হরতাল চলাকালে দেশের নানা এলাকায় সন্ত্রাসের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে নিজেদের দায় অস্বীকার করে অন্তর্ঘাত বলে দাবি করেছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তাদের দাবি, দাঁড়ি টুপি পরে ইচ্ছা করে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে যেন হেফাজতের ওপর এর দায় যায়। কিন্তু এর দায় তারা নেবে না। হরতাল চলাচালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতের সহিংসতার মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল ঢাকায় কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। রবিবার জুমার নামাজের পর ঢাকার পল্টন মোড়ে মিছিল করে ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিল শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ফয়সাল। হরতালে সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘দুই এক জায়গায় হয়ত বা কোথাও কিছু আছে। ৃ মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাঞ্জাবি, টুপি, দাড়ি এটা শুধু আমাদের ওলামা একরামদের না, জেনারেল শিক্ষিতরাও দাড়ি-টুপি রাখে। এই দাড়ি টুপি রেখে আমাদের ভেতরে এসে কেউ যদি সাবোটেজ করে, অকারেন্স ঘটায় এটার দায়ভার আমরা নিতে পারি না। কারণ হেফাজতের কঠোর নির্দেশনা শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে ঠিক থাকে। কোনোভাবেই আমরা অঘটন ঘটাব না।’গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি ও কার্যালয়ে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে, ভূমি অফিসে, আয়কর আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল হক ভূঁইয়ার কার্যালয়ে, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ও শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় আগুন দিয়েছে হেফাজত কর্মীরা। হরতালকারীরা ভাঙচুর করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়, ব্যাংক এশিয়া, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতায়ন এবং পরিবার ও পরিকল্পনা কার্যালয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন। শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমন্দিরেও যায় হামলাকারীরা। পূজা চলাকালে তারা মন্দিরের আসবাব ও প্রতীমা ভেঙে দেয়। কর্মকর্তা মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম জালাল উদ্দিনকে পেটানো হয়েছে। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা হয়েছে পুলিশের ওপর। কিশোরগঞ্জেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন তারা। নারায়ণগঞ্জে হামলা হয়েছে সাংবাদিকদের ওপর। ছবি তুলতে গেলেই ছিনিয়ে নেয়া হয় ক্যামেরা, মোবাইল ফোন। এসব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এসব ঘটনার ছবি এসেছে গণমাধ্যমে। প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। এরপরেও কীভাবে দায় অস্বীকার করেন? – এমন প্রশ্ন ছিল হেফাজত নেতার কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা তদন্ত করে দেখেন, ছবিগুলো দেখেন জিন্সের প্যান্ট পইরা, জিন্সের শার্ট পইরা তারা গাড়ি ভাঙচুর করছে, অগ্নিসংযোগ করছে। হেফাজতে এই ধরনের কোনো কর্মী নাই যে জিন্সের প্যান্ট পইরা, শার্ট পইরা এই কাজ করবে। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, কোথাও হেফাজতের কোনো কর্মী যানবাহনে কিংবা জনগণের কষ্ট হবে অথবা সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধা দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি আমাদের সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনগুলা সোচ্চার থাকবে। আমরা সেখানেও নির্দেশনা প্রদান করেছি যে, কোনোভাবেই আমরা তাদের সঙ্গে কোনো উশৃঙ্খল আচরণ করব না। ‘যদি আমাদের ওপর আঘাত আসে আমরা আঘাত নেব, দিব না। আলহামদুলিল্লাহ সেই নির্দেশ মোতাবেক সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে।’
০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
তাণ্ডবে দাঁড়ি টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত : ১২:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১
- 58
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















