০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি ব্যাংকে ভিড় থাকলেও বেসরকারি ব্যাংক ছিল ফাঁকা

coronavirus lockdown symbol. Coronavirus pandemic puts countries on lockdown

করোনা প্রতিরোধে সরকারঘোষিত ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন সোমবারে ঢিলেঢালাভাবে সম্পন্ন হয়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। এদিন সরকারি ব্যাংকগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ছিল অনেকটাই ফাকা। ব্যাংকগুলোতে সার্বিকভাবে লেনদেন হয়েছে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়া এবং কার্ডভিত্তিক কিংবা ইন্টারনেট লেনদেনের সুযোগ কম থাকায় এসব ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সেবায় এগিয়ে থাকায় এসব ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল কম।
সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের সঙ্গে সমন্বয় করে সোমবার থেকে সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে চালু রাখার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকরা লেনদেনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে লেনদেন ছাড়া ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম চলেছে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের উপস্থিত তুলনামূলক কম। কাউন্টারগুলোতে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে গ্রাহক কম দেখা গেছে। আবার অনেক ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধির কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে গ্রাহকরা বাইরেই লাইন ধরেন।
ব্যাংকে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেখা গেছে। মাস্ক ছাড়া কোনো গ্রাহককে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কোনো কোনো ব্যাংকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে মাপা হয় শরীরের তাপমাত্রা। করোনা মোকাবিলায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশ সতর্ক দেখা গেছে। মুখে মাস্ক ও কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরে অফিস করছেন। কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে মাইকিং করেও গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তবে, ব্যাংকের মধ্যে প্রবেশের পর দূরত্ব মেনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক গ্রাহকই ছিলেন উদাসীন।
সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন শুরুর পরই গ্রাহকদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। গ্রাহকরা জানান, মাসের শুরুতে নানা চাহিদা মেটাতে টাকা প্রয়োজন। এজন্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ব্যাংকে আসতে হয়েছে। তারা জানান, বাসাভাড়া দেয়া, মাসের বাজার, অন্যান্য বিল পরিশোধের জন্য টাকা দরকার।
অনেক গ্রাহক মনে করছেন লকডাউন আরও বাড়লে নগদ টাকা কোথায় পাবেন। এ শঙ্কায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও বিভিন্ন আমানত স্কিমের টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ বেশি।
তবে সরকারি ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বেশি থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক উপস্থিতি ছিল কম। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ব্যাংকে আসেননি। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা জানান, রবিবার লকডাউনের খবরে গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার অনেক চাপ ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল কম। টাকা তোলা ও জমা ছাড়া অন্য কোনো কাজে গ্রাহকরা তেমন আসেননি।
ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউনে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। অফিস চলবে ২টা পর্যন্ত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বগুড়ায় নির্বাচন পর্যবেক্ষন করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দল

সরকারি ব্যাংকে ভিড় থাকলেও বেসরকারি ব্যাংক ছিল ফাঁকা

প্রকাশিত : ১২:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল ২০২১

করোনা প্রতিরোধে সরকারঘোষিত ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন সোমবারে ঢিলেঢালাভাবে সম্পন্ন হয়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। এদিন সরকারি ব্যাংকগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ছিল অনেকটাই ফাকা। ব্যাংকগুলোতে সার্বিকভাবে লেনদেন হয়েছে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়া এবং কার্ডভিত্তিক কিংবা ইন্টারনেট লেনদেনের সুযোগ কম থাকায় এসব ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সেবায় এগিয়ে থাকায় এসব ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল কম।
সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের সঙ্গে সমন্বয় করে সোমবার থেকে সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে চালু রাখার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকরা লেনদেনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে লেনদেন ছাড়া ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম চলেছে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের উপস্থিত তুলনামূলক কম। কাউন্টারগুলোতে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে গ্রাহক কম দেখা গেছে। আবার অনেক ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধির কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে গ্রাহকরা বাইরেই লাইন ধরেন।
ব্যাংকে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেখা গেছে। মাস্ক ছাড়া কোনো গ্রাহককে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কোনো কোনো ব্যাংকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে মাপা হয় শরীরের তাপমাত্রা। করোনা মোকাবিলায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশ সতর্ক দেখা গেছে। মুখে মাস্ক ও কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরে অফিস করছেন। কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে মাইকিং করেও গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তবে, ব্যাংকের মধ্যে প্রবেশের পর দূরত্ব মেনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক গ্রাহকই ছিলেন উদাসীন।
সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন শুরুর পরই গ্রাহকদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। গ্রাহকরা জানান, মাসের শুরুতে নানা চাহিদা মেটাতে টাকা প্রয়োজন। এজন্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ব্যাংকে আসতে হয়েছে। তারা জানান, বাসাভাড়া দেয়া, মাসের বাজার, অন্যান্য বিল পরিশোধের জন্য টাকা দরকার।
অনেক গ্রাহক মনে করছেন লকডাউন আরও বাড়লে নগদ টাকা কোথায় পাবেন। এ শঙ্কায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও বিভিন্ন আমানত স্কিমের টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ বেশি।
তবে সরকারি ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বেশি থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক উপস্থিতি ছিল কম। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ব্যাংকে আসেননি। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা জানান, রবিবার লকডাউনের খবরে গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার অনেক চাপ ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল কম। টাকা তোলা ও জমা ছাড়া অন্য কোনো কাজে গ্রাহকরা তেমন আসেননি।
ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউনে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। অফিস চলবে ২টা পর্যন্ত।