১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মুখরিত কুষ্টিয়ার পিঠা উৎসব

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ভাসে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।

তেমনি গত শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বটতলায় তিনব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করে কুষ্টিয়া নারী উদ্যোক্তা। খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীসমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়।

প্রাণের টানে ছুটে আসা সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠেছে উৎসবস্থল। শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা বৈচিত্র্যময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয় স্টলগুলো। সেই পসরায় মুগ্ধ হয়ে স্টলে স্টলে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন সকল বয়সের মানুষ।

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী জানান, পিঠা বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। এ দেশের লোকসংস্কৃতিরও অংশ সবার প্রিয় এই খাদ্যটি। আর পিঠাশিল্পীদের বানানো প্রতিটি পিঠায় থাকে প্রাণের ছোঁয়া, মিশে থাকে আবেগ, যা পৃথিবীতে বিরল। পিঠা উৎসবের মূলে রয়েছে ঢেঁকি। অথচ এখনকার মানুষ এই ঢেঁকি সম্পর্কে জানেনই না। আগামীতে ঢেঁকি জাদুঘরে রাখা লাগবে।

তিনি আরও জানান, বরিশালের মেয়েরা পিঠা তৈরিতে বেশি পারদর্শী। প্রয়োজনে বরিশাল গিয়ে আমাদের মা-বোনরা পিঠা তৈরি শিখে আসতে পারে। ঢাকায় পিঠাঘর রয়েছে। যেখানে হরেক রকমের পিঠা তৈরি হয়। তাই কুষ্টিয়াতে এরকম একটা পিঠা ঘর তৈর করা যায় কিনা- সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

অনুষ্ঠান মৌবনের নির্বাহী পরিচালক সাফিনা আনজুম জনি জানান, নারীরাও পারে। হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী নারীরা। তারা খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ।

অনষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক কোহিনুর খানম, নারীনেত্রী ও হাটশহরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শম্পা মাহমুদ, আফরোজা আক্তার ডিউসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিঠা উৎসব চলবে। পাশাপাশি উৎসবস্থলের বটমুলে উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এতে বিভিন্ন শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন সময়ের সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা।আগামী রবিবার শেষ হবে এ অনুষ্ঠান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এএসআই পিয়ারুল হত্যা: আসামি পলাশের ফাঁসির আদেশ

মুখরিত কুষ্টিয়ার পিঠা উৎসব

প্রকাশিত : ০৯:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২১

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ভাসে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।

তেমনি গত শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বটতলায় তিনব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করে কুষ্টিয়া নারী উদ্যোক্তা। খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীসমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়।

প্রাণের টানে ছুটে আসা সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠেছে উৎসবস্থল। শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা বৈচিত্র্যময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয় স্টলগুলো। সেই পসরায় মুগ্ধ হয়ে স্টলে স্টলে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন সকল বয়সের মানুষ।

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী জানান, পিঠা বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। এ দেশের লোকসংস্কৃতিরও অংশ সবার প্রিয় এই খাদ্যটি। আর পিঠাশিল্পীদের বানানো প্রতিটি পিঠায় থাকে প্রাণের ছোঁয়া, মিশে থাকে আবেগ, যা পৃথিবীতে বিরল। পিঠা উৎসবের মূলে রয়েছে ঢেঁকি। অথচ এখনকার মানুষ এই ঢেঁকি সম্পর্কে জানেনই না। আগামীতে ঢেঁকি জাদুঘরে রাখা লাগবে।

তিনি আরও জানান, বরিশালের মেয়েরা পিঠা তৈরিতে বেশি পারদর্শী। প্রয়োজনে বরিশাল গিয়ে আমাদের মা-বোনরা পিঠা তৈরি শিখে আসতে পারে। ঢাকায় পিঠাঘর রয়েছে। যেখানে হরেক রকমের পিঠা তৈরি হয়। তাই কুষ্টিয়াতে এরকম একটা পিঠা ঘর তৈর করা যায় কিনা- সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

অনুষ্ঠান মৌবনের নির্বাহী পরিচালক সাফিনা আনজুম জনি জানান, নারীরাও পারে। হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী নারীরা। তারা খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ।

অনষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক কোহিনুর খানম, নারীনেত্রী ও হাটশহরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শম্পা মাহমুদ, আফরোজা আক্তার ডিউসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিঠা উৎসব চলবে। পাশাপাশি উৎসবস্থলের বটমুলে উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এতে বিভিন্ন শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন সময়ের সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা।আগামী রবিবার শেষ হবে এ অনুষ্ঠান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ