০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মুখে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী

বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বিপদে পড়বে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে, জাতিসংঘের এক মানবাধিকার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় রয়টার্স।  জাতিসংঘের জেনেভা অফিস থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের মধ্যবর্তী সময়ে বর্ষাকাল শুরু হলে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকবে এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র আন্দ্রেই মাহেসিচ এক প্রেস বিবৃতিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া যেমন ঘূর্ণিঝড় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ভূমিধ্বস এবং বন্যার ঝুঁকিতে আছেন অন্তত এক লাখ মানুষ এবং তাদেরকে নতুন এলাকায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন।’

প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কুতুপালং-বালুখালি ক্যাম্পে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই এলাকার অনেক বড় একটি অংশ মানব বসবাসের উপযুক্ত নয়। বন্যা এবং পাহাড়ধ্বসের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে অপ্রতুল জায়গায় এত মানুষ অবস্থানের কারণে। এতে আরও বলা হয়, আসন্ন বর্ষাকালে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠবে। এই ক্যাম্পের অন্তত এক তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে।

রয়টার্স থেকে আরও জানা যায়, একটি প্রকৌশলী প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় এই ক্যাম্পের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে বর্ষাকালে।

বাংলাদেশ সরকার উখিয়ায় আরও ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে স্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্প তৈরির জন্য। কুতুপালং-বালুখালি ক্যাম্পের সবচাইতে শোচনীয় অবস্থায় থাকা শরণার্থীদের সরিয়ে নেবারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্থানাভাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অসুখও ছড়াচ্ছে শরণার্থীদের মাঝে। টিকাদান কর্মসূচীর ফলে কলেরা মহামারী ঠেকানো গেলেও, চার হাজার শিশুর মাঝে ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এদের মাঝে ৩৫জন মারা গেছে, জানায় রয়টার্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ডিপথেরিয়ায় টিকা দেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি শিশুকে। সম্প্রতি আরো একটি ডোজ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে।

তবে নতুন আরেকটি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে, আর তা হলো মাম্পস। জাতিসংঘের রিপোর্টটিতে জানা যায়, বিগত কয়েক সপ্তাহে মাম্পসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এই রোগের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কখনোই টিকা গ্রহণ করেনি। মাম্পস সাধারণত মৃত্যুর কারণ হয় না কিন্তু তা মেনিনজাইটিসের মত রোগ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে কক্সবাজার এলাকায় নয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। গেল বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৭২ হাজার মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ। এসব ক্যাম্পের ত্রাণকর্মীরা জানান, এত শরণার্থীর জন্য এসব ক্যাম্প আসলেই অপ্রতুল। সূত্র: Reuters, UN

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকির মুখে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী

প্রকাশিত : ০৭:০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বিপদে পড়বে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে, জাতিসংঘের এক মানবাধিকার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় রয়টার্স।  জাতিসংঘের জেনেভা অফিস থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের মধ্যবর্তী সময়ে বর্ষাকাল শুরু হলে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকবে এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র আন্দ্রেই মাহেসিচ এক প্রেস বিবৃতিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া যেমন ঘূর্ণিঝড় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ভূমিধ্বস এবং বন্যার ঝুঁকিতে আছেন অন্তত এক লাখ মানুষ এবং তাদেরকে নতুন এলাকায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন।’

প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কুতুপালং-বালুখালি ক্যাম্পে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই এলাকার অনেক বড় একটি অংশ মানব বসবাসের উপযুক্ত নয়। বন্যা এবং পাহাড়ধ্বসের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে অপ্রতুল জায়গায় এত মানুষ অবস্থানের কারণে। এতে আরও বলা হয়, আসন্ন বর্ষাকালে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠবে। এই ক্যাম্পের অন্তত এক তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে।

রয়টার্স থেকে আরও জানা যায়, একটি প্রকৌশলী প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় এই ক্যাম্পের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে বর্ষাকালে।

বাংলাদেশ সরকার উখিয়ায় আরও ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে স্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্প তৈরির জন্য। কুতুপালং-বালুখালি ক্যাম্পের সবচাইতে শোচনীয় অবস্থায় থাকা শরণার্থীদের সরিয়ে নেবারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্থানাভাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অসুখও ছড়াচ্ছে শরণার্থীদের মাঝে। টিকাদান কর্মসূচীর ফলে কলেরা মহামারী ঠেকানো গেলেও, চার হাজার শিশুর মাঝে ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এদের মাঝে ৩৫জন মারা গেছে, জানায় রয়টার্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ডিপথেরিয়ায় টিকা দেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি শিশুকে। সম্প্রতি আরো একটি ডোজ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে।

তবে নতুন আরেকটি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে, আর তা হলো মাম্পস। জাতিসংঘের রিপোর্টটিতে জানা যায়, বিগত কয়েক সপ্তাহে মাম্পসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এই রোগের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কখনোই টিকা গ্রহণ করেনি। মাম্পস সাধারণত মৃত্যুর কারণ হয় না কিন্তু তা মেনিনজাইটিসের মত রোগ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে কক্সবাজার এলাকায় নয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। গেল বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৭২ হাজার মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ। এসব ক্যাম্পের ত্রাণকর্মীরা জানান, এত শরণার্থীর জন্য এসব ক্যাম্প আসলেই অপ্রতুল। সূত্র: Reuters, UN