১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শক্তিশালী হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটকে শক্তিশালী করতে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬০টি স্থানে ডুবুরি ইউনিট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সংগ্রহ করা হবে আধুনিক সরঞ্জাম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) তৃতীয় সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে কার্যবিবরণী পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পিআইসির সভায় অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জমির সংস্থান না হওয়ায় স্যালভেজ ফায়ার ফাইটিং টাগটি স্থাপন করা যাচ্ছে না। এটির ব্যয় ছিল মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ। এটি কেনার প্রস্তাব বাদ দেওয়ায় সাশ্রয় হওয়া বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে ইউনিট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফলে এই সেবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য নো কস্ট এক্সটেনশন করতে হবে। কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নতুন যেসব ডুবুরি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে সেগুলো হলো, সিদ্দিক বাজার, সদরঘাট, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কাঞ্চন, শ্রীনগর, কমলাঘাট, গজারিয়া, পলাশ এবং আরিচা ঘাট। এছাড়া ভুয়াপুর, মিঠামাইন, ভৈরব, গোয়ালন্দ, জাজিরা, টুঙ্গীপাড়া, টেকেরহাট, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, মোহনগঞ্জ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিরা, আনোয়ারা, সন্দীপ, কক্সবাজার, মহেশখালী, চাঁদপুর, মেঘনা, হাতিয়া, লক্ষীপুর, রামগতি, রাঙ্গামাটি, লংগদু, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বেড়া, বাঘাবাড়ি, লালপুর, খুলনা, মোংলা, ভেড়ামারা, মাগুরা, বরিশাল, মেহেন্দীগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, মনপুরা, রংপুর এবং সিলেট। আরও কয়েকটি ইউনিট হচ্ছে, জৈন্তাপুর, সুনামগঞ্জ, দিরাই, দোয়ারাবাজার, লাখাই, মৌলভীবাজার, গাইবান্দা এবং কুড়িগ্রাম ইউনিট। পিইসির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, ডিপিপিতে সংস্থান করা স্যালভেজ ফায়ার ফাইটিং টাগটি স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে গত বছরের ৮ জুন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জানানো হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (এস্টেট বিভাগ) ওই বছরের ১৯ জুলাই জমি ও নদীমুখ ব্যবহার করার লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায়। পরবর্তীতে বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি বাদ দিতে হয়েছে। এর পরিবর্তে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের প্রয়োজন। প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যেই নৌ উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য আধুনিক সরঞ্জামের একটি তালিকা তৈরি করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালকের সভাপতিত্বে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় প্রকল্পের মেয়াদ এবং প্রকল্প এলাকা বর্ধিত করার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ করা নতুন সরঞ্জামাদিগুলো হচ্ছে, টোয়িং ভেহিক্যাল (পিকআপ টাইপ), মাইক্রোবাস, ফেইস মাস্ক/সুইমিং মাস্ক, বিসিডি সেট, রেগুলেটর সেট, কম্প্রেসার অ্যাডাপ্টার, ডাইভিং টুলস সেট, ওয়েট বেল্ট উইথ ওয়েট এবং ডাইভিং রিস্ট কম্পিউটার। এছাড়া এয়ার লিফটিং ব্যাগ উইথ হোজ পাইপ, মাস্ক ক্লিনিং ড্রপ, ডাইভং ফিনস, ডাইভিং নাইফ, ট্রাউজার ও জ্যাকেট সেট, শর্ট প্যান্ট, টি শার্ট, রেসকিউ রোপ, রেইনকোট, ডাইভিং শর্ট রোপ, ডেপথ গেজ, ডাইভার ইন্ডিকেটিং ল্যাম্প, ডাইভিং ইকুইপমেন্ট ব্যাগ, ডাইভিং রোকেল, রেসকিউ পোর্টেবল ট্রাইপড উইথ পুলি এবং পোর্টেবল স্লাইড স্ক্যানার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

শক্তিশালী হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট

প্রকাশিত : ১২:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটকে শক্তিশালী করতে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬০টি স্থানে ডুবুরি ইউনিট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সংগ্রহ করা হবে আধুনিক সরঞ্জাম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) তৃতীয় সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে কার্যবিবরণী পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পিআইসির সভায় অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জমির সংস্থান না হওয়ায় স্যালভেজ ফায়ার ফাইটিং টাগটি স্থাপন করা যাচ্ছে না। এটির ব্যয় ছিল মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ। এটি কেনার প্রস্তাব বাদ দেওয়ায় সাশ্রয় হওয়া বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে ইউনিট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফলে এই সেবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য নো কস্ট এক্সটেনশন করতে হবে। কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নতুন যেসব ডুবুরি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে সেগুলো হলো, সিদ্দিক বাজার, সদরঘাট, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কাঞ্চন, শ্রীনগর, কমলাঘাট, গজারিয়া, পলাশ এবং আরিচা ঘাট। এছাড়া ভুয়াপুর, মিঠামাইন, ভৈরব, গোয়ালন্দ, জাজিরা, টুঙ্গীপাড়া, টেকেরহাট, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, মোহনগঞ্জ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিরা, আনোয়ারা, সন্দীপ, কক্সবাজার, মহেশখালী, চাঁদপুর, মেঘনা, হাতিয়া, লক্ষীপুর, রামগতি, রাঙ্গামাটি, লংগদু, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বেড়া, বাঘাবাড়ি, লালপুর, খুলনা, মোংলা, ভেড়ামারা, মাগুরা, বরিশাল, মেহেন্দীগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, মনপুরা, রংপুর এবং সিলেট। আরও কয়েকটি ইউনিট হচ্ছে, জৈন্তাপুর, সুনামগঞ্জ, দিরাই, দোয়ারাবাজার, লাখাই, মৌলভীবাজার, গাইবান্দা এবং কুড়িগ্রাম ইউনিট। পিইসির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, ডিপিপিতে সংস্থান করা স্যালভেজ ফায়ার ফাইটিং টাগটি স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে গত বছরের ৮ জুন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জানানো হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (এস্টেট বিভাগ) ওই বছরের ১৯ জুলাই জমি ও নদীমুখ ব্যবহার করার লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায়। পরবর্তীতে বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি বাদ দিতে হয়েছে। এর পরিবর্তে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের প্রয়োজন। প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যেই নৌ উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য আধুনিক সরঞ্জামের একটি তালিকা তৈরি করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালকের সভাপতিত্বে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় প্রকল্পের মেয়াদ এবং প্রকল্প এলাকা বর্ধিত করার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ করা নতুন সরঞ্জামাদিগুলো হচ্ছে, টোয়িং ভেহিক্যাল (পিকআপ টাইপ), মাইক্রোবাস, ফেইস মাস্ক/সুইমিং মাস্ক, বিসিডি সেট, রেগুলেটর সেট, কম্প্রেসার অ্যাডাপ্টার, ডাইভিং টুলস সেট, ওয়েট বেল্ট উইথ ওয়েট এবং ডাইভিং রিস্ট কম্পিউটার। এছাড়া এয়ার লিফটিং ব্যাগ উইথ হোজ পাইপ, মাস্ক ক্লিনিং ড্রপ, ডাইভং ফিনস, ডাইভিং নাইফ, ট্রাউজার ও জ্যাকেট সেট, শর্ট প্যান্ট, টি শার্ট, রেসকিউ রোপ, রেইনকোট, ডাইভিং শর্ট রোপ, ডেপথ গেজ, ডাইভার ইন্ডিকেটিং ল্যাম্প, ডাইভিং ইকুইপমেন্ট ব্যাগ, ডাইভিং রোকেল, রেসকিউ পোর্টেবল ট্রাইপড উইথ পুলি এবং পোর্টেবল স্লাইড স্ক্যানার।