০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের জামিন

ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার মামলায় বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর ব্রাঞ্চের শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আলীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, শান্তিনগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে করা ১৩টি মামলার ১টিতে জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুদকের করা ১৫টি মামলার সাতটিতে এফআইআরভুক্ত আসামি মুহাম্মদ আলী। দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ৪৫শ’ কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখার নানা অনিয়ম’ শিরোনামে খবর প্রকাশ পায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দুই বছরে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখা চার হাজার ২৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। এই ঋণের বড় অংশই দেয়া হয়েছে কোনো নিয়মকানুন না মেনে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বেসিক ব্যাংক। শাখাগুলোর মধ্যে গুলশান শাখার দেয়া ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৮০০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, শান্তিনগর শাখা এক হাজার ৫২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং দিলকুশা শাখা দিয়েছে ৯২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই তিন শাখায় অতি দ্রুততার সঙ্গে ঋণ ছাড় করা হয়। ঋণের বিপরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জামানতও রাখেনি কর্তৃপক্ষ। বরং তালিকার বাইরের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এসব জামানতের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে বেশি করে ঋণ পাওয়া যায়। ব্যবস্থা নিতে এই তিন শাখার নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন গত ২৫ জুলাই দুদকের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ব্যাংকটির উপর বিস্তারিত পরিদর্শন চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ এবং পরে অর্থ আদায়ে উদাসীনতার কারণে ব্যাংকের প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে সরাসরি বেসিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত। আবার এসব ঋণ নিয়ে তারা সদ্ব্যবহার করেনি বলেও প্রমাণ পেয়েছে পরিদর্শক দল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

“বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যই বাংলাদেশের শক্তি” :উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের জামিন

প্রকাশিত : ১২:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনার মামলায় বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর ব্রাঞ্চের শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আলীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার গোলাম সারোয়ার। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, শান্তিনগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে করা ১৩টি মামলার ১টিতে জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুদকের করা ১৫টি মামলার সাতটিতে এফআইআরভুক্ত আসামি মুহাম্মদ আলী। দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ৪৫শ’ কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখার নানা অনিয়ম’ শিরোনামে খবর প্রকাশ পায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দুই বছরে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখা চার হাজার ২৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। এই ঋণের বড় অংশই দেয়া হয়েছে কোনো নিয়মকানুন না মেনে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বেসিক ব্যাংক। শাখাগুলোর মধ্যে গুলশান শাখার দেয়া ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৮০০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, শান্তিনগর শাখা এক হাজার ৫২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং দিলকুশা শাখা দিয়েছে ৯২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই তিন শাখায় অতি দ্রুততার সঙ্গে ঋণ ছাড় করা হয়। ঋণের বিপরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জামানতও রাখেনি কর্তৃপক্ষ। বরং তালিকার বাইরের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এসব জামানতের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে বেশি করে ঋণ পাওয়া যায়। ব্যবস্থা নিতে এই তিন শাখার নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন গত ২৫ জুলাই দুদকের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ব্যাংকটির উপর বিস্তারিত পরিদর্শন চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ এবং পরে অর্থ আদায়ে উদাসীনতার কারণে ব্যাংকের প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে সরাসরি বেসিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত। আবার এসব ঋণ নিয়ে তারা সদ্ব্যবহার করেনি বলেও প্রমাণ পেয়েছে পরিদর্শক দল।