২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। ছিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক পেশ করার ৪২তম দিন। মামলার আসামী আরিফ হাসান সুমনের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন তার আইনজীবী এএসএম শাহজাহান।
এ আসামীর পক্ষে আরো যুক্তিতর্ক পেশ করছেন এডভোকেট মিজানুর রহমান। এ যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম মূলতবি করা হয়েছে। আগামী ১২, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় পলাতক আসামী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়ের, মুফতি সফিকুর রহমান, মো. ইকবাল, মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গির আলম বদর, রাতুল আহমদ বাবু, মহিবুল মোত্তাকিন, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মো. খলিল,
বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, আনিসুল মোরসালিন ও মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এ মামলায় আটক আসামী উজ্জল ওরফে রতন, মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভি, আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আসামী মাওলানা মো সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফরের পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।
মামলার সকল আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দ্বারা দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবী করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১ জানুয়ারি মামলার সব আসামীদের আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান।
তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। এতে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

























