দীর্ঘদিন ধরে নিজের সহায় সম্পত্তির অংশ বুঝে নিতে রীতিমতো লড়াই করে যাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী অনূঢ়া এক নারী। তিনি সাভারের সেই আলোচিত রানা প্লাজায় গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু রানা প্লাজা বন্ধ থাকায় তার সামান্য আয়টুকু বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে অসুস্থতা ও সীমাহীন পাশবিক নির্যাতনের কারণে তার জীবনে নেমে আসে আঁধার।
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের নারায়ন পুর গ্রামের মৃত মালু মিয়ার অবিবাহিত মেয়ে ফাতেমা বেগম। পরিবারের নৃশংসতা ও বর্বরতা থেকে প্রাণে বাঁচতে আজ রোববার দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবে আশ্রয় নিয়েছেন এই নারী।
পরবর্তীতে দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের সহযোগীতায় তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, দেবীদ্বারের এক নারী কাজ করতেন রানা প্লাজায় গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে। নাবালক থাকতেই ওই নারীর পিতামাতা মারা যান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। তাকে ছাড়া তার ভাই বোন সবারই বিয়ে হয়েছে। অভাব অনটনের সংসারে ফাতেমা নামের এ নারী গার্মেন্টসে চাকুরী করে যা উপার্জন করতেন তাও জমা রেখেছিলেন ভাইদের কাছে। এরমাঝে গার্মেন্টস বন্ধসহ নিজের অসুখের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তার কাজকর্ম। পরে কর্মস্থল থেকে চলে আসেন নিজের বাড়িতে। এতেই বাধ সাজে পরিবারের। ফাতেমাকে তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি হতে বিতাড়িত করতে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
দেবীদ্বার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার জানান, তাদের অভাবের সংসার এরপর অর্থের অভাবের কারনে ভাই বোনদের সংসারের হাল ধরতে যেয়ে তার বিবাহ পর্যন্ত হয়নি এ নারীর। তারপর আবার তার উপর বর্বর নির্যাতন এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এ অসহায় নারী। এমন একটি ঘটনা নিয়ে এ নারী আসে আমার কাছে। পরবর্তীতে ওই নারীর সাথে কথা বলি। তার কাছ থেকে জানা যায় ওই নারী তার সম্পত্তির অংশ ফিরে পাওয়াসহ নির্যাতন হতে পরিত্রান পেতে চান।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আমরা তাকে মর্মূর্ষ অবস্থায় দেবীদ্বার সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই।
রোববার রাতে নির্যাতনে শিকার ফাতেমা এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি গার্মেন্টসে চাকুরী করে নিজের জমানো টাকায় এক ভাইকে বিদেশও পাঠিয়েছিলেন তারপরও তাকে কোন বিয়েশাদী না দেয়ার ব্যবস্থা করে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে আপন ভাইয়েরা তাকে বিভিন্ন ভাবে পাশবিক নির্যাতনসহ চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তিনি পৈত্রিক সম্পত্তির ন্যায্য হক পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ প্রতিবেদন লেখার যখন প্রস্তুতি চলছিলো তখন ফাতেমার দুই ভাইয়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য নেয়া যায়নি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















