উত্তরজনপদের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক)। এই হাসপাতালের কিডনি বিভাগের চিকিৎসাসেবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত কিডনি রোগী বাড়লেও মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসার কার্যক্রম। পরিপূর্ণভাবে কাজ করে না ডায়ালাইজার মেশিন ও পানি শোধনাগার। ফলে কিডনি ওয়ার্ড ও ডায়ালাইসিস ইউনিট থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
হাসপাতালের কিডনি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডে ডায়ালাইজার মেশিন ২৫টি থাকলেও পুরোপুরি বিকল হয়ে রয়েছে ১৩টি। বাকি ১২টি মেশিন দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও মাঝে মধ্যে তাও বিকল হয়ে পড়ছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা। বিভাগে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পানি শোধনাগার) থাকলেও পরিপূর্ণভাবে কাজ করছে না একটিও। আর কিডনি রোগীদের জন্য একটি ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা মাত্র ২৫টি।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে কেবল কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯শ’৬২ জন রোগি। এরমধ্যে ডায়ালাইসিস রোগী ছিলেন ৫শ’৮৯ জন। এছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডের কিডনি রোগী ও বিভিন্ন প্যাকেজে ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যাও এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বছর জুড়েই কিডনি রোগীর এমন চাপ থাকে এই হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর থেকে ডায়ালাইসিস করতে আসা শফিকুল ইসলাম (৬০) জানান, সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পৌনে ৮টায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেও বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার ডায়ালাইসিস শুরু হয়নি। প্রতি সপ্তাহে দুবার করে তার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। রোগীর তুলনায় মেশিন কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেলে না সেবা। যদিও সুযোগ আসে তাহলে ৪ ঘণ্টার জায়গায় দুই-আড়াইঘন্টাতে ডায়ালাইসিস শেষ করতে হয়। আর সুযোগ না পেলে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, এই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানসহ অন্য স্টাফরা যথেষ্ট আন্তরিক হলেও পর্যাপ্ত মেশিন না থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই। গাইবান্ধা থেকে ডায়ালাইসিস নিতে আসা কাজী ফিরোজ (৩১) ও দিনাজপুরের হিলি থেকে আসা আব্দুল মান্নানও জানালেন এমন দুর্ভোগের কথা।
হাসপাতালের কিডনি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে ১৩০ জন (৬ মাস মেয়াদি) এবং কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে ১২/১৩ জন ও অন্যান্য ওয়ার্ডের ১৮/১৯ জন রোগী প্রতিদিন ডায়ালাইসিস করান। প্রায় অকার্যকর এসব মেশিন ও পানি শোধনাগার দিয়ে চলছে এমন কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম মোবাশ্বের আলম বলেন, ২০১২ সালে ১৫টি মেশিন নিয়ে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও ১০টি মেশিন সংযোজন করা হয়। ২৫টি মেশিনের মধ্যে ১২টি সচল থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর না। সামান্য ক্রুটি হলে তা বন্ধ হয়ে পড়ছে। মেশিন মেরামত করার জন্য সার্বক্ষণিক কোনো অভিজ্ঞ লোক নেই এখানে। তাদেরকে আনতে হলে ঢাকায় চিঠি লিখতে হয়। তারা এসে মেরামত করতে করতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগে। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।
তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে ক্রয়কৃত মেশিনের ওয়ারেন্টি ছিল এক থেকে দুই বছর। সেই মেশিন দিয়ে চলছে ৯ বছর। স্বভাবতই এসব মেশিন এখন অকার্যকর। এছাড়া সামান্য ক্রটিজনিত কারণে নষ্ট হয়ে থাকা মেশিনগুলো ঠিক করার জন্য যদি সার্বক্ষণিক লোক থাকতো তাহলে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম এতটা বিলম্বিত হতো না।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















