকা তৈরির জন্য গুরত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। বিকেলে জাতীয় যাদুঘরের মূলমিলনায়তনে ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন কালে এই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের সঙ্কটকালীন সময়ে সৃজনশীল মানুষদের এই উদ্যোগ প্রসংশনীয়।
মুজিব শতবর্ষের ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উৎসর্গ করায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রসংশা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, যিনি দক্ষহাতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সিনেমাহলগুলো খুলে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফরমগুলো নিজেদের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিবেশনার সুযোগ করে দিয়েছে, তাই দেশের নির্মাতাদের ওটিটি প্ল্যাটফমের উপযুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান জানান তিনি। বলেন, এই উৎসব বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বৈশিকযাত্রা আরো সুসংহত করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার মি. বিক্রম কে দোরাইসামী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিকাশে ভারত সবসময় ইতিবাচক ভ‚মিকা পালন করে আসছে। বলেন, ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে এবার বাংলাদেশকে ‘ফোকাস’ করা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উৎসব পেট্রন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ এবং মফিদুল হক। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বরাবরের মত এবারের উৎসবেও থাকছে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগ। তবে উৎসবে এবারই প্রথম সংযুক্ত হচ্ছে ‘লিজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দি ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ট্রিবিউট’ নামে আরো দু’টি নতুন বিভাগ, যা এবারের উৎসবকে আরও উচ্চতর মাত্রা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এবারেরর উৎসবে মোট ৭৩টি দেশের ২২৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশনার কাজ করে আসছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এশিয়ার একশটি গুরত্বপ‚র্ণ চলচ্চিত্র উৎসব যা বিশ্বে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য একটি নান্দনিক ও ইতিবাচক চলচ্চিত্র সংস্কৃতি তৈরিতে কাজ করে আসছে। এই উৎসব তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এশিয়া ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে যাচ্ছে। উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর স্থানসমূহ- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্স। উৎসব চলবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এছাড়া আগামী ১৭-১৮ জানুয়ারী ২০২১ উৎসবের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এমপি ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় কনফারেন্স উদ্বোধন করবেন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকি আলোচক হিসেবে থাকবেন। উক্ত কর্মশালায় দেশি বিদেশি নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যক্তিত্বদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী নির্মাতাগণ অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুবর্ণ সুযোগ পাবেন বলে আশা করছি। এখানে নারী নির্মাতারা তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং উত্তোরণের উপায় নিয়ে বিশে^র খ্যাতিমান নারী নির্মাতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বিশ^ পরিবর্তনে নারীর নেতিবাচক ও ইতিবাচক ভ‚মিকা এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে সমাধানের উপায়সমূহ উঠে আসবে এই কনফারেন্সে। ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল আকর্ষনগুলোর একটি এই উইমেন্স কনফারেন্স।

ঊনবিংশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্মাতাদের মিথষ্ক্রিয়ামূলক দিনব্যাপী সেমিনার ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’। চলচ্চিত্রে প্রয়োজনীয়তা থেকেই পশ্চিমারা নিজ শৈল্পিকতা গুণে সমৃদ্ধ। প্রাশ্চাত্যের দেশগুলোর চলচ্চিত্রেরও রয়েছে নিজস্ব শৈল্পকিতা, কিন্তু তা প্রাচ্য থেকে একেবারেই ভিন্ন। এটা ধারণা করা হত যে, ‘এই দুই অঞ্চলের শিল্প কখনও এক হবে না’। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে চলচ্চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো প্রাচ্য ও পশ্চাত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে চলচ্চিত্র হারিয়েছে নিজ সীমানা, পেয়েছে বৈশি^ক পরিচিতি। এই একাত্মতাকে কিভাবে আরো রিদ্ধ করা যায় সেই ভাবনা উসকে দিতেই এই আয়োজন। ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে সেমিনারটি চলবে।

এছাড়াও সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সত্যজিৎ রায়: জাতীয় ও বৈশিক’ শিরোনামের মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জনাব মফিদুল হক। এই সেমিনারে আসাদুজ্জামান নূর এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মীলা ঠাকুর, ধৃতমান চ্যাটার্জী, বিচারপতি রিফাত আহমেদ এবং চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ