১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

যৌক্তিক হচ্ছে সুদহার

  • এ. আর আকাশ
  • প্রকাশিত : ১২:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১
  • 65

নিম্ন আয়ের মানুষকে এনজিও ঋণের অযৌক্তিক সুদহার থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যৌক্তিক সুদহার বেঁধে দিতে নিয়েছে কার্যকরি উদ্যোগ। এজন্য ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ)। ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে গত এক বছর যাবৎ। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার এখনো ১৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়ি ও সম্পদ হারানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ। এমনি পরিস্থিতিতে এনজিও ঋণের সুদহার কমানো হচ্ছে। গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। শুধু ক্রেডিট কার্ড ছাড়া আর প্রায় সব ঋণের গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে কম সুদে বিনিয়োগ পাচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ের ব্যয় কমে গেছে। কিন্তু একই উদ্যোক্তা যখন এমআরএ লাইসেন্স প্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন, তখন প্রতি ১০০ টাকার জন্য ব্যয় করছেন ১৮ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন ব্যবসা-ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি একই বাজারে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকেই ব্যবসায়ে লোকসান গুনছেন। এমনি পরিস্থিতিতে এনজিও ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমআরএ থেকে। জানা গেছে, এমআরএর নিবন্ধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ৮০০ প্রতিষ্ঠান বা এনজিও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে ২০২টি প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে অর্থায়ন পায়। ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কমেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। বাকি ৬০০ প্রতিষ্ঠানের সুদের হার এমআরএ ২৪ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে। এনজিও ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে এমআরএ থেকে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমআরএর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো: সফিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নকারী সংস্থা পিকেএসএফ, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরামসহ (সিডিএফ) কয়েকটি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান এতে সদস্য হিসেবে রয়েছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে এমআরএ। অচিরেই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের তুলনায় ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার অনেক বেশি। এ খাতেও সুদের হার কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী উদ্যোগ চলছে। এতে সুদের হার কিছুটা কমেছে। তবে আরো কমাতে হবে। সুদের হার না কমাতে এ খাতের ঋণ গ্রহীতারা ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে সুদের হার কমানো হবে। এ দিকে ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে আপত্তি করা হচ্ছে। তারা বলছে, সুদের হার কমানো হলে আয় কমে যাবে। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। অন্য দিকে এমআরএর একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষুদ্রঋণ খাতে খেলাপির হার খুবই কম। ফলে সুদের হার কমালে কোনো ঝুঁকি আসবে না। উল্লেখ্য, করোনার সময়ে ক্ষুদ্রঋণ খাতে বিতরণের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তহবিল থেকে মাঠ পর্যায়ে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এর আলোকে এনজিও খাতেও কিভাবে ঋণের সুদের হার কমানো যায় সে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনীয় কম সুদের একটি তহবিল গঠন করে তা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে তহবিল জোগান দেয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

যৌক্তিক হচ্ছে সুদহার

প্রকাশিত : ১২:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

নিম্ন আয়ের মানুষকে এনজিও ঋণের অযৌক্তিক সুদহার থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যৌক্তিক সুদহার বেঁধে দিতে নিয়েছে কার্যকরি উদ্যোগ। এজন্য ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ)। ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে গত এক বছর যাবৎ। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার এখনো ১৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়ি ও সম্পদ হারানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ। এমনি পরিস্থিতিতে এনজিও ঋণের সুদহার কমানো হচ্ছে। গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। শুধু ক্রেডিট কার্ড ছাড়া আর প্রায় সব ঋণের গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে কম সুদে বিনিয়োগ পাচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ের ব্যয় কমে গেছে। কিন্তু একই উদ্যোক্তা যখন এমআরএ লাইসেন্স প্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন, তখন প্রতি ১০০ টাকার জন্য ব্যয় করছেন ১৮ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন ব্যবসা-ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি একই বাজারে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকেই ব্যবসায়ে লোকসান গুনছেন। এমনি পরিস্থিতিতে এনজিও ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমআরএ থেকে। জানা গেছে, এমআরএর নিবন্ধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ৮০০ প্রতিষ্ঠান বা এনজিও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে ২০২টি প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে অর্থায়ন পায়। ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কমেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। বাকি ৬০০ প্রতিষ্ঠানের সুদের হার এমআরএ ২৪ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে। এনজিও ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে এমআরএ থেকে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমআরএর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো: সফিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নকারী সংস্থা পিকেএসএফ, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরামসহ (সিডিএফ) কয়েকটি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান এতে সদস্য হিসেবে রয়েছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে এমআরএ। অচিরেই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের তুলনায় ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার অনেক বেশি। এ খাতেও সুদের হার কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী উদ্যোগ চলছে। এতে সুদের হার কিছুটা কমেছে। তবে আরো কমাতে হবে। সুদের হার না কমাতে এ খাতের ঋণ গ্রহীতারা ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে সুদের হার কমানো হবে। এ দিকে ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে আপত্তি করা হচ্ছে। তারা বলছে, সুদের হার কমানো হলে আয় কমে যাবে। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। অন্য দিকে এমআরএর একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষুদ্রঋণ খাতে খেলাপির হার খুবই কম। ফলে সুদের হার কমালে কোনো ঝুঁকি আসবে না। উল্লেখ্য, করোনার সময়ে ক্ষুদ্রঋণ খাতে বিতরণের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তহবিল থেকে মাঠ পর্যায়ে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এর আলোকে এনজিও খাতেও কিভাবে ঋণের সুদের হার কমানো যায় সে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনীয় কম সুদের একটি তহবিল গঠন করে তা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে তহবিল জোগান দেয়া হবে।