বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) এলাকায় দখলকৃত ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা আগামী ৩ মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নদীর সিএস/আরএস জরিপ অনুসারে ঢাকার জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএর’র চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা করতে পুলিশের আইজি, ডিএমপি‘র কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালককে সহযোগিতা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জুন হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু রায়। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম। এর আগে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) এলাকায় নদীর জায়গা দখলকারীদের চিহ্নিত করার জন্য জরিপের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নদীর আদি চ্যানেলের সিএস/আরএস পর্চা অনুসারে জরিপ করে অবৈধ দখলকারীদের তালিকাসহ রিপোর্ট দাখিলের জন্য জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশনা অনুসারে জরিপের জন্য ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় এবং কয়েকমাস জরিপ কার্যক্রম শেষে নদীর জায়গা দখলকারীদের তালিকা এফিডেবিট আকারে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে-টিনশেড বাড়ি, চারতলা ভবন, একতলা ভবন, মাটি ভরাট, মসজিদের আংশিক স্থাপনাসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, সরকারি হাসপাতাল, ইন্ডাস্ট্রি, সুপার মার্কেট প্রভৃতি। প্রসঙ্গত, নদীর অবৈধ দখল বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য এইচআরপিবি ২০১৯ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ নদীর সীমানা জরিপ ও দখলকারীদের উচ্ছেদসহ ৯ দফা নির্দেশনা দেন। উক্ত রায় অনুসারে জরিপের সময় হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ ‘‘আদি চ্যানেল’’ জরিপের বাইরে রাখা হয়। সেই জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৭৪টি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে রেখেছে এবং রায় অনুসারে তা উচ্ছেদ/অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সেসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নতুন করে হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করে এইচআরপিবি।
১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
বুড়িগঙ্গার ৭৪ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত : ১২:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১
- 69
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















