০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কবে উড়বে বিমান, ৪৪ বছর ধরে বন্ধ কুমিল্লা বিমানবন্দর

৭৭ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরেই ওঠানামা করে না কোনো বিমান। এ যাবত বন্দরটিকে চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর নেভিগেশন সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিমানবন্দরটি। এ জন্য সম্প্রতি ৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সংযোজনও করা হয়েছে। এ বন্দরে জনবল রয়েছে ৩০ জন। এর মধ্যে ১৫ জন স্থায়ী ও ১৫ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লা বিমানবন্দরে নেভিগেশন ফ্যাসিলিটিস, কন্ট্রোল টাওয়ার, ভিএইচএফ সেট, এয়ার কমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি, ফায়ার স্টেশন, ফায়ার সার্ভিসসহ সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও। কিন্তু বিমান ওঠানামা না করায় বন্দর ও পোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, রানওয়ে সংস্কার, বিদ্যুৎ ও পানির বিল, যানবাহন কেনা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বিমানবন্দরের জন্য সর্বাধুনিক বিমান পথনির্দেশক (ভিউআর) ও বিমানের দূরত্ব মাপক ডিএনই স্থাপন করা হয়েছে। এসব সরবরাহ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে প্রতি মাসে শুধু সিগন্যালিংয়ে এ বন্দর আয় করছে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। তবে বিমান ওঠানামা করলে ২০ মিনিটেই ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াত সম্ভব হতো। ঢাকা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য রুটেও যাতায়াত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। বিমানবন্দরটি চালু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কোম্পানিকে কুমিল্লায় পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে তাদেরও কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মাণ করা কুমিল্লা বিমানবন্দর থেকে ১৯৭৬ সালের আগ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করত। কুমিল্লার অনেক যাত্রী এ বন্দর থেকে বিমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই ১৯৮৬ সালে এ বন্দর থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্টল বিমান সার্ভিস সুবিধাসহ কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার পাশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। সে সময় তিনি শর্ট টেক অব ল্যান্ডিং স্টল বিমান সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দেন। কিন্তু শেখ হাসিনার ঘোষণার ১৩ বছর পার হলেও এ বিমানবন্দর চালু হয়নি আজও। মাঝেমধ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হেলিকপ্টারে এ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ইপিজেডে বিনিয়োগকারীসহ কুমিল্লাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী বিমানবন্দরটি থেকে বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ প্রকৌশলী আবদুল গনি জানান, শুধু রানওয়ে মেরামত করলেই কুমিল্লা বিমানবন্দরে ৩০ থেকে ৮০ সিটের যে কোনো বিমানের ওঠানামা করা সম্ভব। জনবলও রয়েছে। আর ১০ থেকে ১৫ জন আনসার নিয়োগ করলেই চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী অনেক বিমান কুমিল্লা বিমানবন্দরের পথনির্দেশক সংকেত নিয়ে ভারতের আগরতলা ও গৌহাটি বিমানবন্দরে চলাচল করে। তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন রানওয়ের সংস্কার। কয়েক মাস আগে রানওয়ে সংস্কারের স্টিমিট করাসহ বন্দর চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন এই কর্মকর্তা।

কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কোম্পানির পাকিস্তানি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হামিদ ও সালাহউদ্দিন বলেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক উপকার হতো। বিমানবন্দরটি চালু করা একান্ত প্রয়োজন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম সাঈদুল হাসান খান সম্প্রতি সাতটি বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। এগুলো হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড, জিএমজি এয়ারলাইনস, বিসমিল্লাহ এয়ারলাইনস, সাউথ এশিয়ান এয়ারওয়েজ লিমিটেড, বেস্ট এয়ার ও এভিয়েনা এয়ারওয়েজ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লাসহ দেশের অন্য বিমানবন্দরগুলোয় ফ্লাইট চলাচল শুরু না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আকাশপথে দ্রুত যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। চিঠিতে কুমিল্লা বিমানবন্দরে দেশীয় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করতে সম্মত কিনা সে ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পেলে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে বলে জানা যায়। জরুরি ভিত্তিতে বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মতামত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

কবে উড়বে বিমান, ৪৪ বছর ধরে বন্ধ কুমিল্লা বিমানবন্দর

প্রকাশিত : ০৫:১৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১

৭৭ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরেই ওঠানামা করে না কোনো বিমান। এ যাবত বন্দরটিকে চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর নেভিগেশন সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিমানবন্দরটি। এ জন্য সম্প্রতি ৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সংযোজনও করা হয়েছে। এ বন্দরে জনবল রয়েছে ৩০ জন। এর মধ্যে ১৫ জন স্থায়ী ও ১৫ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লা বিমানবন্দরে নেভিগেশন ফ্যাসিলিটিস, কন্ট্রোল টাওয়ার, ভিএইচএফ সেট, এয়ার কমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি, ফায়ার স্টেশন, ফায়ার সার্ভিসসহ সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও। কিন্তু বিমান ওঠানামা না করায় বন্দর ও পোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, রানওয়ে সংস্কার, বিদ্যুৎ ও পানির বিল, যানবাহন কেনা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বিমানবন্দরের জন্য সর্বাধুনিক বিমান পথনির্দেশক (ভিউআর) ও বিমানের দূরত্ব মাপক ডিএনই স্থাপন করা হয়েছে। এসব সরবরাহ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে প্রতি মাসে শুধু সিগন্যালিংয়ে এ বন্দর আয় করছে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। তবে বিমান ওঠানামা করলে ২০ মিনিটেই ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াত সম্ভব হতো। ঢাকা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য রুটেও যাতায়াত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। বিমানবন্দরটি চালু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কোম্পানিকে কুমিল্লায় পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে তাদেরও কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মাণ করা কুমিল্লা বিমানবন্দর থেকে ১৯৭৬ সালের আগ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করত। কুমিল্লার অনেক যাত্রী এ বন্দর থেকে বিমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই ১৯৮৬ সালে এ বন্দর থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্টল বিমান সার্ভিস সুবিধাসহ কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার পাশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। সে সময় তিনি শর্ট টেক অব ল্যান্ডিং স্টল বিমান সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দেন। কিন্তু শেখ হাসিনার ঘোষণার ১৩ বছর পার হলেও এ বিমানবন্দর চালু হয়নি আজও। মাঝেমধ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হেলিকপ্টারে এ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ইপিজেডে বিনিয়োগকারীসহ কুমিল্লাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী বিমানবন্দরটি থেকে বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ প্রকৌশলী আবদুল গনি জানান, শুধু রানওয়ে মেরামত করলেই কুমিল্লা বিমানবন্দরে ৩০ থেকে ৮০ সিটের যে কোনো বিমানের ওঠানামা করা সম্ভব। জনবলও রয়েছে। আর ১০ থেকে ১৫ জন আনসার নিয়োগ করলেই চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী অনেক বিমান কুমিল্লা বিমানবন্দরের পথনির্দেশক সংকেত নিয়ে ভারতের আগরতলা ও গৌহাটি বিমানবন্দরে চলাচল করে। তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। শুধু প্রয়োজন রানওয়ের সংস্কার। কয়েক মাস আগে রানওয়ে সংস্কারের স্টিমিট করাসহ বন্দর চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন এই কর্মকর্তা।

কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কোম্পানির পাকিস্তানি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হামিদ ও সালাহউদ্দিন বলেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক উপকার হতো। বিমানবন্দরটি চালু করা একান্ত প্রয়োজন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম সাঈদুল হাসান খান সম্প্রতি সাতটি বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। এগুলো হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড, জিএমজি এয়ারলাইনস, বিসমিল্লাহ এয়ারলাইনস, সাউথ এশিয়ান এয়ারওয়েজ লিমিটেড, বেস্ট এয়ার ও এভিয়েনা এয়ারওয়েজ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লাসহ দেশের অন্য বিমানবন্দরগুলোয় ফ্লাইট চলাচল শুরু না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আকাশপথে দ্রুত যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। চিঠিতে কুমিল্লা বিমানবন্দরে দেশীয় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করতে সম্মত কিনা সে ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পেলে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে বলে জানা যায়। জরুরি ভিত্তিতে বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মতামত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ