০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ভরসা ছিলেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা

করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের জীবন এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের হানার মাঝেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দেশের কৃষক সমাজ; অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পুরো সময়টাতেই মাঠে ছিলেন তারা। কৃষকদের সঙ্গে মাঠে-ময়দানে সমানভাবে সরব ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। দেশের এই নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের কারণেই করোনাযুদ্ধে সাফল্য দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। মহামারির মধ্যে কৃষক সমাজকে সাহস যুগিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি সহায়তা, যা বাস্তবায়ন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাঠ কর্মকর্তারা। যে কারণে খাদ্য সংকটে পড়েনি আঠের কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনার আঘাত সইতে হয়েছে শতাধিক গবেষক, বিজ্ঞানী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সর্বোপরি মাঠ আগলে রাখা কৃষককে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কেউ বেঁচে ফিরেছেন, কেউ আবার পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। করোনাকালে দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র অবহেলা করেননি তারা। বরং মাঠে থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে দিয়েছেন নেতৃত্ব। শ্রমিক সংকট থেকে শুরু করে নানা প্রতিবন্ধকতা সামলেছেন সফলভাবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদফতর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; মারা গেছেন ২২ জন।
করোনায় চারদিকে যখন বিষাদের আগুন তখন এই কৃষি কর্মকর্তারাই সবার আস্থায় পরিণত হন। করোনার বছরজুড়ে সর্বত্র যখন উৎপাদনের ঘাটতি, তখন কৃষিতে বাংলাদেশ দেখিয়েছে সফলতা। আগামী জুনে প্রায় ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এর পেছনের কারিগর কৃষক ও কৃষিকর্মীরা। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় মহামারির এ সময় বেশ সফলতার সঙ্গে সামলেছে দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সবচেয়ে বড় দফতর হলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ অধিদফতরের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। অধিদফতরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে প্রায় ৪৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ গেছে ১৩ জনের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৬ জন কৃষিবিজ্ঞানী ও কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামও দায়িত্বপালনরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ভরসা ছিলেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা

প্রকাশিত : ১২:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের জীবন এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের হানার মাঝেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দেশের কৃষক সমাজ; অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পুরো সময়টাতেই মাঠে ছিলেন তারা। কৃষকদের সঙ্গে মাঠে-ময়দানে সমানভাবে সরব ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। দেশের এই নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের কারণেই করোনাযুদ্ধে সাফল্য দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। মহামারির মধ্যে কৃষক সমাজকে সাহস যুগিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি সহায়তা, যা বাস্তবায়ন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাঠ কর্মকর্তারা। যে কারণে খাদ্য সংকটে পড়েনি আঠের কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনার আঘাত সইতে হয়েছে শতাধিক গবেষক, বিজ্ঞানী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সর্বোপরি মাঠ আগলে রাখা কৃষককে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কেউ বেঁচে ফিরেছেন, কেউ আবার পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। করোনাকালে দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র অবহেলা করেননি তারা। বরং মাঠে থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে দিয়েছেন নেতৃত্ব। শ্রমিক সংকট থেকে শুরু করে নানা প্রতিবন্ধকতা সামলেছেন সফলভাবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদফতর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; মারা গেছেন ২২ জন।
করোনায় চারদিকে যখন বিষাদের আগুন তখন এই কৃষি কর্মকর্তারাই সবার আস্থায় পরিণত হন। করোনার বছরজুড়ে সর্বত্র যখন উৎপাদনের ঘাটতি, তখন কৃষিতে বাংলাদেশ দেখিয়েছে সফলতা। আগামী জুনে প্রায় ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এর পেছনের কারিগর কৃষক ও কৃষিকর্মীরা। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় মহামারির এ সময় বেশ সফলতার সঙ্গে সামলেছে দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সবচেয়ে বড় দফতর হলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ অধিদফতরের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। অধিদফতরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে প্রায় ৪৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ গেছে ১৩ জনের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৬ জন কৃষিবিজ্ঞানী ও কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামও দায়িত্বপালনরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।