করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় সাত দিনের যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তার সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগামী বৃহস্পতিবার নেওয়া হবে। সোমবার ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। ৮ এপ্রিল থেকে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়া মন্ত্রিসভা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উৎসব ভাতা প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা হারে বছরে ২টি উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা পাবেন।
ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
বিধিনিষেধের সময় বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেখি আমরা কী হয়। মানুষকে কো-অপারেট করতে হবে। আপনারা তো বার বার বলতেছেন। কিন্তু এখনও পুরোপুরি কো-অপারেশন। সবাই যদি মাস্ক ব্যবহার করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে তো অসুবিধা হওয়ার কথা না। এখন যে পরিস্থিতি আছে এই পরিস্থিতি থাকলে কি লকডাউন বাড়ানো হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখি, আমরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।
অফিসে কত শতাংশ জনবল উপস্থিত থাকবে, ৫০ শতাংশ নিয়ে চলবে কি না, সব মন্ত্রণালয় খোলা থাবে কি না- এসব প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা বলে দিয়েছি কমফোর্ট অনুযায়ী কমানোর জন্য। অফিস চালানোর জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু থাকবে।
রোজার সময় কি একই উপস্থিতি থাকবে- এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, দেখি আমরা পাঁচ থেকে সাত দিন পর কী অবস্থা হয়। বৃহস্পতিবার আমরা রিভিউ করবো। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এটিকে লকডাউন বলছে না, এটি কঠোর বিধিনিষেধ।
মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে ৫ হাজার ২২২ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পঙ্গুত্বের মাত্রাভেদে ৪টি (এ, বি, সি ও ডি) শ্রেণিতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা থেকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা, ৯৫২ জন মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা, ৫ হাজার ৮১৬ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদেরকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা এবং বছরে ১০ হাজার টাকা হারে ২টি উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা হারে, ৬৮ বীর উত্তম পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে, ১৭৫ বীর বিক্রম পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে এবং ৪২৬ বীর প্রতীক পরিবারকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ:
দেশে যাদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৮ এপ্রিল থেকে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে প্রথম ডোজের টিকা প্রয়োগ। আর ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রয়োগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করে দিয়েছেন ৮ তারিখ থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান শুরু হবে। টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আছে, সেটা আমাকে জানানো হয়েছে।’ জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।
৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হলেও প্রথম ডোজ দেয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউসে সোমবার সকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টিকা দেয়া হচ্ছে এবং হবে। আমরা হয়তো যেভাবে শুরু করছিলাম সেভাবে দেব না। তবে প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ হবে না। ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হবে।’ দেশে টিকার কোনো সংকট হবে না জানিয়ে ডিজি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বেঙ্মিকো বলেছে সময়মতো আমাদের টিকা দিতে পারবে।’




















