যমুনা নদী ড্রেজিং করে শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করলে ২০৪৪ সাল নাগাদ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ৩৬২ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা দেশী মুদ্রায় প্রায় ৩০.৭১ লাখ কোটি টাকা। এ প্লান বাস্তবায়ন করতে মাত্র ১৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যায় হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যমুনা উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর এক একটি পরিবার বছরপ্রতি ১২ শত ৫০ থেকে ২ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারবে। পুরো দেশের দারিদ্র হার ২৫ শতাংশ হলেও যমুনা তীরবর্তী জেলাগুলোতে তা ৩৭ শতাংশ। এ দারিদ্রতা কমিয়ে আনতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ‘সাপোর্ট টু ইমপ্লিমেন্টেশন অফ দ্যা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান’ বাস্তবায়ন কমিটির সভায় সম্প্রতি এসব বিষয় উঠে আসে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যমুনা নদীর রংপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২০৫ কিলোমিটার ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা বাড়ানো হবে। নদী শাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এলাকাটিকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার।
বিশ্ব ব্যাংক জানায়, বর্তমান যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকটের জন্য ৫০০ টনের বেশী ওজনবাহী নৌযান চলতে পারে না। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারত ও বাংলাদেশের বার্ষিক পন্য পরিবহণ তিন গুণ বেড়ে দাঁড়াবে ১.১৫ কোটি টনে যা বর্তমান ৩৫ লাখ টন মাত্র। যমুনা নদী নাব্যতা ফিরে পেলে নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলোতে ফসল উৎপাদন বেড়ে যাবে।
ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনা নদীর নাব্যতা বাড়ানো গেলে বিপুল পরিমাণ জমি পুনরোদ্ধার হবে। সেচের স্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই তীরে খাদ্য উৎপাদনও বাড়বে। পাশাপাশি সড়ক ও রেল পথের বিকল্প হিসেবে নৌ-পথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক যমুনার তীরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, ইকো-ট্যুরিজম, টাউনশিপ ও শিক্ষা হাব গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছে।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যমুনা রিভার ইকোনমিক করিডোর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রণয়ন করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ বাবদ ১.৩ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) থেকেও সহায়তা আশা করছে সরকার।
অর্থায়নের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়ে তৈরি করা একটি অবস্থানপত্রে বিশ্বব্যাংক বলেছে, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে নদীভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় বাড়বে ৩০ বিলিয়ন ডলার।
এ বিষয়ে জিইডির সদস্য ড. শামসুল আলম জানান, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী ও উপকূল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যাবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও নৌ-পথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নেও কাজ করা হবে।
তিনি জানান, প্রথম অবস্থায় এ প্রকল্পের জন্য যমুনার ২০৫ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। যমুনার এ অংশে নাব্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই তীরে পরিকল্পিত উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি জলপথের মাধ্যমে ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভূটান পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তা পাওয়া গেছে। এর আওতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস ছাড়াও বিশ্বব্যাংক, জাইকা, এডিবি, এআইআইবি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও দ্যা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন এর মতো বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাতা দেশ থেকে সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্থ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
যমুনায় অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের চিহ্নিত প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে নদী খনন ও ড্রেজিংয়ে। নদী শাসনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। ৫.৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে। এর বাইরে আরও ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বিভিন্ন অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে। সব মিলে ১৩.৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চাহিদা চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
যমুনা নদী কেন্দ্রীক বৃহৎ প্রকল্প
-
মামুন আল জাহিদ - প্রকাশিত : ১২:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১
- 84
ট্যাগ :
জনপ্রিয়





















